বাউল গান যুগ যুগ ধরে বাঙালি সংস্কৃতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বহুকাল ধরে এ জাতীয় গান বাঙালি সংস্কৃতিকে প্রাণবন্ত করে এসেছে এবং এখনো করছে। তবে বর্তমানে এর ধারা অতীতের চেয়ে অনেকটাই নিম্নমুখী এবং তা ক্রমে ক্রমে আরও হ্রাস পাচ্ছে। এর বহুবিধ কারণ রয়েছে। কতিপয় অনুমেয় কারণ নিচে আলোকপাত করা হলো:
১. শিক্ষিত লোকজন সাধারণত বাউল গানের তেমন ভক্ত হন না।
২. বাউলরাও ঠিক আগের মতো সাধনায় লিপ্ত না হয়ে সাময়িকভাবে এ পেশায় আসেন।
৩. বর্তমান পৃথিবীর প্রেক্ষাপটে বাউল শিল্পী হওয়ার ইচ্ছা বেশির ভাগ শিল্পীরই হয় না।
৪. ব্যান্ড, পপ ইত্যাদি জাতীয় গান যখন সারা পৃথিবী মাতাচ্ছে, তখন বাউল শিল্পী হওয়ার আগ্রহ খুব কম শিল্পীরই থাকে।
৫. তরুণ প্রজন্ম বাউল গানের প্রতি তেমন আকৃষ্ট নয়।
৬. বাউল গানের বেশির ভাগ আসর গ্রামেই বসে। বর্তমানে গ্রামের অধিকাংশ মানুষ ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে পাড়ি দেওয়ায় বাউল গানের দর্শক-শ্রোতার সংখ্যা কমেছে।
৭. আলেম-ওলামারা সাধারণত প্রচলিত বাউল গানের আসরের বিরোধিতা করেন।
২. নারী বাউলদের পরিবেশনা: একটি বাউল গানের আসরে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়। সেখানে একজন নারীর প্রকাশ্যে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে ও নৃত্য করে গান পরিবেশন করা আলেমদের দৃষ্টিতে শরিয়তসম্মত নয়।
৩. অনৈতিক কর্মকাণ্ড: বাউল গানের আসরের আড়ালে অনেক সময় জুয়ার আসর বসে, যা ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম। এসব জুয়া নিয়ে অনেক সময় বড় ধরনের বিবাদও ঘটে।
৪. নেশার প্রভাব: আসরের আশেপাশে অনেক সময় প্রকাশ্যে ধূমপানসহ মদ, গাঁজা ইত্যাদি নেশাজাতীয় দ্রব্যের ব্যবসা ও ব্যবহার চলে। এসব কারণে মানুষের মধ্যে নৈতিক ও ঈমানি চেতনা হ্রাস পায়।
উপসংহার:
বেশিরভাগ বাউল গানের কথাই খুব সুন্দর ও গভীর। ইসলামি চিন্তাবিদদের গবেষণার মাধ্যমে যদি বাদ্যযন্ত্রের অপব্যবহার ও অনৈতিক পরিবেশ পরিহার করে বাউল গানের প্রচার করা সম্ভব হয়, তবে এটি অপসংস্কৃতির মোড়ক থেকে বেরিয়ে সুস্থ সংস্কৃতির ধারায় ফিরবে। এতে করে দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণকামী মানুষ উপকৃত হতে পারবে।
লেখক: সহকারী শিক্ষক, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড উচ্চ বিদ্যালয়, রাজেন্দ্রপুর, গাজীপুর।

