Logo

ধর্ম

রমজান:

তাকওয়া অর্জন ও আত্মশুদ্ধির মাস

Icon

খন্দকার নিশাত তাসনিম

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:৩৭

তাকওয়া অর্জন ও আত্মশুদ্ধির মাস

ইসলামের বরকতময় মাস হলো রমযান। রমযান আরবি বছরের অষ্টম মাস। প্রতি বছর এই মাসে মুসলমানদের জীবনে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আসে। এই মাস আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের মাস, তাকওয়া অর্জন ও আত্মশুদ্ধির মাস। রমযান একটি শিক্ষণপর্ব। এখানে নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলা সম্ভব। রমযান মাসের ফজিলত অন্য মাসের তুলনায় ৭০গুণ বেশি। রমযানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো সিয়াম পালন বা রোজা রাখা। রোজা হলো সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও ইন্দ্রিয়সুখ থেকে নিজেকে বিরত রেখে আত্মসংযমকে বোঝানো হয়। আল্লাহ তায়ালা এই মাসে উম্মতে মোহাম্মদী (সা.)-এর প্রতি ৩০টি রোজা ফরজ করেছেন। রোজা মুসলিমকে ধৈর্যশীল, সহনশীল করে এবং আল্লাহ ভীরু করে গড়ে তোলে। রমজান মাসে প্রতিদিন রোজা আদায়কারী মুসলিমদের দুটি করে ফরয আদায় হয়- একটি হলো রোজার অন্যটি রোজার নিয়তের। রোজা মানুষের পাপকে নিঃশেষ করে দেয়। এ প্রসঙ্গে রাসুলে করীম (সা.) এরশাদ করেছেন -“যে ব্যক্তি রমযান মাসের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত রোযা আদায় করে সে নিজের গোনাহসমূহ হতে এমনভাবে বের হয়ে আসে যেন আজ-ই তার মাতৃগর্ভ হতে ভূমিষ্ঠ হয়েছে।

রোজা কেবল একটি ধর্মীয় ইবাদতই না, এর রয়েছে বিভিন্ন ইতিবাচক দিক। রোজা পালনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত সময়ে খাদ্য গ্রহণ ও দীর্ঘ সময় পানাহার থেকে বিরত থাকার ফলে শরীর ও মনের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়ে, যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। রোজার মাধ্যমে শরীরে অটোফ্যাজি প্রক্রিয়া চালু হয়। অটোফ্যাজি হলো কোষের ভিতরে ক্ষতিকর উপাদান পরিষ্কার করা। রোজায় নিয়ন্ত্রিত খাদ্যবিরতিতে কোষীয় স্বাস্থ্য উন্নতিতে ভূমিকা রাখে। নিয়ন্ত্রিত খাদ্যবিরতিতে কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়। সুষম খাদ্য গ্রহণে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। এছাড়াও রোজায় কোরআন তিলাওয়াত ও ইবাদতের মাধ্যমে মানসিক প্রশান্তি বৃদ্ধি পায়।

রমজান মাসের মর্যাদা অন্যসব মাস থেকে অনেক বেশি। এটি সর্বশ্রেষ্ঠ মাস কারণ এ মাসে পবিত্র কোরআন মাজিদ নাজিল হয়েছে। পবিত্র কোরআন মানব জাতির জন্য পূর্নাঙ্গ জীবনবিধান। রমজান মাস কুরআনের মাস হিসেবেও পরিচিত।এ মাসে ইবাদতের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। একটি নফল ইবাদত ফরজের সমান সওয়াব লাভ করে এবং ফরজ ইবাদতের সওয়াব ৭০গুণ বৃদ্ধি পায় বলে হাদিসে বর্ণিত রয়েছে।

রমজান মাসের ফজিলতের আর একটি প্রধান কারণ এই মাসে শবে কদরের মতো মহামূল্যবান রাতটি আছে। এই রাতের ফজিলত বর্ণনার অসাধ্য। স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা এ রাতের ফজিলত বর্ণনায় পবিত্র কোরআনে সূরা কদর অবতীর্ণ করেছেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, হে মুহাম্মাদ (সা.) নিশ্চয়ই আমি এই কোরআন কদরের রাতে অবতীর্ণ করেছি। কদরের রাত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রাত্রিগুলোর মধ্যে শবে কদরের রাত সর্বোত্তম। এ রাতের ইবাদতে যত বেশি সওয়াব হয় তত আর কোন রাতের ইবাদতে হয়না।

সর্বোপরি, রমজান হলো আত্মশুদ্ধি, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও আত্মগঠনের মাস। এ মাস আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জনের মাস। তাই আমাদের উচিত রমজান মাসের শিক্ষা ধারণ করে পরিবার ও সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং রমজানের ফজিলত স্মরণ করে ইবাদতে আত্মনিয়োগ করা। পবিত্র রমজান সকলকে হেদায়েতের নূর দান করুক, বরকত ও রহমতে কল্যাণ বয়ে আনুক এবং সঠিকভাবে ইবাদত করার তৌফিক দান করুক এই কামনা করি।

লেখক: শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, সদস্য, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা  

ই-মেইল: khandokernishattasnim@gmail.com

বিকেপি/এমএম

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর