Logo

ধর্ম

বিস্ময়কর মহাগ্রন্থ আল-কোরআন

Icon

জনি সিদ্দিক

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৬:৫৪

বিস্ময়কর মহাগ্রন্থ আল-কোরআন

আল-কোরআন ইসলাম ধর্মের মূল ভিত্তি। মানবজীবনের পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা। এটি আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে প্রেরিত এক অনন্য অলৌকিক গ্রন্থ , যা শুধু ধর্মীয় উপদেশ নয় বরং একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। কোরআনের প্রত্যেকটি শব্দ, অক্ষর এবং অর্থে রয়েছে এমন গভীরতা ও প্রজ্ঞা যা মানবমস্তিষ্ককে চিন্তা ও গবেষণার জন্য আহ্বান করে।

কোরআনের গঠন শৈলী

প্রায় ১৪০০ বছর আগে নিরক্ষর মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে এই কোরআন অবতীর্ণ হয়েছিলো। তখনকার যুগে বিজ্ঞান, দর্শন, রাজনীতি কিংবা সমাজব্যবস্থা আজকের মতো এতো উন্নত ছিল না, অথচ কোরআনের ভাষা, শৈলী ও ভাব এত উচ্চমানের যে, সে সময়ের শ্রেষ্ঠ কবি ও সাহিত্যিকরাও তা অনুকরণ করে তৈরি করতে পারেননি। কোরআনের এই ভাষাগত সৌন্দর্যই প্রমাণ করে এটি কোনো মানব রচিত গ্রন্থ হতে পারে না। বরং এটি আল্লাহর কিতাব।

আল-কোরআনের নির্দেশনা

কোরআনের নির্দেশনাগুলো শুধু মুসলমানদের জন্য নয় বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রযোজ্য। এটি মানুষকে ন্যায়, দয়া, শান্তি ও ভ্রাতৃত্ববোধ সম্পর্কে শেখায়। এতে বলা হয়েছে জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব, সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা এবং পরিবেশ ও মানবতার প্রতি দায়িত্ববোধের কথা, নারী-পুরুষের অধিকার , প্রাণীর অধিকার , সৃষ্টির অধিকার সহ এমন কোন বিষয় নেই যে এতে বাদ আছে। এমনকি আধুনিক বিজ্ঞান যখন মহাবিশ্ব, ভ্রূণের সৃষ্টি বা সমুদ্রের রহস্য উন্মোচন করছে, তখন দেখা যায়—মহাগ্রন্থ আল-কোরআনে শত শত বছর আগেই সেসব বিষয় সম্পর্কে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র মাথা খাটিয়ে গবেষণা করে এগুলোর খুঁটিনাটি বিচার-বিশ্লেষণ, গভীর তত্ব বের করতে হবে।

আল-কোরআন মুজিজা

আল-কোরআন এমন এক মুজিজা যা শতাব্দীর পর শতাব্দী পর্যন্ত মানব জাতির জন্য অনুসরনীয়। এটি শুধু একটি ধর্মগ্রন্থ নয় বরং এটি হৃদয়কে আলোয় ভরিয়ে দেয়, মনের অন্ধকার দূর করে এবং মানুষকে ন্যায় ও সত্যের পথে চলার শিক্ষা দেয়। যতই যুগ পরিবর্তিত হোক, যতই প্রযুক্তি উন্নত হোক কোরআনের বাণী আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক, প্রেরণাদায়ক ও চিরন্তন সত্যের প্রতীক। অন্যান্য ধর্ম গ্রন্থগুলো যেমন শুধুমাত্র কোন এক নবীর সাথে সম্পর্কিত ছিল। কিন্তু আল-কোরআন সমগ্র মানবজাতির জন্য; শুধুমাত্র নির্ধারিত কোনো মানব গোষ্ঠীর জন্য নয়। আল কোরআনের সবচাইতে বড় মুজিজা হলো এর অপরিবর্তনীয়তা। কেয়ামত পর্যন্ত আল কোরআনের একটি অক্ষরমাত্রও কেউ পরিবর্তন করতে পারবে না।

কোরআন সকল মানুষের জন্য হেদায়েত

পবিত্র কোরআন আল্লাহ তাআলার সর্বশেষ আসমানি কিতাব, যা মানবজাতির হেদায়েতের জন্য মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে। এটি কোনো নির্দিষ্ট জাতি, গোত্র, ভাষা বা অঞ্চলের জন্য নয়; বরং কিয়ামত পর্যন্ত সমগ্র মানবজাতির জন্য পথনির্দেশিকা। কুরআন মানুষের বিশ্বাস, ইবাদত, নৈতিকতা, সামাজিকতা, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় জীবনের জন্য পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন— “রমযান মাস, যাতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে; মানুষের জন্য হেদায়েত এবং হেদায়েতের সুস্পষ্ট নিদর্শন ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী হিসেবে।” (সূরা আল-বাকারা: ১৮৫)

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা “লিন্নাস” অর্থাৎ “মানুষের জন্য” শব্দ ব্যবহার করেছেন। এতে স্পষ্ট হয় যে, কুরআনের হেদায়েত কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের জন্য সীমাবদ্ধ নয়; বরং সকল মানুষের জন্য উন্মুক্ত।

কুরআন শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের শিক্ষা দেয় না; বরং মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের জন্যও সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে। ন্যায়বিচার, সততা, দয়া, মানবতা, পারস্পরিক সহযোগিতা, আত্মসংযম এবং আল্লাহভীতি—এসব গুণ অর্জনের শিক্ষা কুরআন দিয়েছে।

আজকের পৃথিবীতে নৈতিক অবক্ষয়, অন্যায়-অবিচার, পারিবারিক অশান্তি ও মানবিক মূল্যবোধের সংকট দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কুরআনের শিক্ষা অনুসরণই মানবজাতির শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণের একমাত্র কার্যকর সমাধান। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ যদি কুরআনের আদর্শ গ্রহণ করে, তবে ন্যায়, শান্তি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠিত হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে আল কুরআন মোতাবেক জীবন যাপন করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

লেখক: প্রাবন্ধিক; দক্ষিণ সালনা, গাজীপুর। মেইল: jony90siddique@gmail.com

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন