সংগৃহীত
পবিত্র কাবা শরীফ ও মসজিদুল হারাম মক্কা উপত্যকার একেবারে কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হওয়াকে ইসলামের ইতিহাস, ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য এবং মানবসভ্যতার বিকাশ—সব দিক থেকেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সময় থেকেই এই স্থান পবিত্র কাবা নির্মাণের জন্য নির্ধারিত ছিল।
সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, মক্কা মূলত জাবাল আল-সারওয়াত পর্বতমালার মধ্যে অবস্থিত ইব্রাহিম উপত্যকার একটি সংকীর্ণ পথঘেরা অঞ্চল। চারপাশে সুউচ্চ পাহাড় থাকলেও মসজিদুল হারামের অবস্থান নিচু ও সমতল ভূমিতে, যা প্রাকৃতিকভাবে এটিকে উপত্যকার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে।
পবিত্র এই মসজিদকে ঘিরে রয়েছে বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক পাহাড়। পূর্বদিকে জাবাল আবু কুবাইস এবং পশ্চিমে জাবাল কুইকাইন। এছাড়া জাবাল নূর ও জাবাল সওরও মক্কার ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করে।
ভূতাত্ত্বিকভাবে মক্কা আরব শিল্ড বা আরবীয় ঢালের অংশ। এ অঞ্চলের ভূমি গঠিত হয়েছে প্রাচীন আগ্নেয় শিলা ও গ্রানাইট পাথর দিয়ে, যা একে অনন্য ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উপত্যকার স্বাভাবিক গঠন অতীতে আরব উপদ্বীপে বাণিজ্য কাফেলার যাতায়াতের জন্য সহজ পথ তৈরি করেছিল। ফলে মক্কা ধীরে ধীরে বাণিজ্য, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে।
এনসাইক্লোপিডিয়া অব সৌদি অ্যারাবিয়ার তথ্যমতে, ভৌগোলিক কৌশলগত অবস্থান এবং ধর্মীয় মর্যাদার কারণে মক্কা যুগ যুগ ধরে বিশ্বের মুসলমানদের মিলনস্থল হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে আসছে।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

