Logo

ধর্ম

বিদআত একটি মারাত্মক ব্যাধি

Icon

জনি সিদ্দিক

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪১

বিদআত একটি মারাত্মক ব্যাধি

ইবাদতের ক্ষেত্রে বিদআত মারাত্মক একটি ব্যাধি! এই ব্যাধি মুমিনকে জাহান্নামে নিয়ে যায়। যেমন বর্তমান ক্যান্সার ও এইডসকে প্রাণঘাতী রোগ বলা হয়; তেমনি বিদআতও মুমিনের জন্য আত্মত্মঘাতী! কেননা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "সর্বোত্তম বাণী আল্লাহর কিতাব, আর সর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ। সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো নতুন উদ্ভাবিত বিষয়, আর প্রতিটি নতুন উদ্ভাবনই বিদআত। আর প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা এবং সব ভ্রষ্টতা জাহান্নামে যাবে।" (সহিহ মুসলিম শরীফ, কিতাবুল জুমু'আ, নং-১৪৩৫)

শুধু তাই নয়! বিদআতিকে সম্মান প্রদর্শনও করা যাবে না। হযরত ইবরাহীম ইবনে মাইসারা তাবেয়ী বলেন-রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "যে ব্যক্তি কোনো বিদআতিকে সম্মান করল, সে যেন ইসলামের ধ্বংসে সাহায্য করল!" (বাইহাকী, শু'আবুল ঈমান ৭/৬১) কী ভয়ংকর ও মারাত্মক কথা! স্বয়ং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে বিদআতকে জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হিসেবে বলেছেন, সেই বিদআতের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্কই থাকা উচিত নয়। কিন্তু তারপরও আমরা এই বিদআতের সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমেই বাড়াচ্ছি।

বর্তমানে আমরা এমন কিছু ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করে জাহান্নামের পথ সুগম করছি, যা সম্পূর্ণ বিদআত বা নতুন উদ্ভাবন। এর তালিকা অনেক বড়! অথচ এগুলো থেকে সতর্ক করা প্রত্যেক ইমাম ও ওয়ায়েজদের গুরু দায়িত্ব। সে যাই হোক, আগে আমাদের জানা দরকার- এই বিদআত কী?

আরবি 'বিদআত' শব্দটি 'বদ'আ' শব্দমূল থেকে উদ্ভূত। এর অর্থ সম্পর্কে আল্লামা ইবনে মালয়ূর বলেন-"নতুন সৃষ্টি, যা দ্বীনের পূর্ণতার পর উদ্ভাবিত হয়েছে।"

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই বলেছেন- "এটা নতুন উদ্ভাবিত বিষয়।" আরও সহজভাবে বলা যায়-ইবাদতের ক্ষেত্রে এমন কোনো পদ্ধতিকে ইবাদত মনে করা, যা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাহাবি, তাবেয়ী, তাবে-তাবেয়ীনদের কেউ পালন করেননি এবং পালন করতে বলেননি- এসব পদ্ধতি আবিষ্কার করা জরুরি মনে করা অথবা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোনো সুন্নাহর চেয়ে এটাকে পালন করা ভালো মনে করে আমল করা- তাকেই বিদআত বলে।

বিদআত পালন করার ফলাফল

মূল কথা-বিদআত পালন করে কোনো লাভ নেই। বরং বিদআত বেশি আমল করার চেয়ে কম সুন্নাহ পালন উত্তম! এ বিষয়ে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন- "বিদআতের পদ্ধতিতে বেশি আমল করার চেয়ে সুন্নাহর উপর কম আমল করা উত্তম।" (হাকিম, মুস্তাদরাক)

তিনি আরও বলেন- "তোমরা অনুসরণ করো, উদ্ভাবন করো না। কারণ দ্বীনের মধ্যে যা আছে তাই তোমাদের জন্য যথেষ্ট।” (দারিমি) মূলত বিদআত পালন করলে সুন্নাহ ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়। এমনকি এক সময় শুধু বিদআতই থেকে যায় এবং সুন্নাহ বিলীন হয়ে যায় যা অত্যন্ত ভয়ংকর বিষয়।

বিদআত দমনের দায়িত্ব

এই বিদআতগুলো প্রচার করছে আমাদের পীর-(মাগারেখ, ইসলামি চিন্তাবিদ, বক্তা, মসজিদের ইমামগণ এবং একশ্রেণির স্বার্থান্বেষী আলেম। তাদের অনেকেই নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর জন্য এসব বিদআত চালু করছেন।

যেমন- প্রচলিত মিলাদ পদ্ধতি, মিলাদ কিয়াম, শবে বরাতের রাতে হালুয়া-রুটি তৈরি করাকে সওয়াবের কাজ মনে করা ইত্যাদি।

অথচ ইসলাম থেকে এসব দূর করাই ছিল তাদের কাজ। কেননা মসজিদের ইমাম ও ইসলামি বক্তারাই পারেন এগুলো বন্ধ করতে এবং এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে।

সুতরাং সকল ইমাম ও ওয়ায়েজদের উচিত ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই কাজ করা। মহান আল্লাহ পাক আমাদেরকে এই কাজ কবুল করুন এবং সব ধরনের বিদআত থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

লেখক: প্রাবন্ধিক, কামিল/এম.এ

ইমেইল: [email protected]

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর