Logo

ধর্ম

আসুন অপচয় ও অপব্যয় বন্ধ করি

Icon

মীযান মুহাম্মদ হাসান

প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:৫৮

আসুন অপচয় ও অপব্যয় বন্ধ করি

ইসলাম আমাদেরকে যাবতীয় অপচয় ও অপব্যয় থেকে বিরত থাকতে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। এমনকি অর্থ সম্পদ প্রভৃতি যথাযথ হেফাজতের বিষয়েও নির্দেশনা এসেছে। আমরা যদি প্রয়োজনীয় সকল জিনিসের সঠিক মাত্রায় ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারি, তবে জনদুর্ভোগ ও ভোগান্তি অনেক কমে আসবে। রাষ্ট্রের সকল শ্রেণির মানুষ পাবে সঠিক ও মানসম্মত নাগরিক সেবা। 

অর্থসম্পদ ও প্রাচুর্য যেমন আমাদের নিত্য প্রয়োজন পূরণের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এমনিভাবে গ্যাস পানি বিদ্যুৎ কয়লাও আমাদের জনজীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।  এসবের সঠিক ব্যবহার ও সংরক্ষণ করাও আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। এজন্য অর্থ বা সম্পদ; চাই তা হোক কোনো খনিজ সম্পদ বা প্রাকৃতিক সম্পদ যথা— বিদ্যুৎ, গ্যাস, তেল কয়লা ইত্যাদি। এগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করাও আমাদেরই দায়িত্ব। আবার আমাদের প্রত্যেকের অর্জিত অর্থ সম্পদও আয় অনুপাতে খরচ করা জরুরি। নয়তো যে কোনো সময়ই আমরা নিঃস্ব, রিক্ত হস্ত বা দেউলিয়া হয়ে যেতে পারি। ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে আমাদের অনেক ব্যক্তি–প্রতিষ্ঠান। কখনওবা অপূরণীয় ক্ষতি হতে আমাদের রাষ্ট্রের! বিশেষ করে গ্যাস ও বিদ্যুতের অপব্যবহার ও অপচয় রাষ্ট্রের ক্ষতি বয়ে আনে। অর্থ নষ্ট করে। জনভোগান্তি বাড়িয়ে তোলে। গ্যাস বিদ্যুৎ সংকট দেখা দেয়। ফলে গণমানুষের কষ্ট বাড়ে। 

আমরা প্রত্যেকেই যদি আমাদের গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনকে সামনে রেখে সচেতনতা অবলম্বন করি। অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার রোধ করি। তবে অনেক গ্যাস সরবরাহ বাড়বে এবং সঞ্চয় হবে আমাদের অনেক বিদ্যুৎও। একইভাবে শহরে সাপ্লাই পানির ব্যবহারও সঠিকভাবে করা উচিত। বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও কর্মপ্রতিষ্ঠান এবং আবাসিক হোটেল বা মেসগুলোতে দেখা যায়, অপ্রয়োজনে অনেক বেশি ফ্যান লাইট চলছে। কিংবা জনশূন্য আবাসিক ভবনেও চলছে ফ্যান, জ্বলছে বিভিন্ন বাতি। এগুলো নিঃসন্দেহে অপচয়। যাতে ব্যক্তির অর্থ ও রাষ্ট্রের সম্পদ দুটোই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। 

শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও; গ্রামে প্রায়ই বিদ্যুতের দেখা মেলে খুব কমই। আমরা যদি প্রত্যেকেই বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতন হই। অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার রোধে সচেতনতা অবলম্বন করি, তবে আমাদের গ্রামে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়বে। গণমানুষের কষ্ট লাঘব হবে। একইভাবে গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আমরা যদি একটু আন্তরিক হতে চেষ্টা করি। তবে এই গ্যাস আমাদেরই গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য কাজে ব্যয় হবে। উৎপাদন বৃদ্ধিতে জ্বালানি হিসাবে শিল্প কারখানায় ব্যবহার হবে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বাড়বে। দেশের উন্নয়ন বৃদ্ধি পাবে।

অপচয় ও অপব্যয় রোধে আমাদেরকেই জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। পাড়া মহল্লায় সচেতনতা তৈরি করতে হবে। মসজিদের মিম্বরে, মাদরাসা, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচারণা চালাতে হবে। সমাজের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোও এ জাতীয় প্রচারণা চালাতে বিভিন্ন জনসমাগম এলাকায়- বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারেন।

সর্বোপরি নিজেরা অপচয় থেকে বিরত থাকতে হবে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই। -সুরা বনি ঈসরায়েল ২৭

পবিত্র কোরআনে আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত বিশেষ বান্দাদের আলোচনায় আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর তারা যখন ব্যয় করে, অপব্যয়ও করে না এবং কৃপণতাও করে না। আর এটা হয়ে থাকে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করে। – সুরা আল ফুরকান : ৬৭

এ আয়াতের সঠিক শিক্ষা হলো, প্রয়োজন অনুপাতে ব্যয় করা। কৃপণতা না করা। বরং এ দুয়ের মাঝে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা। আর এই হচ্ছে আল্লাহর বিশেষ বান্দাদের পরিচয় বা বৈশিষ্ট্য। 

একটি হাদিস লক্ষ করুন! যাতে পানাহার, দান সাদকা এবং পোশাকের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা এসেছে। যাতে অপচয় থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা ‘পানাহার করো, সাদকা করো। আর পোশাক পরিধান করো। যতক্ষণ তা অপচয় ও অহংকার সহ না হয়।’ -সুনানে ইবনে মাজাহ

অতএব, আসুন আমরা ব্যক্তিগত সম্পদ, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ হেফাজতে সচতেন হই। রাষ্ট্রীয় সম্পদ সঞ্চয় করে জনকল্যাণে ব্যয়ের সুযোগ করে দিই। অপচয় ও অপব্যয় বন্ধ করি। সম্ভাবনাময় ও সমৃদ্ধ আগামীর বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হই! 

লেখক : খতিব, ভবানীপুর মাইজপাড়া হক্কানি জামে মসজিদ, গাজীপুর

বিকেপি/এমএম

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর