Logo

ধর্ম

ইসলামে অপবাদ দেওয়ার শাস্তি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:০৩

ইসলামে অপবাদ দেওয়ার শাস্তি

বিদ্বেষ বা শত্রুতা থেকে অপবাদ দেওয়া হয় সাধারণত। এর মাধ্যমে নির্দোষ ব্যক্তির চরিত্রে কালিমা লেপন করা হয়। এ ব্যাপারে ইসলামে ভয়াবহ শাস্তির কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে সৎ-চরিত্রবান নারীকে অপবাদ দেওয়া মহাঅপরাধ।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, 'যারা সৎ-চরিত্রবান, সহজ-সরল ঈমানদার নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারা দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত। আর তাদের জন্য আছে গুরুতর শাস্তি।' (সুরা নুর, আয়াত : ২৩)

অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন, 'আর যারা সচ্চরিত্র নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারপর তারা চারজন সাক্ষী নিয়ে আসে না, তবে তাদেরকে ৮০টি বেত্রাঘাত কর এবং তোমরা কখনই তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করো না। আর এরাই হলো ফাসিক।

তবে যারা এরপরে তাওবা করে এবং নিজদের সংশোধন করে, তাহলে নিশ্চয় আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।' (সুরা : নুর, আয়াত : ৪-৫)

অপবাদ ২ ধরনের

এক. যে অপবাদে ইসলামে নির্দিষ্ট পরিমাণের শাস্তির ব্যবস্থা আছে। যেমন—ব্যভিচারের প্রকাশ্য অপবাদ অথবা কারো বংশীয় পরিচয় অস্বীকার করা।

দুই. যে অপবাদে ইসলামে নির্দিষ্ট পরিমাণের কোনো শাস্তি নেই। এমন অপবাদের ক্ষেত্রে অপবাদীকে শিক্ষামূলক শাস্তি অবশ্যই দেওয়া হবে।

অপবাদ থেকে বাঁচার উপায়

স্বাভাবিক ভাবে মানুষের ব্যাপারে সুধারণা পোষণ করা এবং কুধারণা বা অনুমান থেকে দূরে থাকা।

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘হে মু’মিনগণ! তোমরা অধিক ধারণা হতে বিরত থাক। কতক ধারণা পাপের অন্তর্ভুক্ত। তোমরা অন্যের দোষ খোঁজাখুঁজি করো না, একে অন্যের অনুপস্থিতিতে দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করো না। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? তোমরা তো সেটাকে ঘৃণাই করে থাকো। আল্লাহকে ভয় করো, আল্লাহ খুব বেশি তাওবা কবুলকারী, অতি দয়ালু।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১২)

উপসংহার

কাউকে হেয় করার জন্য বা মানুষের কাছে তার চরিত্র হননের জন্য অপবাদ দেওয়া হয়। অথচ এটি অপবাদ আরোপকারীর ওপরই বর্তায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘একজন মানুষের মন্দ হওয়ার জন্য এতটুকু যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে হেয় মনে করে।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৪৩৫)

কাউকে অপবাদ দিলে সে ক্ষমা না করলে আল্লাহ ক্ষমা করেন না। কেননা অপবাদ বান্দার হক। বান্দা ক্ষমা না করলে আল্লাহ বান্দার হক ক্ষমা করেন না।

পাশাপাশি যার কাছে অন্যের বিরুদ্ধে দোষত্রুটি বর্ণনা করা হয়, তার উচিত অন্ধভাবে তার কথা বিশ্বাস না করা। বরং তা যাচাই-বাছাই করা।

অতিরিক্ত আবেগের বশবর্তী হয়ে কখনো ভিত্তিহীন কথা প্রচার করা হয়। অথচ রাসুল (সা.) ভিত্তিহীন কথা বলতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। কোনো খবর যাচাই না করেই প্রচার করতেও নিষেধ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, যা শুনে তা-ই বলতে থাকা কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য যথেষ্ট। (মুসলিম, হাদিস : ৫)

তাই কোনো কথা বা খবর ভালোভাবে যাচাই না করে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। কেননা এতে অন্য কেউ বিপথগামী হতে পারে। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সত্য কল্যাণের পথে পরিচালিত করে, আর কল্যাণ জান্নাতে পৌঁছায়। আর মানুষ সত্যের ওপর অবিচল থেকে অবশেষে সিদ্দিকের মর্যাদা লাভ করে। মিথ্যা মানুষকে পাপের দিকে নিয়ে যায়, পাপ তাকে জাহান্নামে নিয়ে যায়। আর মানুষ মিথ্যা কথা বলতে বলতে অবশেষে আল্লাহর কাছে মহামিথ্যাচারী প্রতিপন্ন হয়ে যায়।’ (বুখারি, হাদিস : ৬০৯৪)

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন