Logo

ধর্ম

প্রতিষ্ঠানের কর্মী কি শুধু সম্পদ, নাকি আল্লাহর অর্পিত আমানত?

Icon

ধর্ম ডেস্ক:

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১৮:৩৭

প্রতিষ্ঠানের কর্মী কি শুধু সম্পদ, নাকি আল্লাহর অর্পিত আমানত?

সংগৃহীত

একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও অধিকাংশ কর্মী মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে সেই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় ইসলামি মূল্যবোধের প্রতিফলন দেখা যায় না। সংশ্লিষ্টদের মতে, অফিসে নামাজের ব্যবস্থা, আজান কিংবা কোরআন তেলাওয়াতের মতো ধর্মীয় অনুষঙ্গ থাকলেও নীতিনির্ধারণ, কর্মসংস্কৃতি, সময় ব্যবস্থাপনা ও সাফল্যের মানদণ্ড প্রায়ই এমন ব্যবস্থাপনা দর্শনের অনুসরণ করে, যার ভিত্তি ইসলামি বিশ্বদৃষ্টির বাইরে গড়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কোনো ব্যবস্থাপনা কাঠামোই সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ নয়। প্রতিটি কাঠামোর পেছনে একটি নির্দিষ্ট দর্শন বা বিশ্বাস কাজ করে। সেই দর্শনে মানুষকে মর্যাদাসম্পন্ন সত্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, নাকি কেবল উৎপাদনশীলতার উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে—এই প্রশ্নের উত্তরই একটি প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করে।

এ প্রসঙ্গে গবেষকদের একটি অংশ মনে করেন, উসমানীয় সাম্রাজ্যের শেষ পর্যায়ে ইউরোপের অগ্রগতির সঙ্গে তাল মেলানোর প্রচেষ্টায় মুসলিম সমাজে উৎপাদনশীলতাকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ক্রমশ গুরুত্ব পেতে শুরু করে। এর ফলে আল্লাহর ওপর ভরসা, অল্পে তুষ্টি কিংবা আত্মিক মূল্যবোধের মতো বিষয়গুলোকে অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার কারণ হিসেবে দেখা হয়। এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের প্রভাব বর্তমান সময়ের করপোরেট ব্যবস্থাপনাতেও বিদ্যমান বলে তারা উল্লেখ করেন।

এছাড়া সমসাময়িক সময়ে অনেক মুসলিম উদ্যোক্তা ও করপোরেট নেতা পাশ্চাত্যের ব্যবসায় শিক্ষা থেকে অর্জিত মডেল সরাসরি নিজেদের প্রতিষ্ঠানে প্রয়োগ করছেন বলেও পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অন্য সংস্কৃতি থেকে গ্রহণে ইসলামের কোনো আপত্তি নেই; তবে তা নিজস্ব বিশ্বাস ও মূল্যবোধের আলোকে মূল্যায়ন ও প্রয়োজন অনুযায়ী রূপান্তর করা জরুরি।

এ আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে ‘হিউম্যান রিসোর্স’ ধারণা। ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে একজন কর্মীকে কেবল ‘রিসোর্স’ নয়, বরং আল্লাহর দেওয়া একটি ‘আমানত’ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাদের মতে, এ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করলে নিয়োগ, কর্মপরিবেশ, সুযোগ-সুবিধা, ছাঁটাই এবং নেতৃত্বের ধরনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। তখন প্রতিষ্ঠান শুধু মুনাফা অর্জনের ক্ষেত্র না হয়ে মানুষের বৈধ জীবিকা অর্জন এবং নৈতিক দায়বদ্ধতা পালনের একটি মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামি মূল্যবোধভিত্তিক একটি কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—কর্মঘণ্টা নির্ধারণে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়ের প্রতি সম্মান, মুনাফার পাশাপাশি বরকতের গুরুত্ব, নেতৃত্বকে সেবামূলক দায়িত্ব হিসেবে দেখা, কর্মীদের আত্মিক ও নৈতিক কল্যাণে প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিশ্চিত করা এবং গ্রাহকদের সঙ্গে সততা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলা।

তাদের অভিমত, এ ধরনের পরিবর্তন বাস্তবায়নে শুধু উদ্যোক্তাদের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; বরং আলেম, গবেষক, ব্যবসায়ী এবং তরুণ শিক্ষার্থীদের সমন্বিত আলোচনার মাধ্যমে ইসলামি মূল্যবোধসম্মত আধুনিক ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

তাদের বিশ্বাস, ব্যবসা, অর্থনীতি ও কর্মসংস্কৃতিকে আল্লাহকেন্দ্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে পরিচালিত করা গেলে তা যেমন পার্থিব সাফল্যে ভূমিকা রাখবে, তেমনি আখিরাতের জবাবদিহিতার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বাংলাদেশেরখবর/আরকে

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন