রোজা ইসলামে এক অনন্য ইবাদত। এটি কেবল শরীরকেন্দ্রিক কোনো সাধনা নয়; বরং আত্মা, চরিত্র ও নৈতিকতার গভীর প্রশিক্ষণ। আল্লাহতায়ালা রোজার মাধ্যমে মানুষকে তাকওয়া অর্জনের পথে পরিচালিত করেন। তবে সব রোজাই কি আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য? হাদিসের আলোকে দেখা যায়, রোজা গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য কিছু বিশেষ মানদণ্ড রয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মিথ্যা কাজ পরিত্যাগ করে না, তার পানাহার ত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ১৯০৩)
এই হাদিস স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে রোজার মূল উদ্দেশ্য শুধু ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করা নয়। বরং রোজা হলো আত্মসংযমের শিক্ষা- যেখানে জিহ্বা, চোখ, কান, হাত ও অন্তর- সবকিছুর সংযম জরুরি।
১. মিথ্যা পরিহার: মিথ্যা কথা রোজার আত্মাকে নষ্ট করে দেয়। রোজাদার যদি উপবাস অবস্থায়ও মিথ্যা বলে, প্রতারণা করে বা অন্যায় সাক্ষ্য দেয়, তবে সে রোজার প্রকৃত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়। আল্লাহ সত্যবাদিতা ভালোবাসেন, আর রোজা সেই সত্যের অনুশীলনের অন্যতম মাধ্যম।
২. অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকা:
গিবত, পরনিন্দা, হিংসা, জুলুম, প্রতারণা- এসব অসৎ কাজ রোজার নৈতিক সৌন্দর্য ধ্বংস করে দেয়। রোজা মানুষকে এসব থেকে মুক্ত করার জন্যই ফরজ করা হয়েছে। কাজেই অসৎ কাজে লিপ্ত রোজাদারের রোজা আল্লাহর কাছে পূর্ণ মর্যাদা পায় না।
৩. তাকওয়া অর্জন: কোরআনে বলা হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর- যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।’ (সূরা আল-বাকারা: ১৮৩)
আয়াতের স্পষ্ট ঘোষণা- রোজা ফরজ করা হয়েছে যেন মানুষ তাকওয়া অর্জন করে। তাকওয়া অর্থ আল্লাহভীতি ও আত্মসংযম। যে রোজা তাকওয়ার পথে অগ্রসর করে না, তা আল্লাহর কাছে পূর্ণ গ্রহণযোগ্যতা পায় না।
অতএব বলা যায়, আল্লাহর কাছে রোজা গ্রহণযোগ্যতার বিশেষ মানদণ্ড হলো- মিথ্যা ও অসৎ কাজ পরিত্যাগ এবং তাকওয়া অর্জন। রোজা যদি মানুষের ভাষা, আচরণ ও কর্মকে শুদ্ধ না করে, তবে তা কেবল উপবাসেই সীমাবদ্ধ থাকে। প্রকৃত সফল রোজা সেই রোজা, যা মানুষকে আল্লাহর আরও নিকটবর্তী করে তোলে।
লেখক : আলেম, সাংবাদিক।
বিকেপি/এমবি

