স্বাধীন বাংলাদেশে যে সকল আলেম সংসদসদস্য হয়েছেন
মোহাম্মদ ইমাদ উদ্দীন
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:২৩
আলিমদের অতীত খুবই সমৃদ্ধ। আলিমগণ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ড ও জনকল্যাণ মূলক কাজে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। আলেম ওলামাদের বিশেষ একটি অংশ কালে কালে যেমন দ্বীন ইসলাম প্রচারের ভূমিকা পালন করেছেন। তেমনি রাজনীতি ও সমাজ ক্ষেত্রেও নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁরা রাজনৈতিক ও সামাজিক কাজকর্মকে ধর্মীয় দায়িত্ব মনে করেন এবং ধর্মীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি দেশের আইন প্রণয়ন, রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ ও শিক্ষা সংস্কৃতির বিকাশ সাধনেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সরাসরি ওলামা-মাশায়েখ প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত বা নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সংখ্যা খুবই সীমিত বা নেই বললেই চলে। বিগত সংসদ নির্বাচনে সাধারণত আলেম সমাজ থেকে এককভাবে কেউ সরাসরি নির্বাচিত হননি। আলেম সমাজের পক্ষে কাজ করার জন্য আলাদা কোনো "আলেম প্রতিনিধি" পদ সংসদে নেই, তবে বিভিন্ন ইসলামি দলের নেতারা স্বতন্ত্রভাবে বা জোটগতভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও নির্বাচিত হওয়ার সংখ্যা খুবই নগণ্য।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আলেম সংসদ সদস্য :
১। মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ, পাবনা, পূর্ব বাংলা এসেম্বলি- ১৯৫৪, পাকিস্তান গণ পরিষদ- ১৯৫৬, পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ- ১৯৭০, বাংলাদেশ গণ-পরিষদ-১৯৭২ ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ- ১৯৭৩
২। মাওলানা নুরুল ইসলাম, জামালপুর, ১৯৯৬-২০০০
৩। হাফেজ রুহুল আমীন মাদানী, ময়মনসিংহ -০৭, (১৯৯৬-২০১৮)
৪। ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভী, চট্টগ্রাম -১৫,(২০১৪ ও ২০১৮)
ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগের আলেম সংসদ সদস্য :
১। মাওলানা আবদুল রহীম, বাকেরগঞ্জ, ১৯৭৯
২। মাওলানা নুরুন্নবী সামদানী, যশোর, ১৯৭৯
৩। এ এস এম মোজাম্মেল হক, যশোর, ১৯৭৯
এটি মূলত ১৯৭৬ সালের ২৪ আগস্ট ডেমোক্রেটিক পার্টি, নেজামে ইসলাম পার্টি, খেলাফতে রব্বানী পার্টি এবং জামায়াতে ইসলামির সমর্থিত একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র আলেম সংসদ সদস্য :
১। মাওলানা আবদুল মান্নান, চাঁদপুর, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ- ১৯৭৯
২। মাওলানা আতাউর রহমান খান, কিশোরগঞ্জ -৩, (১৯৯১-১৯৯৬)
জাতীয় পার্টির আলেম সংসদ সদস্য :
১। মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস, যশোর, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ- ১৯৮৬ (তিনি প্রথমে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন পরে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন) ও ১৯৮৮
২। মাওলানা আবদুল মান্নান, চাঁদপুর, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ- ১৯৮৬
৩। অধ্যক্ষ মাওলানা মো. মতিউর রহমান, কুড়িগ্রাম, (২০০১-২০০৬)
ইসলামি ঐক্যজোট আলেম সংসদ সদস্য :
১। মাওলানা উবায়দুল হক, সিলেট, (১৯৯১-১৯৯৬)
২। মুফতি ফজলুল হক আমিনী, বি.বাড়িয়া, (২০০১-২০০৬)
৩। মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস, যশোর, (২০০১-২০০৬)
৪। মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, সুনামগঞ্জ, (২০০১-২০০৬) (উপ-নির্বাচন)
৫। মুফতি শহীদুল ইসলাম, নড়াইল, (২০০১-২০০৬) (উপ-নির্বাচন)
বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামির আলেম সংসদ সদস্য :
১। মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, পাবনা-১, (১৯৯১-১৯৯৬), (২০০১-২০০৬)
২। মাওলানা হাবিবুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা -২, (১৯৯১-১৯৯৬)
৩। মাওলানা মো. সাখওয়াত হোসেন, যশোর -৬, (১৯৯১-১৯৯৬)
৪। মুফতি মাওলানা আব্দুস সাত্তার, বাগেরহাট -৪, (১৯৯১-১৯৯৬)
৫। মাওলানা আজিজুর রহমান চৌধুরী, দিনাজপুর- ৬, (১৯৯১-১৯৯৬)
৬। মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান, বগুড়া- ২, (১৯৯১-১৯৯৬)
৭। মাওলানা নাছির উদ্দিন, নওগাঁ- ৪, (১৯৯১-১৯৯৬)
৮। মাওলানা আব বকর শেরকলী, (মরহুম) নাটোর- ৩, (১৯৯১-১৯৯৬)
৯। মাওলানা আবদুস সুবহান, পাবনা- ৫, (১৯৯১-১৯৯৬)
১০। অধ্যক্ষ শাহ মুহাম্মদ রহুল কুদ্দুস, খুলনা- ৬, (১৯৯১-১৯৯৬)
১১। মাওলানা এএসএম রিয়াসত আলী, (মরহুম) সাতক্ষীরা- ৩, (১৯৯১-১৯৯৬)
১২। মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী,পিরোজপুর -১, (১৯৯৬-২০০১), (২০০১-২০০৬)
১৩। মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম চট্টগ্রাম -১৫, (২০০৯-২০১৪)
১৪। মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, সিলেট -০৫, (২০০১-২০০৬)
স্বতন্ত্র:
মাওলানা মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী, সিলেট-৫ (২০২৪,০১ জানুয়ারী - ২০২৪,০৫ আগস্ট)।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার অধীনে দশম,একাদশ এবং দ্বাদশ তথা ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। আওয়ামী সরকার দিনের ভোট রাতে এবং ডামি নির্বাচন কারচুপির মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেন। সর্বশেষ নির্বাচন (ডামি নির্বাচন খ্যাত) যখন সকল রাজনৈতিক দল বয়কট করে তখন নির্বাচনকে বৈধতা দেয়ার জন্য দু'একটি ইসলামি দল সহ বেশ কয়েকজন আলেম সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। সেই সময়ে মাওলানা মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী বেশ সমালোচিত হন।
আগামী বাংলাদেশ বিনির্মানে সৎ ও যোগ্য ন্যায়পরায়ণ জনপ্রতিনিধির জন্য আলেম ওলামাদের সংসদসদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিকল্প নেই। ২৪শের বিপ্লবের পরবর্তী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হলে সংসদে উচ্চকক্ষ হবে। সেই উচ্চকক্ষে দলগুলোর ভোটের আনুপাতিক হারে সদস্য নেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে ইসলামি দলগুলো এমপি পদে বিজয়ী হতে না পারলে প্রাপ্ত ভোটের হিসাবে উচ্চকক্ষে বেশ কিছু আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এজন্য সরাসরি ভোটে বিজয়ী হওয়ার পাশাপাশি উচ্চকক্ষেও আলেমদের সংসদে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এটাকে সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে নেয়া বেশী প্রয়োজন।
লেখক: কলামিস্ট,সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মুসলমান ইতিহাস সমিতি।
বিকেপি/এমএম

