সংগৃহীত
পবিত্র কাবা শরীফ প্রদক্ষিণ করাকে তাওয়াফ বলা হয়। তাওয়াফ মুসলমানদের জন্য অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আধ্যাত্মিক ইবাদত। হজ ও ওমরার ক্ষেত্রে তাওয়াফ করা বাধ্যতামূলক হলেও এর বাইরে ‘নফল তাওয়াফ’ করার সুযোগ রয়েছে, যা সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক।
মসজিদুল হারামে অবস্থানকালে যে কেউ যেকোনো সময় নফল তাওয়াফ করতে পারেন। হজ বা ওমরার মতো এর জন্য ইহরাম বাঁধার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। মূলত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ক্ষমা প্রার্থনা এবং রহমত লাভের উদ্দেশ্যেই এই ইবাদত করা হয়। মক্কায় অবস্থানকালীন অবসরে নফল তাওয়াফ সওয়াব অর্জনের এক অনন্য মাধ্যম।
নফল তাওয়াফ কী?
নফল শব্দের অর্থ হলো অতিরিক্ত বা ঐচ্ছিক। ফরজ বা ওয়াজিব ইবাদতের বাইরে নিজের ইচ্ছায় যে তাওয়াফ করা হয়, তাকেই নফল তাওয়াফ বলে। যারা মক্কায় অবস্থান করেন, তাদের জন্য নফল তাওয়াফ অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। এই তাওয়াফে ইহরাম পরতে হয় না এবং তাওয়াফ শেষে সাঈ (সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে দৌঁড়ানো) করারও প্রয়োজন নেই। শারীরিক সামর্থ্য অনুযায়ী দিনে যতবার খুশি নফল তাওয়াফ করা যায়।
ওমরাহ ও নফল তাওয়াফের পার্থক্য
ওমরাহ ও নফল তাওয়াফ দেখতে একই মনে হলেও এদের মধ্যে মৌলিক কিছু পার্থক্য রয়েছে:
১. ওমরাহর সময় তাওয়াফ বাধ্যতামূলক, কিন্তু নফল তাওয়াফ ঐচ্ছিক।
২. ওমরাহর তাওয়াফে ইহরাম পরিধান করা জরুরি, নফল তাওয়াফে সাধারণ পোশাকেই অংশ নেওয়া যায়।
৩. ওমরাহর ক্ষেত্রে তাওয়াফ শেষে সাঈ করতে হয়, নফল তাওয়াফে সাঈ নেই।
৪. ওমরাহর উদ্দেশ্য হলো ওমরাহর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা, আর নফল তাওয়াফের উদ্দেশ্য হলো শুধু আল্লাহর নৈকট্য লাভ।
নফল তাওয়াফের নিয়ম
নফল তাওয়াফ করা অত্যন্ত সহজ। এর ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো:
নিয়ত করা: প্রথমেই মনে মনে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নফল তাওয়াফের নিয়ত করতে হবে।
অজু করা: তাওয়াফ করার জন্য অবশ্যই অজু অবস্থায় থাকতে হবে।
শালীন পোশাক:পরিচ্ছন্ন ও শালীন পোশাক পরতে হবে। তবে ইহরাম জরুরি নয়।
শুরু ও শেষ: হাজরে আসওয়াদ বা কালো পাথরকে সামনে রেখে বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে তাওয়াফ শুরু করতে হবে। সাতবার প্রদক্ষিণ করলে একটি তাওয়াফ পূর্ণ হয়।
দোয়া ও জিকির: তাওয়াফকালে যেকোনো দোয়া, জিকির বা কোরআন তেলাওয়াত করা যায়। নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করাও যায়।
নামাজ ও জমজম: সাত চক্কর শেষ করার পর মাকামে ইব্রাহিমের পেছনে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা সুন্নত। এরপর জমজমের পানি পান করে দোয়া করা উত্তম।
তাওয়াফ কখন বাতিল হয়?
কিছু সুনির্দিষ্ট কারণে নফল তাওয়াফ বাতিল হয়ে যেতে পারে:
তাওয়াফ চলাকালীন অজু ভেঙে গেলে।
সাত চক্করের কম সম্পন্ন করলে।
উল্টো দিকে অর্থাৎ ঘড়ির কাঁটার দিকে প্রদক্ষিণ করলে।
হাজরে আসওয়াদ ছাড়া অন্য কোনো স্থান থেকে শুরু করলে।
নফল তাওয়াফের ফজিলত
নফল তাওয়াফের প্রতিটি কদমে সওয়াব রয়েছে। এটি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত। অনেক আলেমদের মতে, একবার তাওয়াফ করা একটি পূর্ণ সালাত বা নামাজের সমান সওয়াব হয়। তাওয়াফ মনকে শান্ত করে এবং আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ককে আরও গভীর করে তোলে।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

