ভোট একটি আমানত। একজন ভোটার তার ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতা ও দায়িত্ব কাউকে অর্পণ করে। এটি যত্নসহকারে ব্যবহার করতে হবে, কারণ এ অমানতের মাধ্যমে সমাজে অন্যায় ও জুলুমের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। আল্লাহ তায়ালা বলেন- নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ দেন আমানত তার প্রাপকের কাছে পৌঁছে দিতে। (সূরা আন-নিসা: ৫৮) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- যখন আমানত নষ্ট করা হবে, তখন কিয়ামতের অপেক্ষা করো।
জিজ্ঞেস করা হলো, কীভাবে আমানত নষ্ট হবে? তিনি বললেন- “যখন অযোগ্য ব্যক্তির হাতে দায়িত্ব অর্পণ করা হবে। (সহিহ বুখারি: ৫৯)
অতএব জেনে-বুঝে অযোগ্য, দুর্নীতিগ্রস্ত বা জালিম প্রার্থীকে ভোট দেওয়া স্পষ্টতই আমানতের খিয়ানত। ভোটের মাধ্যমে একজন নাগরিক রাষ্ট্রের ক্ষমতা ও জনকল্যাণের দায়িত্ব প্রেরণ করছে। এটি যথাযথভাবে ব্যবহার করলে সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা হয়; অন্যথায় এটি দায়িত্বহীনতার সূচক।
ভোট হলো সাক্ষ্য প্রদান
ভোট দেওয়া এক অর্থে সাক্ষ্য প্রদান। একজন ভোটার কার্যত ঘোষণা দেন- এই ব্যক্তি নেতৃত্বের জন্য যোগ্য। এটি ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, বরং জনগণের কল্যাণকে প্রাধান্য দেয়ার একটি প্রক্রিয়া।কোরআনে ইরশাদ হয়েছে- তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না। যে তা গোপন করে, তার হৃদয় অবশ্যই গুনাহগার। (সূরা আল-বাকারা: ২৮৩) আরও বলা হয়েছে- “হে মুমিনগণ! আল্লাহর জন্য ন্যায়ের সাক্ষ্যদাতা হও। (সূরা আল-মায়েদা: ৮) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন- সবচেয়ে বড় গুনাহগুলোর একটি হলো মিথ্যা সাক্ষ্য। (সহিহ বুখারি: ২৬৫৪; সহিহ মুসলিম: ৮৭) অতএব অযোগ্য ব্যক্তিকে সমর্থন করা মিথ্যা সাক্ষ্যের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, যা একটি গুরুতর ধর্মীয় অপরাধ।
জালিম ও অন্যায়কারীদের সমর্থন হারাম
ইসলাম জুলুম ও অন্যায়কে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। যে ব্যক্তি জেনে-বুঝে জালিম বা দুর্নীতিবাজকে সমর্থন করে, সে সমাজে অন্যায়ের সুযোগ সৃষ্টি করে এবং ইসলামি নৈতিকতা লঙ্ঘন করে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা জালিমদের দিকে ঝুঁকো না, তাহলে আগুন তোমাদের স্পর্শ করবে।-(সূরা হুদ: ১১৩) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—যে ব্যক্তি কোনো জালিমকে সাহায্য করল, অথচ সে জানে সে জালিম- সে ইসলাম থেকে বিচ্ছিন্ন। (সুনান আল-কুবরা, বাইহাকি: ১৮৬৩৪) অতএব ভোটের মাধ্যমে জালিমকে ক্ষমতায় আনা স্পষ্টতই অন্যায়ে সহযোগিতা।
ভোটের জন্য ঘুষ দেওয়া হারাম
ভোট কেনাবেচা, ঘুষ গ্রহণ বা প্রভাব বিস্তার ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এটি ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের প্রতি বড় অন্তরায়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন- ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা- উভয়ের ওপরই আল্লাহর লানত। (সুনান আবু দাউদ: ৩৫৮০; তিরমিজি: ১৩৩৭) অতএব সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও ন্যায়ভিত্তিক ভোটদান নিশ্চিত করা ইসলামের নৈতিক দাবির মধ্যে পড়ে।
পরিশেষে বলতে চাই, সৎ উদ্দেশ্যে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা। পক্ষপাত, লোভ বা ভয়ের কারণে ভুল ভোট দেওয়া গুনাহের কারণ হতে পারে।
একজন ভোটারের দায়িত্ব হলো- সৎ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করা। জালিম ও দুর্নীতিবাজকে বর্জন করা। ঘুষ ও অন্যায় প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা। ভোটদান শুধুমাত্র অধিকার নয়, বরং একটি নৈতিক কর্তব্য।
লেখক: কলাম লেখক ও ধর্ম বিষয়ক প্রবন্ধকার, প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি
ইমেইল:drmazed96@gmail.com
বিকেপি/এমএম

