আত্মশুদ্ধি, সংযম ও তাকওয়া অর্জনের এক অনন্য সুযোগ নিয়ে আসে পবিত্র রমজান মাস। রোজা কেবল উপবাস থাকা বা খাদ্য ও পানীয় থেকে বিরত থাকার নাম নয়; এটি আত্মনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে চরিত্র গঠনের এক অন্যতম মাধ্যম। রোজার শিক্ষা মানুষকে আত্মসংযম ও তাকওয়ার পথে পরিচালিত করে।
পবিত্র কোরআনুল কারিমে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার’ (সুরা আল-বাকারা-১৮৩)।
আয়াতে রোজার মূল উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা হয়েছে- তাকওয়া ও আত্মসংযম অর্জন। রোজা মানুষকে তার প্রবৃত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়। ক্ষুধা ও তৃষ্ণার কষ্ট মানুষকে দরিদ্র ও অসহায়দের দুঃখ অনুভব করতে সহায়তা করে। ফলে সমাজে সহমর্মিতা ও দানশীলতার মনোভাব গড়ে ওঠে। যা একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রোজায় কথাবার্তা ও আচরণেও সংযম থাকা অপরিহার্য। মহানবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মিথ্যা আচরণ পরিত্যাগ না করে, তার পানাহার ত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৯০৩)
এই হাদিসে স্পষ্টতই বার্তা বহন করে, রোজার অন্যতম শিক্ষা হলো নৈতিক চরিত্র গঠন। যদি রোজা মানুষকে মিথ্যা, প্রতারণা ও অন্যায় থেকে বিরত রাখতে না পারে, তবে রোজার শিক্ষা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
অন্যত্র মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘রোজা ঢালস্বরূপ।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১১৫১)
অর্থাৎ পাপ, অনৈতিক, অন্যায়, অবিচার, ধোঁকা, প্রতারণাসহ সব ধরনের অপরাধ থেকে রোজা মানুষকে রক্ষা করে।
রোজার শিক্ষা যদি ব্যক্তি জীবনে স্থায়ী প্রভাব ফেলে, তবে সমাজে নৈতিকতা, সহমর্মিতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভবপর হবে। আত্মসংযমের অনুশীলনই পারে একটি মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে।
সবশেষে বলবো, রোজার শিক্ষা কেবল এক মাসের জন্য সীমাবদ্ধ নয়। বরং এই আত্মসংযম, সহমর্মিতা ও নৈতিকতার চর্চা সারাবছর সব সময়েই অব্যাহত রাখা। তবেই ব্যক্তি থেকে সমাজ; সব ক্ষেত্রেই মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটবে। তখন এই আত্মসংযমের মাধ্যমে গড়ে উঠবে একটি ন্যায়পরায়ণ ও মানবিক সমাজ।
লেখক : আলেম, সাংবাদিক।
বিকেপি/এমবি

