Logo

ধর্ম

শবে কদরের তাৎপর্য ও ফজিলত

Icon

মোঃ আমিনুর রহমান

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬, ২২:৪১

শবে কদরের তাৎপর্য ও ফজিলত

লাইলাতুল কদরের অর্থ অতিশয় সম্মানিত ও মহিমান্বিত রাত বা পবিত্র রজনী। আরবি ভাষায় ‘লাইলাতুল’ অর্থ হলো রাত্রি বা রজনী এবং ‘কদর’ শব্দের অর্থ সম্মান, মর্যাদা, মহাসম্মান। এছাড়া এর অন্য অর্থ হচ্ছে; ভাগ্য, পরিমাণ ও তাকদির নির্ধারণ করা। ইসলাম ধর্ম অনুসারে, এ রাতে মহানবী (সা.) এর সম্মান বৃদ্ধি করা হয় এবং মানবজাতির ভাগ্য পুনর্র্নিধারণ করা হয়।

তাই প্রতিটি মুসলমানের কাছে এই রাত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মহাসম্মানিত হিসেবে পরিগণিত। পবিত্র কোরাআন শরীফের বর্ণনা অনুসারে, আল্লাহ এই রাত্রিকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছেন এবং এই একটি মাত্র রজনীর উপাসনা হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও অধিক সওয়াব অর্জিত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আমি এটি (কোরআন) অবতীর্ণ করেছি লাইলাতুল কদরের। আর তুমি কি জানো, লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। সে রাতে ফেরেশতাগণ এবং রূহ (জিবরাইল) তাদের প্রতিপালকের অনুমতিতে সকল আদেশ নিয়ে অবতীর্ণ হন। সেই রাত শান্তিময়, ফজরের উদয় হওয়া পর্যন্ত। (সূরা কদর: ১-৫)

নবীজি (সা.) বলেছেন- “তোমরা রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬৯) অন্যত্র তিনি (সা.) বলেন- “তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০১৭)

তাই ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ রমজানের রাতগুলোতে বেশি করে ইবাদত করা উচিত। কারণ এই রাতগুলোর যেকোনো একটিতে লাইলাতুল কদর হতে পারে।

কদরের ফজিলত পাওয়ার উদ্দেশ্যে বেশি বেশি নফল ইবাদত করা, নফল নামাজ আদায় করা, কোরআন তেলাওয়াত করা, তাছবিহ তাহলীল পাঠ করা। লাইলাতুল কদর হলো বছরের শ্রেষ্ঠ রাত। এ রাতের শ্রেষ্ঠ দোয়া হলো ক্ষমা চাওয়ার দোয়া। এ রাতে মহানবী (সা.) ক্ষমা চাওয়ার দোয়া শিক্ষা দিলেন যে, তুমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাও, ক্ষমা পাওয়ার জন্য দোয়া করো। হাদিস শরীফে আছে হযরত আয়েশা (রা.) মহানবী (সা.) কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ইয়া রাসুল আল্লাহ! যদি আমি বুঝতে পারি শবে কদর কোন রাত, তাহলে ঐ রাতে আমি কি বলব? আল্লাহর কাছে কি চাইব? প্রিয় নবী (সা.) তদুত্তরে বলেন তুমি বলবে, ‘হে আল্লাহ আপনি বড়ই ক্ষমাশীল। ক্ষমা করতে আপনি ভালবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন। ’ আরবি দোয়া হলো- আল্লাহুম্মা ইন্নাকা, আফুউন তুহেববুল আফওয়া, ফাওফু আন্নি। (ইবনে মাজাহ)।

তাই শবে কদরকে নিজের করে পেতে রমাদানের শেষ ১০ দিন নিজেকে ইবাদতে রাখতে হবে। রবের নৈকট্যের সান্নিধ্যে আসতে। আল্লাহর জন্য নিজের সময়টুকু বিলিয়ে দিতে হবে। তালাশ করতে হবে শবে কদরের মহান রাত্রি। এর জন্য উত্তম হয় ইতিকাফে মসজিদে একান্তে খোঁজ করা।

মহান রব্বুল আলামিন সকলকে লাইলাতুল কদর খোঁজ করা এবং পাওয়ার তৌফিক দান করুক। আমিন।

লেখক: শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

সদস্য: বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

বিকেপি/এমএম

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

ইসলাম ধর্ম রমজান

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর