Logo

ধর্ম

মাগফিরাতের দিনে তাওবায় জীবন্ত হোক হৃদয়

Icon

রাশেদ বিন শফিক

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬, ২২:৩০

মাগফিরাতের দিনে তাওবায় জীবন্ত হোক হৃদয়

আত্মশুদ্ধি আর গোনাহ থেকে মুক্ত হওয়ার মাস রমজান। রমজান আমাদের দিলের আবর্জনা দূর করে শুভ্র সফেদ হৃদয় গড়ে তোলার মাস। রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের বেষ্টনী দেওয়া মহিমান্বিত এই মাস নিজেকে শুধরে নেওয়ার মহান সুযোগ। 

দেখতে দেখতে রমজানের রহমতের প্রথম দশক  চলে গেল। মাওলায়ে কারীমের অসীম রহমতের বারিধারায় যারা ভিজছে তারা কতইনা সৌভাগ্যবান। ক্ষমা লাভ তো তাদের জন্য অবধারিত। গাফলতির কারণে বা আত্মশুদ্ধির অভাবে রহমত প্রাপ্তদের তালিকায় যাদের নাম ওঠেনি তারাও নিজেকে বদনসিব ভাবার এখনো সময় হয়নি। এখন  মাগফিরাতের দিন। মাগফেরাত অর্থাৎ পাপ হতে ক্ষমা লাভ। এটা বিশাল খুশখবরি। আরেকটি মহান সুযোগ, হৃদয়কে শুদ্ধ করার, পাপ থেকে ক্ষমা পাওয়ার।

ইসলামে নিরাশ হওয়ার কোন সুযোগ নেই। পাপী বান্দাকে আশান্বিত করেন স্বয়ং মহান রাব্বুল আলামীন। তিনি, পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেছেন - ‘বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের ওপর জুলুম (গুনাহ) করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হইও না, নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সুরা আয -যুমার ৫৩)

দয়ালু রব ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, মাগফেরাত এসেছে তার অবারিত ক্ষমা লাভের সোপানে আমাদের বেয়ে উঠতে।

মাগফিরাতের দিনগুলোতে সবচেয়ে অবশ্য করনীয় আমল হচ্ছে বেশি বেশি ইস্তেগফার পাঠে তাওবায় জমে থাকা।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন- ‘তারা আল্লাহর কাছে তওবা করে না কেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে না কেন?  আল্লাহ যে ক্ষমাশীল, দয়ালু।’ (সুরা মায়িদা- ৭৪)

উক্ত আয়াতে গোনাহ মাফির জন্য তাওবার নির্দশের পাশাপাশি আল্লাহ জানিয়ে দিচ্ছেন দয়ালু রব তার বান্দার জন্য অসীম ক্ষমাশীল। বান্দা স্বীয় পাপের উপর অনুশোচনা করে, খালিস দিলে তাওবায় রোনাজারি করলে অবশ্যই তার গোনাহের ক্ষমা মিলবে।

তাওবার মাধ্যমে বান্দার পাপ মুছে তার সম্মান বাড়তে থাকে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘সকল মানুষ ভুলকারী। আর ভুলকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো যারা তওবাকারী।’ (বায়হাকি) অনুতাপি হৃদয়ে নিভৃতে মহান মালিকের কাছে ফরিয়াদ জানানোর মাধ্যমে পাপ থেকে বেঁচে থাকার অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে তাওবায় বিভোর থাকার মাধ্যমে এই দশকে জীবন চালিত করতে হবে।

রমজান বান্দার জীবনের গোনাহ থেকে মাফির শেষ সুযোগ। গোনাহ মাফের অনন্ত সুযোগ হাতছাড়া করা যে নিজেকে লানতপ্রাপ্তদের সারিতে নিয়ে যাবে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাস পেয়ে নিষ্পাপ হতে পারল না, তার মতো হতভাগ্য এ জগতে আর কেউ নেই।’  

রাসুল সা. এর এই কঠিন হুঁশিয়ারীর চেয়ে উম্মতের জন্য বড় সতর্ক বার্তা আর কী হতে পারে! যাপিত জীবনের পাপের ক্ষমা লাভে তাওবা ও ইস্তেগফারে জীবন্ত হোক আমদের  হৃদয়। আসুন রমজানের এই মাগফেরাতের দশককে গোনাহ থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার প্রচেষ্টায় রঙিন করি।

লেখক: কবি, গীতিকার প্রাবন্ধিক, রাজনগর, মৌলভীবাজার

বিকেপি/এমএম 

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

ইসলাম ধর্ম রমজান

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর