Logo

ধর্ম

‘অপবাদ’: অজান্তেই কবিরা গুনাহে জড়িয়ে পড়ছেন অনেকেই

Icon

ধর্ম ডেস্ক:

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ১৯:১৮

‘অপবাদ’: অজান্তেই কবিরা গুনাহে জড়িয়ে পড়ছেন অনেকেই

সংগৃহীত

কবিরা গুনাহ বা বড় গুনাহ ইসলামে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। একটি কবিরা গুনাহও মানুষের পরকালীন মুক্তির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অনেক মুসলমান প্রতিদিন এমন কিছু গুনাহে লিপ্ত হচ্ছেন, যেগুলোকে তারা গুনাহ বলেই মনে করেন না। এসবের মধ্যে অন্যতম হলো অপবাদ দেওয়া—যা বর্তমানে অনলাইন ও অফলাইন উভয় ক্ষেত্রেই আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অপবাদ কী?

আরবি পরিভাষায় অপবাদকে ‘বুহতান’ বলা হয়। এর অর্থ হলো কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে মিথ্যা, ভিত্তিহীন বা অসত্য অভিযোগ আরোপ করা। যেমন—কেউ চুরি না করলেও তাকে চোর বলা, কোনো ব্যক্তি অসৎ না হয়েও তাকে অসৎ আখ্যা দেওয়া, কিংবা প্রমাণ ছাড়া কাউকে বিভিন্ন অপবাদে অভিযুক্ত করা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপবাদের বিস্তার

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অপবাদ ছড়ানোর অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ফেসবুক, ইউটিউব কিংবা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে মতের অমিল বা ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে অনেককে ‘ইহুদিদের দালাল’, ‘খ্রিস্টানদের দালাল’, ‘ফেতনাবাজ’সহ বিভিন্ন নেতিবাচক উপাধিতে আখ্যায়িত করা হচ্ছে।

ইসলামি শিক্ষার আলোকে, কারও সম্পর্কে এমন অভিযোগ যদি সত্য না হয়, তাহলে তা সরাসরি অপবাদ হিসেবে গণ্য হবে এবং অপবাদদাতা কবিরা গুনাহে লিপ্ত হবেন। শুধু তাই নয়, মিথ্যা অভিযোগ সম্বলিত পোস্ট, মন্তব্য বা শেয়ারের মাধ্যমে যত মানুষের কাছে তা পৌঁছাবে, ততই এর গুনাহের পরিধি বাড়তে থাকবে।

দুঃখজনক হলেও সত্য, এ ধরনের গুনাহ শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; অনেক দ্বীনদার ও ধর্মপ্রাণ মানুষও কখনো কখনো এ অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন।

কোরআনে অপবাদের কঠোর নিন্দা

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—“যারা বিনা অপরাধে মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও পাপের বোঝা বহন করে।”-(সুরা আহযাব: ৫৮)

অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন—“যারা সতী-সাধ্বী, নিরীহ ও ইমানদার নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারা ইহকাল ও পরকালে অভিশপ্ত এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।”-(সুরা নূর: ২৩)

হাদিসে অপবাদের ভয়াবহ পরিণতি

অপবাদের শাস্তি সম্পর্কে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন—“যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের ওপর এমন মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে, যা তার মধ্যে নেই, সে তার কথার পরিণতি থেকে মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত জাহান্নামের কাদার মধ্যে অবস্থান করবে।”-(আবু দাউদ, হাদিস: ৩৫৯৭)

হাদিসের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে, জাহান্নামের এই কাদা বলতে জাহান্নামিদের পুঁজ, রক্ত ও অন্যান্য নিকৃষ্ট বস্তুকে বোঝানো হয়েছে।

শুধু তওবা যথেষ্ট নয়

ইসলামি শিক্ষামতে, অপবাদের গুনাহ থেকে মুক্তির জন্য শুধু আল্লাহর কাছে তওবা করাই যথেষ্ট নয়। যাকে অপবাদ দেওয়া হয়েছে, তার কাছ থেকেও ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় কিয়ামতের দিন অপবাদদাতার নেক আমল ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হবে।

যদি নেক আমল শেষ হয়ে যায়, তাহলে মজলুম ব্যক্তির গুনাহ অপবাদদাতার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে—যা পরকালীন শাস্তিকে আরও ভয়াবহ করে তুলবে।

সচেতনতার আহ্বান

বিশেষজ্ঞ আলেমরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য, অভিযোগ বা মন্তব্য প্রকাশের আগে তার সত্যতা যাচাই করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষারোপ করা শুধু সামাজিক অস্থিরতাই সৃষ্টি করে না, বরং মানুষকে মারাত্মক গুনাহের দিকেও ঠেলে দেয়।

অতএব, কথা, লেখা, পোস্ট কিংবা শেয়ারের মাধ্যমে কারও সম্মানহানি হয় এমন কোনো তথ্য প্রচারের আগে সতর্ক হওয়া জরুরি। আল্লাহ তাআলা যেন সবাইকে অপবাদ ও মিথ্যা অভিযোগের মতো ভয়াবহ গুনাহ থেকে হেফাজত করেন। আমিন।

বাংলাদেশেরখবর/আরকে

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন