Logo

ধর্ম

জিলহজের প্রথম ১০ দিন: যেসব আমলে বাড়বে নেকি ও আল্লাহর নৈকট্য

Icon

ধর্ম ডেস্ক:

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ১৭:৫৭

জিলহজের প্রথম ১০ দিন: যেসব আমলে বাড়বে নেকি ও আল্লাহর নৈকট্য

সংগৃহীত

ইসলামি বর্ষপঞ্জির অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ মাস হলো জিলহজ। বিশেষ করে এই মাসের প্রথম ১০ দিন মহান আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় ও ফজিলতপূর্ণ। সহিহ বুখারির হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, বছরের অন্য যেকোনো দিনের তুলনায় এই দিনগুলোর আমল আল্লাহ তায়ালার কাছে অধিক প্রিয়। বছরের শেষ দশ রাত যেমন শ্রেষ্ঠ রজনী হিসেবে বিবেচিত, তেমনি জিলহজের প্রথম দশ দিন হলো বছরের শ্রেষ্ঠ দিনসমূহ।

একজন মুসলমান হজে যান বা না যান- এই বরকতময় দিনগুলোতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমলের মাধ্যমে বিপুল সওয়াব অর্জন করতে পারেন। নিচে এমন ১০টি আমল তুলে ধরা হলো- 

১. বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করা

হজ পালনকারীরা তালবিয়া পাঠ করবেন। আর যারা হজে যাননি, তারা অধিক পরিমাণে আল্লাহর জিকির, তাহলিল, তাকবির ও তাসবিহ পাঠ করতে পারেন।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের প্রশান্তি লাভ হয়।”— (সুরা রাদ, আয়াত: ২৮)

হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমার জিহ্বা যেন সর্বদা আল্লাহর জিকিরে সজীব থাকে।”— (তিরমিজি)

২. দান-সদকা করা

এই দিনগুলোতে সাধ্যমতো দান-সদকা করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। অর্থ, খাদ্য, পোশাক কিংবা সেবামূলক কাজ—সব ধরনের দানই আল্লাহর কাছে প্রিয়।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, “যারা আল্লাহর পথে দিনে ও রাতে, গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তাদের জন্য রয়েছে প্রতিদান।” — (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৭৪)

৩. আরাফার দিনের রোজা রাখা

জিলহজের ৯ তারিখ অর্থাৎ আরাফার দিনের রোজা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। মুসলিম শরিফের হাদিস অনুযায়ী, এই রোজা বিগত এক বছর ও আগামীর এক বছরের গুনাহের কাফফারা হতে পারে।

৪. চাশতের নামাজ আদায় করা

সূর্যোদয়ের পর থেকে যোহরের আগ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অন্তত দুই রাকাত চাশতের নামাজ আদায় করা উত্তম আমল। এটি নফল ইবাদতের গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম।

৫. প্রতিবেশীদের ঈদের উপহার দেওয়া

ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের উপহার দিন। এতে ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়।

৬. বেশি বেশি দোয়া করা

বিশেষ করে আরাফার দিনে আন্তরিকভাবে দোয়া করুন। হাদিসে এসেছে, আরাফাত দিবসের দোয়া সবচেয়ে উত্তম দোয়া।

৭. সামর্থ্য থাকলে হজ পালন করা

জিলহজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো হজ। যাদের সামর্থ্য রয়েছে, তাদের জন্য হজ আদায় করা ফরজ। আর যাদের এ বছর সম্ভব নয়, তারা ভবিষ্যতে হজ পালনের নিয়ত করতে পারেন।

৮. মানুষের সঙ্গে কোমল আচরণ করা

পরিবার, আত্মীয় ও সমাজের মানুষের সঙ্গে নম্রতা ও সৌজন্যমূলক আচরণ করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। সুন্দর ব্যবহারও একটি উত্তম ইবাদত।

৯. কোরবানি আদায় করা

সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। কোরবানির মাধ্যমে ত্যাগের শিক্ষা অর্জিত হয় এবং অভাবী মানুষের মুখে হাসি ফোটে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আল্লাহর কাছে পৌঁছে না কোরবানির গোশত কিংবা রক্ত; বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।” — (সুরা হজ, আয়াত: ৩৭)

১০. অন্যকে ভালো কাজে উৎসাহিত করা

পরিবার, বন্ধু ও পরিচিতদের এই দিনগুলোর ফজিলত সম্পর্কে জানানো এবং ভালো কাজে উৎসাহ দেওয়া একটি মহৎ আমল। হাদিসে এসেছে, কেউ ভালো কাজের পথ দেখালে সে সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করে।

পবিত্র জিলহজের এই মহিমান্বিত দিনগুলো ইবাদত, ত্যাগ, দোয়া ও মানবসেবার মাধ্যমে অতিবাহিত হোক—এটাই হোক প্রত্যাশা।

বাংলাদেশেরখবর/আরকে

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন