সংগৃহীত
ইসলামে কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আমল। কোরআন ও হাদিসে কোরবানির ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে অনেকের প্রশ্ন থাকে- কী পরিমাণ সম্পদ থাকলে কোরবানি ওয়াজিব হয়?
জনপ্রিয় ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার জানান, প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়, যদি তিনি ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন।
কোন সম্পদ হিসাব করা হবে?
কোরবানির নেসাব নির্ধারণে যেসব সম্পদ হিসাবযোগ্য-
নগদ টাকা-পয়সা, সোনা-রূপা, স্বর্ণালংকার, ব্যবসায়িক পণ্য, প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি, অতিরিক্ত বাড়ি বা ফ্ল্যাট, অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও মূল্যবান সামগ্রী।
অর্থাৎ বসবাসের ঘর, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বা দৈনন্দিন খরচের সম্পদ এতে ধরা হবে না।
নেসাব কত?
ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী কোরবানির নেসাব হলো-
সাড়ে ৭ ভরি স্বর্ণ, অথবা সাড়ে ৫২ ভরি রূপা, অথবা এ পরিমাণ রূপার বাজারমূল্যের সমপরিমাণ নগদ অর্থ বা সম্পদ।
যদি কারও কাছে আলাদাভাবে এত টাকা, সোনা বা রূপা না থাকে, কিন্তু একাধিক সম্পদের সম্মিলিত মূল্য নেসাব পরিমাণ হয়ে যায়, তাহলেও তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে।
নেসাবের মেয়াদ
কোরবানির জন্য পুরো বছর নেসাব থাকা শর্ত নয়। বরং কোরবানির নির্ধারিত তিন দিনের (১০, ১১ ও ১২ জিলহজ) মধ্যে যে কোনো সময় নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে কোরবানি ওয়াজিব হবে।
কোরবানি দিতে না পারলে কী করবেন?
যদি কেউ সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানির দিনগুলোতে কোরবানি না করতে পারেন-
পশু না কিনে থাকলে একটি ছাগলের সমপরিমাণ মূল্য সদকা করতে হবে।
পশু কিনে ফেলেও কোরবানি করতে না পারলে পশুটি জীবিত অবস্থায় সদকা করে দিতে হবে।
হাদিসে এসেছে, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি কোরবানি করে না, তার জন্য কঠোর সতর্কবাণী রয়েছে। তাই সামর্থ্যবান মুসলমানদের উচিত এই ইবাদত যথাযথভাবে আদায় করা।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

