Logo

ধর্ম

বরকত সিরিজ-৩

বরকতের চাবিসমূহ

Icon

উবাইদুল্লাহ তারানগরী

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩:২১

১. ঈমান:

সমস্ত বরকতের মালিক, আসমান জমিনের সমস্ত ভান্ডারের মালিক, মহান আল্লাহতায়ালা। তাই সেই বরকত ও ভান্ডার অর্জন করতে হলে মহান আল্লাহতায়ালার উপর ঈমান আনা জরুরি। আল্লাহতায়ালা খুশি হয়ে সন্তুষ্ট হয়ে ঈমানদারদের বরকত দান করেন। ঈমান আনয়ন হলো দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতার মূল চাবিকাঠি, যা আল্লাহতায়ালার ভালোবাসা, সন্তুষ্টি, শাস্তি সুখের জান্নাতলাভ এবং আখেরাতে চিরস্থায়ী মুক্তির পথ সুগম করে। এটি মোমিনের জীবনে হেদায়েত, মানসিক প্রশান্তি, আল্লাহর বন্ধুত্বের মর্যাদা, কঠিন বিপদে ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা এবং কবরের আজাব থেকে মুক্তির মত অশেষ বরকত ও কল্যাণ বয়ে আনে। মোমিন ও কাফেরের মাঝে প্রতিটি কাজেই রয়েছে পাতাল-আকাশ পার্থক্য। মোমিনের খাওয়া-দাওয়া, কথাবার্তা, ব্যক্তি, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক সবকিছুতেই রয়েছে অসামান্য বরকত। 

ঈমান আনয়নের প্রধান বরকত ও প্রাপ্তিসমূহ

আল্লাহর ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব লাভ। ঈমান আনয়নকারী আল্লাহর ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব লাভ করেন, যার ফলে তাদের কোনো ভয় বা দুশ্চিন্তা থাকে না। দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতা; ঈমানের বরকতে মানুষ দুনিয়া ও আখেরাতে প্রকৃত সফলতা ও কামিয়াবী অর্জন করে। হেদায়েত ও সুশৃঙ্খল জীবন;এটি মানুষকে সঠিক পথ প্রদর্শন করে এবং ঈমানদারদের জীবন সুশৃঙ্খল ও অপরাধমুক্ত করে।

জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি; ঈমান হলো আখেরাতে নাজাতের একমাত্র মাধ্যম। সুঁইয়ের ছিদ্র দিয়ে উট প্রবেশ করানো যেমন অসম্ভব ঈমান ছাড়া জান্নাতে যাওয়াও তেমন অসম্ভব। 

তাকদিরের প্রতি বিশ্বাসে শান্তি; ভাগ্যের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করার মাধ্যমে মোমিন জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতেও ধৈর্য ধারণ করে এবং মানসিক শান্তি লাভ করে। কবরের আজাব থেকে মুক্তি; মৃত্যুর পর কবরের ফিতনা ও আজাব থেকে ঈমান মানুষকে রক্ষা করে। 

সংক্ষেপে, ঈমান হলো মানুষের জীবনে কল্যাণ আনয়নকারী এবং অকল্যাণ থেকে রক্ষাকারী সবচেয়ে বড় সম্পদ । শ্রেষ্ঠ পাথেয়। প্রকৃত ঈমানদারের সবকিছুই হয় বরকতময়। ঈমানদারের জন্য আল্লাহতায়ালা আসমান জমিনের সমস্ত ভান্ডারের দরজা খুলে দেন। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেন, ‘যদি জনপদবাসী ঈমান আনে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে তাহলে অবশ্যই আমি আসমান ও জমিন থেকে বরকতসমূহ তাদের ওপর খুলে দেব।’ (সূরা আরাফ, আয়াত; ৯৬)। 

২. তাকওয়া:

তাকওয়া অত্যন্ত ব্যাপক বিষয়। তাকওয়ার ভেতরে পুরো দিন চলে আসে। পুরো ইসলাম চলে আসে। সব পূণ্য অর্জনের তাওফিক হয়। গুনাহ বর্জনের সৌভাগ্য হয়। তাকওয়া অবলম্বন করলে আল্লাহতায়ালা মানুষের জীবনে বরকত দান করেন। এটা আল্লাহতায়ালার ওয়াদা। সব নবী ও রাসুলই জাতিকে তাকওয়ার দাওয়াত দিয়েছেন। যা কোরআনে হাকিমে সুস্পষ্ট বর্ণিত হয়েছে। তাকওয়ার পরিচয় কি? হজরত আলি (রা.) কে তাকওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন; চার জিনিসের নাম তাকওয়া। 

এক. আল্লাহকে ভয় করা।

দুই. কোরআন অনুযায়ী আমল করা।

তিন. অল্প তুষ্টির গুণ অর্জন করা।

চার. আখেরাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) হযরত উবাই ইবনে কা’ব (রা.) কে তাকওয়ার ব্যাখ্যা দিতে অনুরোধ করলে তিনি জবাবে বলেন, আমীরুল মোমিনীন! আপনি কি কখনো কাঁটাঘেরা পথ অতিক্রম করেছেন? ওমর (রা.) উত্তরে বললেন হ্যাঁ। উবাই ইবনে কাব (রা.) তারপর জিজ্ঞেস করলেন তখন আপনি কী করেছেন? ওমর (রা.) বললেন আমি খুব সতর্কতার সাথে সে পথ অতিক্রম করে চলে এসেছি। হজরত উবাই ইবনে কা'ব (রা.) বললেন, একেই বলা হয় তাকওয়া।

 আসলে সমাজকে অপরাধমুক্ত করতে হলে, একটি সুস্থ সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে, এ তাকওয়ার কোন বিকল্প নাই। যেখানে অনুপস্থিত স্যাটেলাইটের তীক্ষè দৃষ্টি, অসহায় সিসি ক্যামেরা, সেখানে তাকওয়া বা খোদাভীতিই একমাত্র পাথেয়। বিশ্বস্ত অবলম্বন, শেষ আশ্রয়। একজন মানুষকে অপরাধ থেকে বিরত রাখতে। তাকওয়া এমন এক ট্যাবলেট ও মেডিসিন যার সেবনে মানুষ সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত হতে পারে। শ্রেষ্ঠ মর্যাদার অধিকারী হতে পারে। আল্লাহতায়ালা বলেন, নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মর্যাদাবান আল্লাহর কাছে যে তাকওয়াবান। সামনে আসন্ন পবিত্র মাহে রমজান সেই তাকওয়া অর্জনের পাঠশালা। 

লেখক: মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইবনে আব্বাস (রা.) সামান্তপুর, জয়দেবপুর গাজীপুর সিটি। 

বিকেপি/এমএম

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

ইসলাম ধর্ম

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর