Logo

ধর্ম

কিয়ামুল লাইল ও নফল নামাজ: জামাতে আদায় করা কতটুকু বৈধ?

Icon

মুফতী মনসুরুল হক

প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৯:৩৬

কিয়ামুল লাইল ও নফল নামাজ: জামাতে আদায় করা কতটুকু বৈধ?

সংগৃহীত

ইসলামে কিয়ামুল লাইল (তাহাজ্জুদ) অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদত। তবে নফল নামাজের ক্ষেত্রে মূল বিধান হলো- এগুলো একাকী আদায় করাই উত্তম। ইসলামের প্রাথমিক যুগে নিয়মিতভাবে নফল নামাজ জামাতে আদায়ের কোনো প্রচলন ছিল না।

হাদিসের আলোকে জানা যায়, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) জীবনে অল্প কয়েকবার নফল নামাজ জামাতে আদায় করেছেন। তবে সেগুলো ছিল ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনা। তিনি কখনো পূর্ব ঘোষণা দিয়ে বা আয়োজন করে নফল নামাজের জামাত প্রতিষ্ঠা করেননি। বরং তিনি নিজ ঘরে বা কোনো সাহাবির ঘরে নফল নামাজে দাঁড়ালে, উপস্থিত দু-একজন সাহাবি স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁর অনুসরণ করতেন।

এ প্রেক্ষাপটে ইসলামী ফিকহবিদরা (ফুকাহায়ে কেরাম) নফল নামাজ জামাতে আদায় বিষয়ে কিছু নীতিমালা নির্ধারণ করেছেন-

মূল নীতিমালা:

পূর্ব ঘোষণা বা পরিকল্পনা ছাড়া কেউ নফল নামাজ পড়ার সময় ১-২ জন অনুসরণ করলে তা জায়েজ।

নিয়মিতভাবে নফল নামাজ জামাতে আদায় করা মাকরূহ।

মুক্তাদির সংখ্যা তিনজন হলে- এ বিষয়ে মতভেদ থাকলেও অনেক ফকিহ এটিকে মাকরূহ বলেছেন।

চারজন বা তার বেশি হলে সর্বসম্মতিক্রমে তা মাকরূহ।

পূর্ব ঘোষণা বা আয়োজন করে নফল নামাজের জামাত করা সর্বাবস্থায় মাকরূহ।

সারমর্ম:

নফল নামাজ জামাতে আদায় করা কোনো মুস্তাহাব (প্রশংসনীয়) আমল নয়; বরং নির্দিষ্ট কিছু শর্তে তা কেবল জায়েজ হতে পারে। তাই এ বিষয়ে মানুষকে উৎসাহিত করা শরিয়তসম্মত নয়।

রমজানে করণীয়:

রমজান মাসে কোরআন খতমের উদ্দেশ্যে জামাতে নামাজ আদায় করতে চাইলে তারাবির নামাজই উত্তম মাধ্যম। তারাবি যেকোনো স্থানে জামাতে আদায় করা যায়- শুধু মসজিদে বা বড় জামাতেই হতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

তাই খতমে কোরআনের প্রয়োজন তারাবির মাধ্যমেই পূরণ করা সম্ভব; তাহাজ্জুদ বা কিয়ামুল লাইল জামাতে আদায়ের প্রয়োজন নেই।

তথ্যসূত্র:

ই‘লাউস সুনান (৭/৯৭-৯৯), আদ্দুররুল মুখতার (২/৪৯), ফাতাওয়ায়ে রাহীমিয়া (৪/১৩৬)

লেখক:

মুফতী মনসুরুল হক

প্রধান মুফতী ও শাইখুল হাদীস, জামিআ রাহমানিয়া আরাবিয়া ও জামিআতুল আবরার রাহমানিয়া, মুহাম্মাদপুর, ঢাকা

বাংলাদেশেরখবর/আরকে

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন