বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা
মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান বিশ্ব আহমদীয়া খলীফার
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬, ১৫:১৮
নিখিল বিশ্ব আহমদিয়া মুসলিম জামাতের প্রধান হযরত মির্যা মাসরূর আহমদ (আই.) মুসলিম দেশগুলোকে সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রশক্তির ওপর নির্ভর না করে আল্লাহতায়ালার ওপর ভরসা করার এবং নিজেদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে কাজ করারও তাগিদ দেন তিনি।
গত ৬ মার্চ প্রদত্ত জুমআর খুতবায় তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্ব যেন নিজেদের নিরাপত্তার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রশক্তিগুলোর ওপর নির্ভরশীলতা পরিত্যাগ করে। তারা যেন পৃথিবীর বড় শক্তিগুলোকে নিজেদের উপাস্য বলে মনে না করে। এরা মুসলিম বিশ্বের ক্ষতি করতে চায়। কাজেই এসব ষড়যন্ত্র থেকে বাঁচতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। স্থায়ী ক্ষমতা কেবল মহান আল্লাহতায়ালার।
হযরত মির্যা মাসরূর আহমদ (আই.) বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অনেক মুসলিম দেশে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে। কিন্তু এসব ঘাঁটির প্রকৃত উদ্দেশ্য কী— এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তিনি বলেন, এসব দেশ প্রকৃতপক্ষে কার কাছ থেকে হুমকির সম্মুখীন ছিল? বাস্তবে এ অপশক্তিগুলোই নিজেরাই সেই হুমকি সৃষ্টি করেছে। এসব ঘাঁটির উপস্থিতির কারণে আরব দেশগুলোর ওপর আক্রমণের সম্ভাবনা বেড়েছে এবং শেষ পর্যন্ত আক্রমণ ঘটেছেও। ফলে তাদের অর্থনীতিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের টিলফোর্ডে অবস্থিত মোবারক মসজিদ থেকে খুতবা প্রদানকালে তিনি সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সহসাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে আরব দেশগুলোকেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে। এমটিএ ইন্টারন্যাশনাল চ্যানেলের মাধ্যমে খুতবাটি বিশ্বের ২২০টি দেশে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
খুতবায় তিনি মুসলিম দেশগুলোর সরকার, রাজনীতিবিদ ও শাসকদের ব্যক্তিগত স্বার্থ পরিত্যাগ করে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য প্রতিষ্ঠায় কাজ করার আহ্বান জানান।
পবিত্র কুরআনের সূরা হুজুরাতের ৯-১০ আয়াতের আলোকে তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্বকে শান্তি ও সন্ধির পথে অগ্রসর হতে হবে এবং পরস্পর ভাই ভাই হয়ে বসবাস করতে হবে। ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা অনুসারে নিজেদের মধ্যে ক্ষুদ্র বিশ্বাসগত পার্থক্য উপেক্ষা করে বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়াও জরুরি।
খুতবার একপর্যায়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে যে ইরানে সরকার উৎখাতের জন্য তারা তাদের নেতাকে হত্যা করেছে। কিন্তু বাস্তবে শিয়াদের আধ্যাত্মিক নেতা আয়তুল্লাহ খামেনি শাহাদত লাভ করার কারণে জাতির মধ্যে তাঁর সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
শেষে তিনি বলেন, আরব দেশগুলো এবং ইরানের সরকারের পুনরায় শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ খুঁজে বের করা উচিত।
তিনি উল্লেখ করেন, চীন ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ শান্তি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। মুসলিম উম্মাহ এ উদ্যোগের গুরুত্ব উপলব্ধি করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
খুতবার একপর্যায়ে একজন পশ্চিমা সাংবাদিকের অভিমত উদ্ধৃত করে আহমদীয়া খলীফা বলেন, এমন সময়ও আসতে পারে যখন আমেরিকা ও ইসরায়েল এই যুদ্ধ থেকে বের হয়ে যাবে এবং মুসলিম বিশ্ব নিজেদের মধ্যে লড়াই করতে থাকবে।
খুতবার শেষে বিশ্ব শান্তির জন্য দোয়া করেন হযরত মির্যা মাসরূর আহমদ (আই.)। একই সঙ্গে আহমদিয়া মুসলিম জামাতের সদস্যদেরও বিশ্বের শান্তি ও সব ধরনের অবিচার ও নিষ্ঠুরতার অবসানের জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান।

