রোজাদারের জন্য জান্নাতে বিশেষ আয়োজন
রমজান মাসে রোজা রাখা ইসলামের এক মহান ইবাদত। যা আল্লাহতায়ালা বছরের বারো মাসের মধ্যে এক মাস নির্ধারণ করেছেন। এই এক মাসের আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া যেন পুরো বছরের খোরাক হয়। এ কারণেই রোজাকে মুত্তাকি হওয়ার মাধ্যম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এমনিভাবে অশ্লীলতা পাপাচার থেকে বিরত থাকার কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। পাশাপাশি রোজার বহু ফজিলত ও পুরস্কারের ঘোষণাও রয়েছে কোরআন-হাদিসে।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে- ‘রমজান মাস এলে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০৭৯)
রমজানে জান্নাতের দরজা খোলা এবং জাহান্নাম বন্ধ রাখার পাশাপাশি রোজাদারদের জন্য রয়েছে অভাবনীয় ব্যবস্থা। বিশেষ সম্মান ও আয়োজন। জান্নাতে প্রবেশের জন্য রোজাদারদের জন্য থাকবে আলাদা দরজা। যা কেবল রোজাদারদের জন্যই নির্ধারিত।
সাহল ইবনে সা’দ (রাযি.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘জান্নাতে রাইয়্যান’ নামক একটি দরজা আছে। কিয়ামতের দিন এ দরজা দিয়ে রোজা পালনকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর রোজা পালনকারীরা ছাড়া অন্য কেউ তাদের সাথে এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। কিয়ামতের দিন রোজা পালনকারীদের ডেকে বলা হবে, রোজা পালনকারীরা কোথায়? তখন তারা সে দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তারপর রোজা পালনকারীদের শেষ লোকটি প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। অতঃপর সে দরজা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৮৯৬, সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬০০)
রোজা এমন এক ইবাদত, যা বান্দাকে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের অধিকারী করে। কোরআন ও হাদিসের আলোকে স্পষ্ট যে রোজাদারদের জন্য জান্নাতে রয়েছে বিশেষ আয়োজন, বিশেষ দরজা ও বিশেষ সম্মান। তাই আমাদের উচিত শুধু রোজা রাখা নয়; বরং রোজার আদব, তাকওয়া ও চরিত্র গঠনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা-যাতে আমরা সেই বিশেষ জান্নাতি আয়োজনের অংশীদার হতে পারি।
লেখক : আলেম, সাংবাদিক
বিকেপি/এমবি

