Logo

ধর্ম

ইফতার জান্নাতের দাওয়াত

Icon

আব্দুস সাত্তার সুমন

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:৪৮

ইফতার জান্নাতের দাওয়াত

রমজান মাস মুমিনের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মহামূল্যবান এক প্রশিক্ষণকাল। এ মাসে প্রতিটি আমলের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়। আর সেই আমলগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো রোজাদারকে ইফতার করানো। এটি শুধু একটি সামাজিক ভ্রাতৃত্বের চিত্র নয়; বরং জান্নাতের দাওয়াত লাভের এক মহৎ মাধ্যম।

ইফতার শব্দের অর্থ ও তাৎপর্য: “ইফতার” শব্দটি আরবি ফাতারা ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ ভাঙা বা সমাপ্ত করা। শরিয়তের পরিভাষায় সূর্যাস্তের পর রোজা ভঙ্গ করার মাধ্যমে পানাহার শুরু করাকে ইফতার বলা হয়। ইফতার হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য এক সম্মানিত মুহূর্ত। একদিকে দিনের সিয়াম সাধনার সমাপ্তি, অন্যদিকে দোয়া কবুলের সুবর্ণ সময়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রোজাদারের জন্য ইফতারের সময় একটি দোয়া রয়েছে যা প্রত্যাখ্যাত হয় না।

(সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৭৫৩, সহিহ)

রোজাদারকে ইফতার করানোর ফজিলত: রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে; অথচ রোজাদারের সওয়াবে কোনো কমতি হবে না। (জামে তিরমিজি: ৮০৭, সহিহ)

এই হাদিস প্রমাণ করে- ইফতার করালে নিজের রোজার সওয়াব কমে না। বরং অতিরিক্ত সমপরিমাণ সওয়াব অর্জিত হয়।

কাদের ইফতার করানো উত্তম: ইসলাম সকল রোজাদারকে ইফতার করাতে উৎসাহিত করলেও কিছু শ্রেণিকে অগ্রাধিকার দেওয়া অধিক সওয়াবের কাজ।

১. দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত রোজাদার। এদের ব্যাপারে কোরআনে বিশেষ উৎসাহ রয়েছে। এটি সদকা ও ইফতার দুই সওয়াব একত্রে দেয়।

২. আত্মীয়স্বজন। রাসুল (সা.) বলেছেন, গরিবকে দান করলে এক সওয়াব, আত্মীয়কে দান করলে দুই সওয়াব। দান ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা। (তিরমিজি: ৬৫৮, হাসান)

৩. আলেম, তালিবুল ইলম ও নেককার মানুষ। কারণ, তারা দ্বীনের খেদমতে নিয়োজিত।

৪. মুসাফির ও মুজাহিদ (আল্লাহর পথে নিয়োজিত ব্যক্তি)।

এছাড়া যেকোনো মুসলিম রোজাদারকে, মসজিদে সম্মিলিতভাবে, পরিচিত বা অপরিচিতদের সামান্য খাদ্য দিয়ে হলেও ইফতার করাও। হাদিসে এসেছে, একটি খেজুর বা এক ঢোক পানির মাধ্যমে হলেও ইফতার করাও। (মুসনাদে আহমদ)

ইসলাম আড়ম্বর চায় না; বরং বরকতপূর্ণ সরলতা চায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) এর আমল হল- খেজুর দিয়ে ইফতার করা; না থাকলে পানি দিয়ে। (আবু দাউদ: ২৩৫৬, সহিহ)

অতএব ন্যূনতম ইফতার হতে পারে- একটি খেজুর। এক ঢোক পানি। সামান্য খাবার। এতেই সুন্নাহ আদায় ও পূর্ণ সওয়াব অর্জিত হয়।

ইফতার জান্নাত লাভের সামাজিক ইবাদত: ইফতার করানো শুধু খাদ্য বিতরণ নয়; এটি-

উম্মাহর ভ্রাতৃত্ব। দানের প্রশিক্ষণ। তাকওয়া বৃদ্ধি। জান্নাতের পথ প্রশস্ত করার মাধ্যম। রমজানে বহু মানুষ মসজিদ, রাস্তা ও ঘরে যে ইফতার মাহফিল আয়োজন করে, তা মূলত জান্নাতের দাওয়াতেরই এক দুনিয়াবি প্রতিচ্ছবি। রোজাদারকে ইফতার করানো এমন এক আমল, যার মাধ্যমে একই সাথে পাওয়া যায় সিয়ামের সওয়াব, সদকার সওয়াব, আত্মীয়তার সওয়াব এবং মানবতার সওয়াব। অল্প দিয়েও এই ফজিলত অর্জন সম্ভব। অতএব আমাদের উচিত অপচয় নয়, বরং বেশি বেশি রোজাদারকে ইফতার করানোর মাধ্যমে নিজেদের আখিরাতকে সমৃদ্ধ করা।

লেখক: প্রাবন্ধিক, মানিকদি, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বাংলাদেশ

বিকেপি/এমএম

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

ইসলাম ধর্ম রমজান

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর