Logo

ধর্ম

জন্মনিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইসলামের বিধান কী? জানালেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

Icon

ধর্ম ডেস্ক:

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১৬:৫১

জন্মনিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইসলামের বিধান কী? জানালেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

সংগৃহীত

সন্তান মানুষের জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। ইসলাম সন্তানকে আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ হিসেবে বিবেচনা করে। তবে পারিবারিক, শারীরিক বা চিকিৎসাজনিত বিভিন্ন কারণে অনেক দম্পতি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সন্তান গ্রহণে বিরতি নিতে চান। এ ক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশনা কী—এ নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে।

জন্মনিয়ন্ত্রণ ও স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ বিষয়ে সম্প্রতি এক প্রশ্নের জবাবে মতামত দিয়েছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।

প্রশ্নকারী জানান, তার সন্তানের বয়স ১৪ মাস এবং স্ত্রী সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিয়েছেন। চিকিৎসাগত কারণে তিনি আগামী চার থেকে পাঁচ বছর সন্তান নিতে চান না। এ অবস্থায় জন্মনিয়ন্ত্রণ ইমপ্লান্ট বা অন্যান্য সাময়িক পদ্ধতি ব্যবহার করা ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ কি না—সেটিই ছিল তার প্রশ্ন।

জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, যদি চিকিৎসক মনে করেন যে দ্রুত পুনরায় গর্ভধারণ করলে মায়ের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, তাহলে সাময়িক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

তার মতে, স্থায়ীভাবে সন্তান জন্মদানের সক্ষমতা নষ্ট করে দেওয়া—যেমন বন্ধ্যাকরণ বা টিউবেকটমি—ইসলামে অনুমোদিত নয়। তবে চিকিৎসাগত প্রয়োজন, শারীরিক দুর্বলতা বা অন্য কোনো গ্রহণযোগ্য কারণে স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্মতিতে সাময়িকভাবে সন্তান গ্রহণে বিরতি নেওয়া বৈধ হতে পারে।

ইসলামে জন্মনিয়ন্ত্রণ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক

স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ:

স্থায়ীভাবে সন্তান উৎপাদনের ক্ষমতা নষ্ট করে দেয় এমন পদ্ধতি সাধারণভাবে ইসলামী শরিয়তে গ্রহণযোগ্য নয় বলে অনেক আলেম মত দিয়েছেন।

সাময়িক জন্মনিয়ন্ত্রণ:

মায়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, শারীরিক দুর্বলতা বা চিকিৎসকের পরামর্শে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সন্তান গ্রহণে বিরতি দেওয়া বৈধ বলে অনেক ইসলামী গবেষক মত প্রকাশ করেছেন।

রিজিকের ভয়ে সন্তান না নেওয়া:

শুধু আর্থিক সংকট, ভবিষ্যৎ ব্যয় বা রিজিকের আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে সন্তান গ্রহণ থেকে বিরত থাকাকে ইসলাম নিরুৎসাহিত করে। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতিটি সৃষ্টির রিজিকের দায়িত্ব মহান আল্লাহর ওপর ন্যস্ত।

তবে এ বিষয়ে ইসলামী আইনবিদদের মধ্যে বিভিন্ন পরিস্থিতি ও মাযহাবভেদে কিছু মতপার্থক্যও রয়েছে। তাই ব্যক্তিগত বা জটিল চিকিৎসাগত ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত আলেম এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করাই উত্তম বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশেরখবর/আরকে

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন