‘দুর্ভোগ প্রত্যেকের জন্য, যে পশ্চাতে ও সম্মুখে মানুষের নিন্দা করে।’ (সূরা হুমাযাহ: ১)- অর্থাৎ যারা সমালোচনা, নিন্দা ও গিবত করে, তাদের প্রতি এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা কঠিন সতর্কবার্তা প্রদান করেছেন।
আইয়ামে জাহিলিয়া যুগে আরবের মানুষ একে অপরের সমালোচনা ও নিন্দায় লিপ্ত থাকত; তাদের মধ্যে নম্রতা ও ভদ্রতার ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। যেমন- উবাই ইবনে খলফ প্রিয় নবী (সা.) ও মুসলমানদের নিন্দা করত। আখনাস ইবনে শুরাইক মুসলমানদের সমালোচনা করত। মুগিরা ইবনে ওয়ালিদও একইভাবে সমালোচনায় লিপ্ত ছিল। আস ইবনে ওয়ায়েল প্রিয় নবীজীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ও সমালোচনা করত।
বর্তমান সমাজেও একই চিত্র লক্ষ্য করা যায়। গ্রাম কিংবা শহরে, চায়ের দোকান বা হাটবাজারে মানুষ একে অপরের বিরুদ্ধে সমালোচনা ও মিথ্যা অপবাদে লিপ্ত হয়। অনেকেই দিনের পর দিন অন্যের গিবত ও অপপ্রচারে সময় নষ্ট করে। কেউ ভালো কাজ করলে অন্যরা হিংসায় কাতর হয়ে তার সমালোচনা শুরু করে। এমনকি এক ভাই আরেক ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেয়। অনেক নারী-পুরুষই সারাদিন পরনিন্দা ও সমালোচনায় ব্যস্ত থাকে, যা পরিবার ও সমাজে বিবাদ সৃষ্টি করে।
অনেকে বন্ধুদের অপমান করে, বিভেদ সৃষ্টি করে এবং ইশারা-ইঙ্গিত বা কথার মাধ্যমে অন্যকে হেয় করে। নিন্দুকেরা সবসময় মানুষের দোষ-ত্রুটি খুঁজে বেড়ায়- কেউ সামনে, আবার কেউ পেছনে সমালোচনা করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এখন এই প্রবণতা বেড়ে গেছে; মানুষ যাচাই-বাছাই না করেই অন্যের বিরুদ্ধে মন্তব্য করে, যা গিবত ও অপপ্রচারের একটি নতুন রূপ।
যারা এ ধরনের নিন্দা ও সমালোচনায় লিপ্ত, তাদের জন্য ‘হুতামা’ নামক জাহান্নামের শাস্তির কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘কখনো না, সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে হুতামায়।’ (সূরা হুমাযাহ: ৪) এটি ভয়াবহ, লেলিহান শিখাযুক্ত আগুন, যেখানে নিন্দুকদের শাস্তি দেওয়া হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হুতামা কী, তা কি তুমি জানো? এটি আল্লাহর প্রজ্জ্বলিত আগুন।’ (সূরা হুমাযাহ: ৫-৬)
এই আগুন সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে- তা দীর্ঘ সময় ধরে প্রজ্বলিত হয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই তা তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রাখবে।’ (সূরা হুমাযাহ: ৮)
নিন্দুকদের চারদিক থেকে আগুন ঘিরে ধরবে এবং তাদের জাহান্নামে নিক্ষেপ করার পর দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। ফলে তারা সেখান থেকে বের হতে পারবে না। তাদেরকে কঠোর শাস্তির মধ্যে আবদ্ধ রাখা হবে। আল্লাহ বলেন, ‘দীর্ঘায়িত স্তম্ভসমূহে।’ (সূরা হুমাযাহ: ৯)
অতএব, নিন্দা, গিবত ও অন্যের সমালোচনা থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি। প্রত্যেক মুসলমানের উচিত নিজের জিহ্বা সংযত রাখা, অন্যের দোষ গোপন রাখা এবং সদাচরণে অভ্যস্ত হওয়া। এতে ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ই শান্তি লাভ করবে।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে এ ধরনের গুনাহ থেকে হেফাজত করুন। আমিন।
লেখক: আলেম, প্রাবন্ধিক

