Logo

ধর্ম

মুমিনের ঈদ আনন্দ

Icon

হুসাইন আহমদ

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ২২:৪১

মুমিনের ঈদ আনন্দ

ইসলামের অন্যতম আনন্দ ও উৎসবের দিন হচ্ছে ঈদ। এটি মুসলিম উম্মাহর জন্য আল্লাহ প্রদত্ত দ’টি বিশেষ উৎসবের দিন। এক. ঈদুল ফিতর বা রোজা ভাঙার আনন্দ ও ঈদুল আযহা বা ত্যাগের আনন্দ। এই দিনগুলোতে নামাজ, সাদাকাতুল ফিতর, কুরবানি এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি ও মিলনের মাধ্যমে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা ইত্যাদি। এই ঈদ আসলে সবরকম বৈষম্যতা ভুলে মানুষে মানুষে সৃষ্টি হয় সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই একটি দিনের জন্য হলেও ভুলে যায় সকল হিংসা-বিদ্বেষ ও মান-অভিমান। সবার মাঝেই প্রকাশ পায় একরাশ ভালোবাসা ও বিনয়। আবারও সেই ঈদ মুসলিম বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থিত।

তাই আসুন জেনে নিই; কোরআন হাদিসের আলোকে মুসলিম উম্মাহর এই ঈদের সূচনা ও প্রিয় নবীজির ঈদ উদযাপন সম্পর্কে- নবীজি (সা.) মদীনায় যাওয়ার পর যখন দেখলেন, সেখানকার লোকজন দু’টি দিনকে খেলাধুলার মধ্য দিয়ে উদযাপন করে। নবীজি (সা.) তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, এ দু’দিনের কী তাৎপর্য আছে? তারা বলল, আমরা জাহেলী যুগে এ দু’দিনে খেলাধুলা করতাম। তখন তিনি বললেন, ‘আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ দু’দিনের পরিবর্তে তোমাদের এরচেয়ে শ্রেষ্ঠ দু’টো দিন দিয়েছেন। তা হলো ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতর।’ (আবূ দাউদ : ১১৩৪) অতঃপর নবীজি (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের দ্বিতীয় বছর ঈদের প্রবর্তন হয়। (আবু দাউদ : ১১৩৪)

তবে তখনকার সময়ে বর্তমান ঈদের মতো এতো এতো নতুন জামা-কাপড় ও কেনাকাটার এতো এতো ধুমধাম না থাকলেও ঈদে আনন্দ-খুশির কোনো কমতি ছিল না। নবীজি (সা.) ঈদের দিন ছোট-বড় সবার আনন্দের প্রতিই খেয়াল করতেন; এমনকি মদিনার ছোট ছোট শিশু-কিশোরের সঙ্গে বিশ্বনবী (সা.) আনন্দ করতেন। তাদের কোনো বৈধ আনন্দ উদযাপনে বাধা দিতেন না। (বুখারি : ২৯০৬)

হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, একদা ঈদের দিন আবিসিনিয়ার কিছু লোক লাঠি নিয়ে খেলা করছে। নবীজি (সা.) আমাকে জিজ্ঞেস করেন, হে আয়েশা! তুমি কি লাঠিখেলা দেখতে চাও? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি তখন আমাকে তাঁর পেছনে দাঁড় করান, আমি আমার গাল তাঁর গালের ওপর রেখে লাঠিখেলা দেখতে লাগলাম। তিনি তাদের উৎসাহ দিয়ে বললেন, হে বনি আরফেদা! লাঠি শক্ত করে ধরো। আমি দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে পড়লাম। তিনি তখন বলেন, তোমার দেখা হয়েছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বলেন, তাহলে এবার যাও। (বুখারি : ২৯০৭)

আর নবীজির সাহাবিদের ঈদ আনন্দের ভাগাভাগির পদ্ধতিও ছিল ভিন্নরকম। পরস্পর দেখা হলে তারা দোয়ার মাধ্যমে ঈদের আনন্দ উদযাপন করতেন। যা ছিল প্রকৃত ঈদ আনন্দের অনন্য উদাহরণ। যেমন হযরত সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রহ.) বলেন, ঈদের দিন সাহাবায়ে কেরাম একসঙ্গে হলে একে-অপরকে বলতেন, আল্লাহ কবুল করুন আমাদের থেকে এবং আপনাদের থেকে (সকল আমল)। (ফাতহুল বারি ২/৪৪৯)

এছাড়াও ভিন্ন ধর্মের মানুষেরাও যেন জানতে পারে যে, ইসলামে বৈধ আনন্দ-ফুর্তি জায়েজ আছে। মুসনাদে আহমদের বর্ণনা, নবীজি (সা.) বলেন, ইহুদিরা যেন জানতে পারে আমাদের ধর্মে প্রশস্ততা আছে। নিশ্চয়ই আমি একনিষ্ঠ ও মহানুভব ধর্ম ইসলাম নিয়ে প্রেরিত হয়েছে। (মুসনাদে আহমদ : ২৫৯৬২)

অতঃপর পবিত্র এই ঈদের আনন্দ-উৎসব হোক সবার ও সকলের। আল্লাহ তায়ালা আমাদের এবং তোমাদের আমলগুলোকে কবুল করুন। আমিন।

লেখক: শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক

বিকেপি/এমএম

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

ইসলাম ধর্ম রমজান

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর