Logo

ধর্ম

শান্তির মহাসড়ক তাহাজ্জুদ

Icon

মুফতি ফয়েজ হাবীব

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৬:০৯

শান্তির মহাসড়ক তাহাজ্জুদ

তাহাজ্জুদ শব্দটি গভীর রাতের সাথে গভীর সম্পর্ক রাখে৷ রাত গভীর হলেই তাহাজ্জুদের ওয়াক্ত হয়। হৃদয়ের আবেগ ঢেলে প্রেমপেয়ালা পরিপূর্ণ করার সময় হলো তাহাজ্জুদ। সেজদায় রবের কাছে গিয়ে প্রেমালাপের উত্তম তরীকা তাহাজ্জুদ। 

মনের ভাষাগুলো চোখ দিয়ে বের করে হাতে ও মুখে শান্তি মাখানোর নাম-ই তাহাজ্জুদ। এ সময় রব বান্দার খু্ব কাছাকাছি চলে আসেন। বান্দারও সুযোগ থাকে রবকে কাছে পেয়ে সকল হাজত তুলে ধরার৷ দুনিয়াবাসী এ সময় ঘুমের কোলে পরম আরামে থাকে। আরশ থেকে নামা রবের বিশেষ রহমত পেতে বান্দার আরাম বিসর্জন দেওয়া জরুরি। ইবাদত যত ত্যাগ ও মেহনতময় হবে তত লাভজনক হবে এর ফল। 

হাদিস শরিফে রাসুলে মাকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "ফরজ নামাজের পর সবচে ফযিলতপূর্ণ নামাজ হলো রাতের নামাজ।" (সহিহ মুসলিম: ১১৬৩) 

গোনাহ মাফ, নৈকট্যলাভ, ও মন ভালো রেখে মন্দতা থেকে দূরে থাকার অন্যতম পথ হলো রাতের নামাজ। হাদিস শরিফে রাসুলে মাকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "তোমাদের কিয়ামুল লাইল বা রাতের নামাজ আদায় করা উচিত। কারণ, রাতে ইবাদত করা তোমাদের পূর্ববর্তী নেক লোকদের রীতি। এটি তোমাদের প্রতিপালকের নৈকট্য লাভের পথ, গোনাহ মাফের উপায় এবং অপরাধ-অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকার মাধ্যম।" (সহিহ ইবনে খুযাইমা: ১১৩৫)  

পৃথিবীর প্রাসাদ মাঠির উপর দাঁড়িয়ে থাকে৷ আর মাটিও ইসরাফিল আ. এর ফুৎকারের ইনতিযারে আছে। আকাশ-মাটি সব ধ্বংস হবে। দুনিয়ার প্রাসাদ দুনিয়ার চোখে নামমাত্র সুন্দর। কিন্তু রাতজাগা ইবাদতকারীদের জন্য রয়েছে অবর্ণনীয় সুন্দরের জান্নাতি চিরস্থায়ী প্রাসাদ। 

আলি রাযি. থেকে বর্ণিত; রাসুলে মাকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "জান্নাতের মধ্যে প্রাসাদগুলো এমন হবে যে, এর ভেতর থেকে বাইরের সব কিছু দেখা যাবে এবং এর বাইরে থেকে ভেতরের সব কিছু দেখা যাবে না। এক বেদুইন দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করলো, হে আল্লাহর রাসূল! এসব কাদের জন্য?

তিনি বললেন, যারা মানুষদের সাথে নরম কথা বলে, ক্ষুধার্তকে খাবার দেয়, সিয়াম পালন করে এবং রাতে মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন নামাজ আদায় করে।" (সুনানে তিরমিজি: ২৫২৭)

আমরা মানুষ। আল্লাহর বান্দা। তিনি জানেন আমরা অপরাধ করতে পারি! তাই তিনিই ক্ষমার অপার সুযোগ রেখে তাহাজ্জুদের সময় নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে আমাদের ডাকতে থাকেন।

সাহাবি আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত; রাসূলে মাকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে আমাদের পরওয়ারদিগার আমাদের নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেন- কেউ আছে কী! যে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেবো। কেউ আছে কী! যে আমার কাছে কিছু চাইবে, আমি তাকে তা দিয়ে দেব। কেউ আছে কী! যে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেবো।" (সহিহ বুখারি: ৬৩২১)

প্রকৃত মুমিন শেষ রাতে ঘুমিয়ে থাকতে পারে না। তাহাজ্জুদকে সেতু বানিয়ে সেজদার বাহনে চড়ে চলে যায় মহান রবের দরবারে। আল্লাহর দরবারের চাইতে উত্তম গন্তব্য মুমিমের আর কী হতে পারে! রব আমাদের সবাইকে কবুল করুন। আমীন

লেখক: মুদাররিস, জামিয়া রিয়াজুল উলূম, ত্রিশাল, মোমেনশাহী। 

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন