Logo

ধর্ম

যে কারণে দাড়ি রাখা জরুরি

Icon

মুহিবুল হাসান রাফি

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৬

যে কারণে দাড়ি রাখা জরুরি

দাড়ি পুরুষের শোভা, মুসলিমের সৌন্দর্য, পুরুষত্বের পরিচয় ও ব্যক্তিত্বের পূর্ণতার প্রতীক। মুসলিম জাতিসত্তার অন্যতম পরিচায়ক ও অন্যতম শিয়ার। যা ইসলামী রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষঙ্গ। এটি আল্লাহর ভিন্ন নিদর্শনের চমৎকার সুন্দর বিভাজন। আরবি ভাষায় বলা হয় ‘লিহইয়া’ বা ‘লাহয়া’। এর আভিধানিক অর্থ হলো থুতনিসহ মুখের দুই পাশের হাড়। এই হাড়ের ওপর যে লোম বা কেশ গজায়, প্রাপ্তবয়স্ক হলে তাই ওই নামকরণে ‘লিহইয়া’ বলা হয়। স্প্যানিশ ভাষায় ‘বারবা’ বলে, ফরাসি ভাষায় ‘বারবি’ বলে, ইংরেজি ভাষায় ‘Beard’ বলে।

দ্বীনের পথে ফিরে আসার কিছু গল্পের চরিত্রে অভিনয় করা প্রায় প্রত্যেক অভিনেতা ও ভিলেনের মাঝে অন্ততপক্ষে দাড়ি নিয়ে পক্ষ-তিক্ততা দেখা যায়। তার মধ্যে অন্যতম হলো পরিবার ও আত্মীয়স্বজন। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, এ দিক থেকে আমি বড়ই সৌভাগ্যবান বললেই চলে।

পরিবারের কথোপকথন

বাবা: যখন দাড়ি গজায়নি, তখন বাবার সঙ্গে কতই না মজা হতো। আর এখন আমি দাড়ি রাখার পর থেকে শুধুই ধার্মিকতা নিয়ে অনেক প্রশ্ন জমা হয় বাবার কাছে।

মা: মা তো আরও অনেক বুদ্ধিমতী। মা যখন আমার এই প্রত্যাবর্তন দেখল, তখন আরও উপদেশ দিল—দাড়ি রাখবি, ভালো কথা; একেবারে রেখে দিবি। বারবার কেটে ডিজাইন করে দাড়ি রেখে লোক দেখানোতে লাভ কী?

ভাই-বোন: দাড়ি রাখবি তো ভালো কথা। কিন্তু তোর বড়রা যে এখনো ক্লিন শেভ করে। যা করবি, ভেবে-চিন্তে করবি।

আত্মীয়স্বজন: বিয়ের আগে কিসের দাড়ি রে! বেশিই হুজুরি হয়ে গেছিস। বড়রা দাড়ি না রাখার আগেই তুই রাখা শুরু করে দিয়েছিস।

জীবনে প্রত্যাবর্তনের পথে কতই না কথা—থাক, আর কিছু না বলা।

দাড়ি রাখা রাসূল (সা.)-এর সার্বক্ষণিক আমল ছিল। এরপর সাহাবায়ে কেরাম, তাবেইন, তাবে-তাবেইন, ফুকাহা, মুহাদ্দিসিন, সালফে সালেহিন, আওলাদে রাসূল, আশেকে রাসূল, পীর-ওলিয়াদেরও আমল ছিল এটি। দাড়ি রাখা আবশ্যক। চেঁছে ফেলা বা এক মুষ্টির ভেতরে কাটা কবিরা গুনাহ। রাসূল (সা.)-এর নির্দেশ হচ্ছে—তোমরা দাড়ি লম্বা করে রাখো এবং গোঁফ ছোট করো (আত-তাবারানী, আল-মু’জামুল কবীর, খ. ১১, পৃ. ২৭৭, হাদীস: ১১৭২৪)। এক মুষ্টির ভেতরে দাড়ি কাটা সর্বসম্মতিক্রমে হারাম (বুখারী শরীফ, ফাতহুল বারি: ৪/৩৮০)। মনে রাখতে হবে, বয়স দাড়িতে নয়। দাড়িওয়ালা কাউকে কোনোভাবে কটূক্তি, অবজ্ঞা বা হেয় করা ঠিক নয়।

রাসূল (সা.) দাড়ি রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে আমার বান্দারা, তোমরা এই সৃষ্টিগত শোভা ও সৌন্দর্য পরিবর্তন বা বিকৃত করো না। আল্লাহ আরও বলেন, যারা আমার রাসূলের সুন্নাহ পরিত্যাগ করে, তারা সঠিক পথে নয়। আমার রাসূল (সা.) ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ পুরুষ। আর যারা আমার রাসূল (সা.)-কে অনুসরণ করবে, তারাই হবে পৃথিবীর বুকে সেরা আদর্শ মানুষ।

দাড়ি কেন রাখবো

দাড়ি রাখলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) খুশি হন এবং নবীগণের অনুসরণ করা হয়। দাড়ি রাখলে কবরের আজাব থেকে রক্ষা পাওয়া যায় এবং পরকালে প্রিয় নবীর শাফায়াত লাভের আশা করা যায়। অচেনা জায়গায় দাড়িওয়ালা ব্যক্তি মারা গেলে মুসলমান হিসেবে পরিচয় শনাক্ত করা সহজ হয়। এটি বীরত্বের পরিচয় বহন করে এবং চেহারার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। কিয়ামতের কঠিন সময়ে মুমিনের দাড়ি নূরে পরিণত হবে—এমন আশাও করা হয়। ঈমান-আমল ঠিক থাকলে আল্লাহর রাসূল, নবী ও নেক বান্দাদের সঙ্গে হাশর হবে এবং মুনকার-নাকীরের প্রশ্নের জবাব সহজ হবে। দাড়ি রাখলে অনেক রোগের সংক্রমণ থেকেও কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া যেতে পারে এবং গুনাহ থেকে বাঁচতে সহায়তা করে। দাড়ি মানুষকে অনেক খারাপ কাজ থেকেও বিরত রাখে।

পরিশেষে, ফ্যাশন হিসেবে নয়—সুন্নাহ অনুযায়ী দাড়ি রাখা জরুরি। সুন্নাহর যত্ন নেওয়া প্রত্যেক মুমিনের দায়িত্ব ও কর্তব্য। আল্লাহ আমাদের সুন্নাহ অনুযায়ী জীবনযাপন করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

mohibulhasanrafi809067@gmail.com

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন