গোটা দুনিয়ার মধ্যে শ্রেষ্ঠতম শিক্ষা হলো ইসলামি শিক্ষা। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে এই শিক্ষা লাভের সূচনা হয়েছিলো। সমগ্র বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ তায়ালা ছিলেন শিক্ষক আর তিনি ছিলেন ছাত্র। আল্লাহ পাক রেসালাতের মহান দায়িত্ব তাঁর হাবিব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর অর্পণ করার পর জিবরাইল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে তাঁকে বলে পাঠালেন, ‘ইকরা’ অর্থাৎ, পড়ো। তিনি জবাব দিলেন, ‘আমি তো পড়তে পারি না।’ তিন তিনবার পড়ার কথা বলার পর হজরত জিবরাইল আলাইহিস সালামের কণ্ঠে ধ্বনিত হলো মহান রবের বাণীÑ পড়ো তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। (সূত্র: সুরা আলাক, আয়াত: ১)
এরপর থেকে মহান আল্লাহ সম্মানিত এই ফেরেশতার মাধ্যমে যে তাঁর প্রিয় হাবিব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে লেখাপড়া শিখিয়ে গেলেন, তা জারি থাকলো দীর্ঘ তেইশ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে মহামানব হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসমানি লেখাপড়া নিজে শিক্ষা লাভ করার পাশাপাশি নিজ উম্মতকেও শেখাতে মগ্ন হন। এমন এক শিক্ষা তা, যা শুধু মুখস্ত বিদ্যা নয়; বরং মহান আল্লাহর সাথে তাঁর বান্দার কানেকশন হওয়ার সুপ্ত পরশ পাথর। এই শিক্ষার উসিলায় পাওয়া যায় আল্লাহকে। পাওয়া যায় শিক্ষা অনুযায়ী আমল করে তাঁর চির সন্তুষ্টি। আরও পাওয়া যায় দুনিয়া ও আখেরাতে রবের দেওয়া অগণিত নেয়ামত। দুনিয়াতে সুখ-শান্তির নেয়ামত আর আখেরাতে এমন অসংখ্য নেয়ামত, যা কোনো চোখ কখনো দর্শন করেনি; কোনো কান কখনো শ্রবণ করেনি; কোনো মন কখনো কল্পনা করেনি। আচ্ছা, এমন শিক্ষার সমতুল্য অন্য কোনো শিক্ষা কি দেখাতে পারবে কেউ? এমন লেখাপড়ার বিকল্প কোনো লেখাপড়া কি আছে এই ভুবনে?
কীভাবে নিজ উম্মতকে আসমানি শিক্ষা দিয়েছেন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম?
সীরাতের কিতাব খুললে দেখা যায়, মহান আল্লাহ থেকে প্রাপ্ত প্রথম শিক্ষা নিয়ে বাড়ি ফেরার পর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বপ্রথম নিজ পত্নী হজরত খাদিজা রাযিয়াল্লাহু আনহার কাছে তা তুলে ধরেন। অতি আগ্রহে সৌভাগ্যবতী এই রমণী তা গ্রহণ করে নেন। এরপর বন্ধু হজরত আবু বকর সিদ্দিক, চাচাতো ভাই হজরত আলি ও দাস হজরত যায়েদ রাযিয়াল্লাহু আনহুমও সাদরে গ্রহণ করে নেন আসমানি মহান শিক্ষা। তারপর ধীরে ধীরে এই শিক্ষা ছড়িয়ে পড়ে চতুর্দিকে। সৌভাগ্যবান বহু মানুষ তা লুফে নেন; তবে প্রকাশ্যে নয়, গোপনে।
প্রথম তিন বছর আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাগুলো গোপনে প্রচার করেন আল্লাহর নির্দেশে। তখন দারুল আরকাম ছিলো মুসলমানগণের সর্বপ্রথম মাদরাসা। সেখানে বসে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ সাহাবিগণকে ইসলামি শিক্ষা দান করতেন। দারুল আরকামের মাটিতে আসমানি শিক্ষার আলোয় তাঁদের হৃদয়গুলো আলোকিত হতো। ধন্য সেই মাটি, ধন্য সেই শিক্ষার্থীগণ।
এরপর আসে প্রকাশ্যে শিক্ষা-দীক্ষা দেওয়ার হুকুম। হুকুম পালন করতে আল্লাহর হাবিব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছুটে যান সাফা পাহাড়ের চূড়ায়, ছুটে যান সূদুর তায়েফে; উকাজ বাজারে, মক্কার অলি-গলিতে, মানুষের দ্বারে দ্বারে সর্বত্র তাঁর বিচরণ। অবশেষে পাড়ি জমান মদিনায়। সেখানে প্রতিষ্ঠা করেন মসজিদে নববি। এরপর থেকে আসমানি শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র হয় এই মসজিদ। প্রতিষ্ঠিত হয় সুফফা মাদরাসা। আসহাবে সুফফা নামে যারা সুপরিচিত, তাঁরাই হলেন এই মাদরাসার আবাসিক শিক্ষার্থী। তাছাড়া প্রতিদিন নববি ক্লাসে অনাবাসিক অসংখ্য শিক্ষার্থীও উপস্থিত থাকতেন।
একসময় আল্লাহর নির্দেশে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুরো বিশ্বে আসমানি শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছা করেন। তিনি নিজ সাহাবিগণকে বিভিন্ন দেশে প্রেরণ করেন। তাঁদের উসিলায় মহান এই শিক্ষা ছড়িয়ে পড়ে দূর-দূরান্তে। এভাবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিক্ষা-দীক্ষা দানের কাজে ব্যাপকভাবে নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর সাহাবায়ে কেরাম রাযিয়াল্লাহু আনহুম তাঁর থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাগুলো ভুলেননি। বরং, জীবনের পদে পদে শিক্ষা অনুযায়ী আমল করেছেন এবং পরবর্তী প্রজন্মকে নবী থেকে আহরিত আসমানি শিক্ষাসমূহ উপহার দিয়েছেন।
সাহাবায়ে কেরামের যুগে পৃথিবীর বহু সংখ্যক দেশে ইসলামি শিক্ষা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেকালে ভারত উপমহাদেশে শিক্ষার আলো নিয়ে যেসব সম্মানিত সাহাবি আগমন করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন হলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ উতবান রাযি., সুহাইল ইবনে আদি রাযি., উবাইদুল্লাহ ইবনে মা’মার তামিমি রাযি., আশইয়াম ইবনে আমর তামিমি রাযি., ছুহার ইবনে আল আবাদি রাযি., হাকাম ইবনে আবুল আস ছাকফি রাযি., আব্দুর রহমান ইবনে সামুরাহ রাযি. প্রমুখ। তাঁদের উসিলায় এই উপমহাদেশের জনগণের হৃদয় ইসলামি শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়। তাঁরা সকলের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার পাত্র হন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবিগণের পর শিক্ষাদানের এই মহৎ দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়েছেন তাঁদেরই ছাত্র, কোরআন-হাদিস বিষয়ে সুবিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য পরবর্তী প্রজন্মগণ। এরপর তাঁদের ছাত্রগণ। এরপর তাঁদের ছাত্রগণের ছাত্রগণ। ফলে, তৎকালীন যুগে কোরআনের হাফেজের পাশাপাশি হাদিসের হাফেজ বড় বড় নামকরা অনেক আলেম ছিলেন। যাদের এক লক্ষের অধিক সহিহ হাদিস মুখস্থ থাকতো, তাদেরকে হাফিজে হাদিস বলা হতো। আরো ছিলেন প্রখর মেধার অধিকারী মুফতিয়ানে কেরাম। যারা শরিয়তের চারটি মূলনীতি মোতাবেক যুগ অনুযায়ী নির্ভুল ফতওয়া প্রদান করতেন। ফলে, সাধারণ মুসলমানগণ তাঁদের দ্বারা উপকৃত হতেন এবং নিজেদের ইমান-আমল সঠিক রাখতে পারতেন।
এভাবে ধারাবাহিকভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন হয়ে আসছে। গোটা দুনিয়ার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিলেন সৌভাগ্যবান শিক্ষকমণ্ডলী ও তাঁদের ছাত্রগণ। এ সকল সম্মানিত উস্তাদগণের শিক্ষাদানের পদ্ধতি ছিলো, শেখানোর পাশাপাশি ছাত্রদের আমলদার করে তোলা।
উমাইয়া খেলাফতকাল থেকে কোরআন-হাদিসের পাশাপাশি ইলমে কেরাত, রিজাল শাস্ত্র, আরবি ব্যাকরণ মুসলমান ছাত্রদের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়। আব্বাসি খেলাফতকালে তর্কশাস্ত্র, ইলমে কালাম, সরফ, বালাগাত ইসলামি শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত হয়। এছাড়া চিকিৎসা, গণিত, রসায়ন, সৌরবিজ্ঞান, ভূগোল, জ্যামিতি সংক্রান্ত শিক্ষাদীক্ষার প্রচলন আরম্ভ হয়। ৭০০ হিজরির প্রারম্ভে কুতুবুদ্দিন আইবেকের শাসনামলে মুলতানে দীনি মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। ৮০০ হিজরির দিকে গোটা ভারতে অগণিত মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে। সুলতান মুহাম্মদ তুঘলকের শাসনকালে দিল্লীতে মোট মাদরাসার সংখ্যা ছিল এক হাজার। তাছাড়া ইবনে বতুতার বর্ণনানুযায়ী ভারতের ‘হনু’ নামক স্থানে মোট তেরোটি মহিলা মাদরাসা ছিল।
মুঘল শাসনামলে এত ব্যাপকহারে মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে যে, সেই সময় কেবল বাংলাদেশেই মাদরাসার সংখ্যা ছিল আশি হাজার। (সূত্র: বিস্তারিত বিবরণÑ ‘দেওবন্দ আন্দোলন : ইতিহাস ঐতিহ্য অবদান’ নামক কিতাবে)
১৮৫৭ সালে সিপাহি বিপ্লবের ব্যর্থতার পর ব্রিটিশ সরকারের হস্তক্ষেপে মুসলমানদের ধর্মীয় অস্তিত্ব চরম সংকটে পড়ে এবং ইসলামি শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে যায়। তখন পশ্চিমা শিক্ষা ও সংস্কৃতির আগ্রাসনের প্রভাবে মুসলিম জাতির ধর্মীয় স্বকীয়তা চরম হুমকির মুখে পড়ে। যখন এমন খারাপ সময় যাচ্ছিল, ঠিক তখনই মাথা উঁচু করে দাঁড়ায় ঐতিহ্যবাহী ও প্রাতিষ্ঠানিক কওমি মাদরাসা ‘দারুল উলুম দেওবন্দ’।
১৮৬৬ সালের ৩০ মে তদানীন্তন অখণ্ড ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলার দেওবন্দে হজরত কাসেম নানতুভি রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও তাঁর সহযোগীদের নেতৃত্বে এই মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ছিল স্বাধীন ও স্বতন্ত্র একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যা কোনো সরকারি সাহায্য ছাড়াই সাধারণ মুসলিম জনতার সরাসরি দানে পরিচালিত হয়। ফলে ব্রিটিশদের প্রভাবমুক্ত থেকে সঠিক ইসলামি শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচার ও প্রসার সম্ভব হয়।
দারুল উলুম দেওবন্দের ছয় মাস পর প্রতিষ্ঠিত হয় আরেক কওমি মাদরাসা ‘মুজাহেরুল উলুম’। এরপর থেকে বিভিন্ন জায়গায় ও বিভিন্ন দেশে অসংখ্য কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় ১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম কওমি মাদ্রাসা ‘দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী।’ এ মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশে কওমি মাদরাসার সংখ্যা দ্বিগুণ বাড়তে থাকে এবং এখনও বাড়ছে।
সরকারের কোনোরূপ হস্তক্ষেপ ব্যতীত সরাসরি জনগণের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত হয় বলে এ জাতীয় মাদরাসাগুলোকে ‘কওমি মাদরাসা’ নামে অভিহিত করা হয়। সিলেবাসসহ সেগুলোর সার্বিক দিক হক্কানি উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে নিয়ন্ত্রিত হয়। মূলত সঠিক ইসলামি শিক্ষা ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য এই নীতিমালা গ্রহণ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআন, কোরআনের তাফসির, হাদিসশাস্ত্র, সিরাতুন্নবি, ফিকহ, আরবি সাহিত্য, আরবি ব্যাকরণ ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বর্তমান কওমি শিক্ষা সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত। কওমি মাদরাসায় পড়ুয়া একটি বাচ্চাও একদম শুদ্ধভাবে কোরআন পড়তে পারে, নির্ভুলভাবে অর্থসহ হাদিস শুনাতে পারে। নামাজ পড়ার বিধান, সুরা-কেরাত সব তাদের আত্মস্থ থাকে। অথচ সমাজে এমন অনেক মানুষ আছে, যাদের বয়স অর্ধেক পেরিয়ে গেছে; কিন্তু শুদ্ধভাবে কালেমাটাও উচ্চারণ করতে পারে না।
বর্তমান কওমি মাদরাসাগুলোতে যে শুধু আরবিই পড়ানো হয়, তা নয়। বরং সেখানে আরও পড়ানো হয় বাংলা সাহিত্য, বাংলা ব্যাকরণ, ইংলিশ লিটারেচার, ইংলিশ গ্রামার, পাটিগণিত-বীজগণিত-জ্যামিতির সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ গণিত বই, উর্দু, ফারসি, ইতিহাস, তর্কশাস্ত্রসহ আরো নানা বিষয়ক বই। অবশ্য উপরের ক্লাসগুলোতে কোরআন, হাদিস ও ফিকহ বিষয়ক উচ্চতর কিতাবসসমূহ পড়ানো হয়। সেসব কিতাবে গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য অধ্যায়ের পাশাপাশি অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কিত অনেক অধ্যায় রয়েছে। সেগুলো অধ্যয়ন করে একজন কওমি শিক্ষার্থী শিখতে পারে, সমগ্র মানুষের জ্ঞানদাতা মহাজ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময় মহান আল্লাহর দেখানো পথ অনুসরণ করে কীভাবে শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র ও সমাজ গঠন করা যায় এবং কীভাবে অর্থনীতিতে সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করা যায়?
কওমি মাদরাসার বাংলা-ইংলিশ সাহিত্যের বইয়ে অনৈতিক কোনো কল্প-কাহিনী পড়ানো হয় না, স্রেফ ছন্দকে প্রাধান্য দিয়ে উদ্দেশ্যবিহীন কোনো কবিতা-ছড়া পড়ানো হয় না। বরং এমন গল্প-ঘটনা ও ছড়া-কবিতাকে সেসব সাহিত্যের বইয়ে স্থান দেওয়া হয়, যেগুলো থেকে শিক্ষার্থীরা ভাষা চর্চার পাশাপাশি উত্তম নৈতিকতার দীক্ষাও লাভ করে। ইতিহাসের বই চয়ন করার ক্ষেত্রে কওমি মাদরাসাওয়ালাগণ বড় সতর্কতা অবলম্বন করেছেন; যেন বিকৃত ইতিহাসের নাপাক ছিঁটেফোঁটা থেকে কোমলপ্রাণা শিক্ষার্থীরা নিরাপদ থাকে। তাদেরকে শিক্ষা দেওয়া হয় ইসলামি ইতিহাস ও ঐতিহ্য। যেন তাদের মন-মগজে ইসলামি ইতিহাসের প্রধান চরিত্র মুসলিম মনীষিগণের সুন্দর আদর্শ বদ্ধমূল হয়। অমুসলিমদের ইতিহাস সম্বলিত বই-পুস্তক থেকে তাদেরকে দূরে রাখা হয়।
কওমি মাদরাসা অধিক প্রশংসাযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো, তার অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য। তা হলোÑ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম রাযিয়াল্লাহু আনহুম ও পূর্বযুগের শিক্ষাদানের পদ্ধতি অবলম্বন করে শিক্ষার্থীদেরকে শেখানোর পাশাপাশি আমলদার বানানো এবং তাঁদের মনে আল্লাহর ভয় জাগিয়ে তোলা। তাই তো কওমি মাদরাসায় পড়ুয়া আলেমগণ দেশের শ্রেষ্ঠ নাগরিক এবং সমাজের সবচেয়ে ভালো ও শান্তিপূর্ণ মানুষ।
লেখক: প্রাবন্ধিক, আলেমা

