রোজা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি কেবল ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করার নাম নয়; বরং আত্মশুদ্ধি, নৈতিক উন্নয়ন এবং তাকওয়া অর্জন বা মুত্তাকি হওয়ার এক মহান মাধ্যম।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা রোজার মূল উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে ঘোষণা করেন- “হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।” (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৩)
এই আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, রোজার চ‚ড়ান্ত লক্ষ্য হলো তাকওয়া অর্জন বা মুত্তাকি হওয়া। আর মুত্তাকি মানে আল্লাহভীতি।
মানুষের আমল যেমনই হোক, রোজা রেখে গোপনে কেউ পানাহার করে না। প্রচণ্ড ক্ষুধার জ্বালা হলেও দরজা বন্ধ করে একা একা কোনো রোজাদার খাবার খায় না। তেমনি তৃষ্ণায় বুক ফেটে যাওয়ার উপক্রম হলেও লুকিয়ে পানি পান করে না। এর একটাই কারণ- যত গোপনই হোক, কেউ না দেখুক; কিন্তু আল্লাহ দেখছেন। এই বিশ্বাস প্রত্যেক রোজাদারের অন্তরে বদ্ধমূল থাকে। আর এটাই হলো আল্লাহভীতি বা তাকওয়া। রোজার কারণেই মানুষের ভেতরে এই ভয় কাজ করে। এক কথায়, মানুষ একাকী থাকলেও আল্লাহর ভয়ে রোজা ভাঙে না। এই গভীর আল্লাহভীতিই মানুষকে মুত্তাকি বানায়।
রোজার মূল শিক্ষা এটাই- মুত্তাকি হওয়া; অর্থাৎ সর্বাবস্থায় আল্লাহকে ভয় করা। রোজাবস্থায় যেভাবে গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহর ভয়ে একজন রোজাদার পানাহার থেকে বিরত থাকে, তেমনি সব পাপাচার থেকেও বিরত থাকা জরুরি।
অন্যায়, পাপাচার, অশ্লীলতা, ধোঁকাবাজি, মুনাফেকিসহ যত গুনাহ আছে- সব থেকেই পরিপূর্ণভাবে বেঁচে থাকতে হবে। কেউ দেখুক বা না দেখুক, আল্লাহ দেখছেন- এ বিশ্বাস হৃদয়ে স্থায়ীভাবে ধারণ করতে হবে। কারণ একদিন আমাদের প্রত্যেক কাজের হিসাব আল্লাহর কাছে দিতে হবে। এই ভয় কেবল রমজান মাসেই নয়; বরং সব মাসে, সব সময়ই থাকা অপরিহার্য।
সুতরাং রোজার প্রকৃত সাফল্য তখনই অর্জিত হবে, যখন রমজানের পরেও এই তাকওয়া আমাদের জীবন পরিচালনা করবে। আল্লাহতায়ালা যেন এই ইবাদতের মাধ্যমে আমাদের পরিপূর্ণ মুত্তাকি হওয়ার তাওফিক দান করেন। আমিন।
- লেখক : আলেম, সাংবাদিক

