Logo

ধর্ম

ইসলামে লেখকদের কর্তব্য

Icon

মোখতারুল ইসলাম মিলন

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩:০৫

ইসলামে লেখকদের কর্তব্য

লেখক সমাজের এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তার কলমের মাধ্যমে তিনি মানুষের মন ও মননে প্রভাব ফেলতে পারেন, সমাজের দিকনির্দেশনা দিতে পারেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিন্তাধারা গঠনে ভূমিকা রাখতে পারেন। ইসলাম জ্ঞান ও লেখনীর প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব আরোপ করেছে এবং লেখকদের জন্য বিশেষ দায়িত্ব ও কর্তব্য নির্ধারণ করেছে।

ইসলামের দৃষ্টিতে লেখকের প্রথম ও প্রধান কর্তব্য হলো সত্য লেখা। একজন লেখক যা লিখবেন তা যেন সত্য, নির্ভুল এবং যাচাইকৃত তথ্যের উপর ভিত্তিশীল হয়। মিথ্যা, বানোয়াট বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমার নামে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা কথা বলবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।” এই হাদিসটি বিশেষভাবে জ্ঞান ও তথ্য প্রচারকারীদের জন্য একটি কঠোর সতর্কবাণী। লেখকরা যেহেতু তাদের লেখনীর মাধ্যমে বহু মানুষের কাছে পৌঁছান, তাই তাদের দায়িত্ব আরও বেশি।

* সমাজের কল্যাণ ও নৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখা। লেখনী এমন হওয়া উচিত যা মানুষকে সৎপথে পরিচালিত করে, তাদের মধ্যে ভালো গুণাবলী জাগ্রত করে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতন করে। কোরআন মাজিদে আল্লাহ তায়ালা বলেন- “তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ কর।” (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১১০) এই আয়াতটি প্রতিটি মুসলমানের জন্য প্রযোজ্য, তবে লেখকদের জন্য এটি আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ কারণ তাদের লেখা ব্যাপক মানুষের কাছে পৌঁছায়।

* জ্ঞানের সঠিক ব্যবহার করা। ইসলাম জ্ঞানকে আমানত হিসেবে গণ্য করে। একজন লেখক যে জ্ঞান অর্জন করেছেন, তা সঠিকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া তার দায়িত্ব। জ্ঞান গোপন করা বা ভুলভাবে উপস্থাপন করা গুরুতর অপরাধ। লেখকদের উচিত তাদের লেখনীর মাধ্যমে মানুষকে সঠিক পথ দেখানো, তাদের মধ্যে চিন্তাশক্তি জাগ্রত করা এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা যোগানো।

* দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতার সচেতনতা। একজন লেখক যা লিখছেন তার জন্য তিনি আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। যদি তার লেখনীর মাধ্যমে কেউ বিভ্রান্ত হয়, অন্যায় পথে পরিচালিত হয় বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে সেই পাপের ভাগীদার লেখক নিজেও হবেন। তাই প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি বাক্য লেখার আগে লেখকের উচিত চিন্তা করা যে এটি সমাজে কী প্রভাব ফেলবে।

* নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখা। অশ্লীলতা, অনৈতিকতা, হিংসা, বিদ্বেষ বা সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানো থেকে বিরত থাকা। ইসলাম পবিত্রতা ও শালীনতার উপর জোর দেয় এবং লেখকদের উচিত তাদের লেখনীতে এই মূল্যবোধ প্রতিফলিত করা। বিশেষত যুব সমাজ যেহেতু লেখনী দ্বারা সহজেই প্রভাবিত হয়, তাই লেখকদের দায়িত্ব আরও বেশি সতর্কতার সাথে লেখা।

* গবেষণা ও যাচাইয়ের মাধ্যমে লেখা। কোনো বিষয়ে না জেনে বা অর্ধসত্য তথ্যের ভিত্তিতে লেখা ইসলামে নিন্দনীয়। আল্লাহ তায়ালা কোরআনে বলেন যে যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই সে বিষয়ে কথা বলো না। তাই একজন লেখকের উচিত পর্যাপ্ত গবেষণা, অধ্যয়ন এবং যাচাই-বাছাই করে লেখা।

সর্বোপরি, ইসলাম লেখকদের একটি মহান দায়িত্বের অধিকারী মনে করে। লেখনী শুধু পেশা নয়, এটি একটি আমানত এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা। একজন সচেতন মুসলিম লেখকের উচিত তার কলমকে সত্যের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা, মানুষকে আলোর পথ দেখানো এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম বানানো। যদি লেখকরা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেন, তাহলে তারা শুধু দুনিয়াতেই নয়, আখিরাতেও পুরস্কৃত হবেন।

লেখক: শিক্ষার্থী, শরীফবাগ ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা, ধামরাই, ঢাকা, ১৩৫০

বিকেপি/ এমএম

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

ইসলাম ধর্ম

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর