Logo

ধর্ম

মাহে রমজানের প্রথম জুমা

রহমত, বরকত ও ফজিলতের অধ্যায়

Icon

ডা.মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩:১৭

রহমত, বরকত ও ফজিলতের অধ্যায়

ইসলামি ক্যালেন্ডারে মাহে রমজান আল্লাহর রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এটি শুধুমাত্র ইবাদতের মাস নয়, বরং মুসলিম জীবনের আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া বৃদ্ধির সুবর্ণ সুযোগ। বিশেষভাবে মাহে রমজানের প্রথম জুমা মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আল্লাহর নিকট নৈকট্য ও নেক আমল বাড়ানোর এক অনন্য মুহূর্ত।

মাহে রমজান ও জুমার গুরুত্ব

কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন; ‘যে বিশ্বাস করেছেন, রোজা আপনাদের উপর ফরজ করা হয়েছে, যেমন পূর্বের লোকদের উপর ফরজ করা হয়েছিল। হয়তো তোমরা তাকওয়া অর্জন করবে।’ (সূরা বাকারাহ: ১৮৩) এখান থেকে বোঝা যায়, রোজা শুধু খাদ্য ও পানির ত্যাগ নয়; এটি আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের মাধ্যম। মাহে রমজানের প্রথম জুমা সেই আত্মশুদ্ধির প্রথম সোপান।

হাদিসে হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত: যে ব্যক্তি জুমার দিন গোটা দিন নামাজ, দোয়া ও কোরআনের পাঠে ব্যস্ত থাকে, আল্লাহ তাকে তার পূর্বের পাপ থেকে মুক্তি দেবেন।- (সহীহ মুসলিম:৮০০)

এটি নির্দেশ করে যে মাহে রমজানের প্রথম জুমা অন্য যেকোনো জুমার তুলনায় আরও বরকতময়।

প্রথম জুমার বিশেষ ফজিলত

মাহে রমজানের প্রথম জুমা একটি বিশেষ ফজিলত বহন করে। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে: জুমার দিন, বিশেষ করে মাহে রমজানে, নামাজ ও দোয়ায় ব্যস্ত মুসলমানদের জন্য আল্লাহ বিশেষ বরকত নাজিল করবেন।- (তিরমিজি, কিতাবুল জুমা:৫৮৩) ফজিলতের দিক থেকে দেখা যায়, প্রথম জুমার দিনে নেক আমল করা আল্লাহর নিকট প্রিয়।

এছাড়াও, এটি মুসলিম উম্মাহর মধ্যে একতা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে সহায়ক। হাদিসে আরও উল্লেখ আছে: জুমার দিন মসজিদে যাওয়া এবং আল্লাহর নামে দোয়া করা পূর্ববর্তী পাপ মাফ করে দেয়।-সহীহ বুখারি, হাদিস নং ৮৯৭

নামাজ, দোয়া ও কোরআনের পাঠ

মাহে রমজানের প্রথম জুমা কেবল জুমার ফরজ নামাজ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। এটি একটি পূর্ণ ইবাদতের দিন। হাদিসে উল্লেখ আছে, হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত: রোজাদার ব্যক্তি যে রাতে কোরআন পাঠ করবে এবং জুমার দিন নফল নামাজ আদায় করবে, আল্লাহ তাঁর জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে বিশেষ ফজিলত নির্ধারণ করবেন।- (সহীহ বুখারি; ১৯৪৭) সেজন্য, প্রথম জুমার দিন মুসলমানরা যথাসম্ভব বেশি কোরআন পাঠ, দোয়া ও নফল নামাজে ব্যস্ত থাকবেন।

প্রখ্যাত হাদিসেও এসেছে: যে ব্যক্তি জুমার দিনে সূরাত আল কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য আল্লাহ এক সপ্তাহের আলো তৈরি করবেন।

-(সহীহ মুসলিম:৪০৯) এটি নির্দেশ করে, যে কোনো মুসলিম যদি প্রথম জুমার দিনে সূরাত আল-কাহফ পড়ে, আল্লাহ তার জীবনকে নাজাত ও বরকতে ভরিয়ে দেবেন।

সামাজিক ও আত্মিক গুরুত্ব

জুমা শুধু ব্যক্তিগত ইবাদত নয়, সামাজিক সংহতির দিনও। মাহে রমজানের প্রথম জুমায় মুসলমানরা একত্রিত হয়ে মসজিদে নামাজ আদায় করে। এটি সামজিক সম্পর্ক দৃঢ় করে এবং উম্মাহর মধ্যে সৌহার্দ্য ও দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করে।

হাদিসে হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এসেছে: একটি জুমার দিনের নামাজের সমাবেশের তুলনা এক সাপ্তাহিক ইবাদতের সমান।- (তিরমিজি, কিতাবুল জুমা: ৬০১)

সেজন্য, মাহে রমজানের প্রথম জুমা মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি একত্রিত ইবাদতের উদাহরণ।

দোয়া ও তওবার সুযোগ

মাহে রমজানের প্রথম জুমা আল্লাহর নিকট দোয়া করার বিশেষ মুহূর্ত। হাদিসে হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত: যে ব্যক্তি জুমার দিনে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করবে এবং আল্লাহর কাছে তার গোপন দোয়া বলবে, আল্লাহ তা কবুল করবেন।- (সহীহ তিরমিজি: ৬০৫) এই হাদিস মুসলমানদের উৎসাহ দেয়, যে তারা তাদের দোয়া ও তওবার মাধ্যমে জীবনের সমস্ত নেক কাজ শুরু করতে পারে।

প্রথম জুমার শিক্ষা ও আমাদের দায়িত্ব

মাহে রমজানের প্রথম জুমা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রতিটি ইবাদত আল্লাহর নিকট প্রিয় হতে পারে। নামাজ, কোরআন পাঠ এবং দোয়া আমাদের আত্মিক উন্নতি ও পাপ মুক্তি দেয়। সামাজিক সংহতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির মাধ্যমে উম্মাহ শক্তিশালী হয়। অতএব, প্রথম জুমা শুধু একটি ধর্মীয় কার্যক্রম নয়, বরং মুসলিম জীবনের নৈতিক ও আত্মিক ভিত্তি গড়ে তোলার সুযোগ।

পরিশেষে বলতে চাই, মাহে রমজানের প্রথম জুমা মুসলমানদের জন্য বিশেষ ফজিলত, বরকত ও রহমতের দিন। কোরআন ও হাদিসের রেফারেন্স অনুযায়ী, এই দিনে নামাজ, কোরআন পাঠ, নফল ইবাদত ও দোয়ায় ব্যস্ত থাকা আল্লাহর কাছে প্রিয়। এছাড়াও, এটি সামাজিক সংহতি, সৌহার্দ্য এবং আত্মশুদ্ধির এক অপূর্ব সুযোগ।

মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে মাহে রমজানের প্রথম জুমার বিশেষ ফজিলত লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক: কলাম লেখক ও গবেষক 

প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, জাতীয় ইসলামি গবেষণা সেন্টার  

ইমেইল:-drmazed96@gmail.com

বিকেপি/এমএম

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

ইসলাম ধর্ম

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর