Logo

ধর্ম

পাপ পরিহারের গুরুত্ব

Icon

মোহাম্মদ হাসিব উল্লাহ

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩:৩১

পাপ পরিহারের গুরুত্ব

মানবজীবনের মূল উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। এই লক্ষ্য অর্জনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে পাপ (গুনাহ)। পাপ মানুষের হৃদয়কে অন্ধকারাচ্ছন্ন ও ঈমান দুর্বল করে। তাই সফল মানুষ হতে হলে পাপ পরিহারের গুরুত্ব অপরিসীম। আর, ইসলামে পাপ হচ্ছে আল্লাহর আদেশ অমান্য করা ও প্রদত্ত সীমারেখা লঙ্ঘন করা। তাই আল্লাহ্ বলেছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।” (সূরা আল-বাকারা:১৯০)

কারণ, আল্লাহ তায়ালা মানুষকে দুটি পথ দেখিয়েছেন। অর্থাৎ সৎ ও অসৎ পথ। আল্লাহ্ বলেন, ‘আমি তাকে দুটি পথ দেখিয়েছি (সৎ ও অসৎ)।’ (আল-বালাদ:১০)

আর একজন মুসলিমের কর্তব্য হলো মন্দ পথ ত্যাগ করে সৎ ও আল্লাহভীরু পথে জীবনযাপন করা। কোরআনে আল্লাহ তায়ালা পাপ পরিহারের গুরুত্ব প্রসঙ্গে বলেন, "তোমরা যদি নিষিদ্ধ বড় গুনাহগুলো থেকে বিরত থাকো, আমি তোমাদের ছোট গুনাহসমূহ মাফ করে দেব।” (আন-নিসা:৩১)

তাই ছোট-বড় সকল গুনাহ তথা পাপ থেকে বিরত থাকা জরুরি। কারণ, গুনাহ হৃদয়কে কালো করে দেয়। আল্লাহ্ বলেন, “তাদের কৃতকর্ম তাদের হৃদয়ে মরিচা ধরিয়ে দিয়েছে।” (আল-মুতাফ্ফিফীন:১৪) অর্থাৎ, অবিরাম গুনাহ মানুষের অন্তরকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করে ফেলে। তখন মানুষ সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য হারিয়ে ফেলে।

আবার পাপ থেকে নিজেকে বিরত রাখাকে সফলতার চাবিকাঠি হিসেবে কোরআনে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ্ বলেন, “যে ব্যক্তি তার আত্মাকে পরিশুদ্ধ রাখে সে সফল; আর যে তা কলুষিত করে, সে ব্যর্থ।” (আশ-শামস:৯–১০)

অনুরুপ হাদিসেও পাপ পরিহারের গুরুত্ব সম্পর্কে নবী (সা:) এর বাণী লক্ষণীয়। যেমন হজরত জারীর (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী (সা.) কে বলতে শুনেছি, কোন ব্যক্তি এমন কোন জাতির মধ্যে বাস করছে যাদের মাঝে পাপাচার হচ্ছে, তারা এ পাপাচার প্রতিরোধে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও প্রতিরোধ করছে না, তাহলে মৃত্যুর পূর্বেই আল্লাহ তাদের চরম শাস্তি দিবেন। (আবু দাউদ: ৪৩৩৯)  

অনেকে কথায় বা কাজের ক্ষেত্রে মানুষকে গালি দেয়। যা সম্পূর্ণ পাপ কাজ। নবী (সা:) বলেনঃ “কোন মুসলিমকে গালি দেয়া ফাসিকী কাজ (জঘন্য পাপ) এবং কোন মুসলিমকে হত্যা করা কুফরি।” (বুখারীঃ ৭০৭৬)

পাশাপাশি, সমাজে সংঘটিত পাপ কাজের বিরুদ্ধে অবস্থান প্রসঙ্গে নবী (সা:) বলেন, “কেউ কোন অন্যায় হতে দেখলে, সে তা হাতের সাহায্যে দমন করতে সক্ষম হলে তা দ্বারা যেন প্রতিরোধ করে। যদি হাতের দ্বারা প্রতিরোধ করতে সক্ষম না হয়, তবে জিহ্বা দ্বারা। আর জিহ্বা দ্বারা প্রতিরোধ করতে সক্ষম না হয়, তবে অন্তর দ্বারা। তবে এটা দুর্বল ঈমানের স্তর।” (আবু দাউদ:৪৩৪০) 

গুনাহের কারণে জীবনে মানুষ নানা ক্ষতির সম্মুখীন হয়। যেমন আল্লাহ্ প্রদত্ত বরকত উঠে যায়, হৃদয় কঠিন হয়ে যায় ও আল্লাহভীতি কমে যায়, সৎপথ থেকে দূরে সরে যায়, সমাজে ফিতনা ছড়িয়ে পড়ে প্রভৃতি। আল্লাহ্ বলেন, “মানুষের কৃতকর্মের কারণে স্থলে ও জলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে।” (আর-রূম:৪১)

তাই পাপ থেকে বেঁচে থাকা জরুরি। পাপ থেকে বেঁচে  থাকতে তাকওয়া অর্জন করা আবশ্যক। আল্লাহ্ বলেন, “যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য পথ বের করে দেন।” (সূরা আত-তালাক: ২) তেমনি সৎ সঙ্গ গ্রহণ করা, পাপের কারণ থেকে দূরে থাকা, তওবা করা, নিয়মিত নামাজ ও জিকির করা। আল্লাহ্ বলেন, “নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও গুনাহ থেকে বিরত রাখে।” (আল-আনকাবূত:৪৫)

অতএব, সকল পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা আমাদের আবশ্যকীয় কর্ম। তবেই জান্নাতের পথ সুগম হবে। এতে আল্লাহ্ও খুশি হন। কোরআনে ইরশাহ হয়েছে, “অতএব, তোমরা আল্লাহর দিকে ফিরে এসো।” (আয-যারিয়াত:৫০) 

লেখক: তরুণ লেখক ও প্রাবন্ধিক

বিকেপি/এমএম

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর