Logo

ধর্ম

একজন আদর্শ ছাত্রের গুণাবলি

Icon

মাহদী বিন মুসলিম

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৪

একজন আদর্শ ছাত্রের গুণাবলি

​'জ্ঞান' আল্লাহ তা'আলার এক বিশেষ নেয়ামত, যা মানুষকে অন্য সব মাখলুক থেকে শ্রেষ্ঠ বানায়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন, 'যারা জানে আর যারা জানে না, তারা কি (কখনো) এক হতে পারে?' এর মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা জ্ঞানের মাহাত্ম্য তুলে ধরেছেন।

এছাড়াও কুরআনের সর্বপ্রথম নাযিলকৃত শব্দটি হলো, 'ইকরা' অর্থাৎ পড়ো। সভ্য হওয়ার মাধ্যম যে জ্ঞান, 'ইকরা'-এর মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা সেই দিকেই আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। পাশাপাশি রাসুলুল্লাহ সা. ও উম্মতকে জ্ঞান অর্জনের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন এবং এর অনেক ফজিলত বর্ণনা করেছেন। কিন্তু দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা অনেক সময় জ্ঞান অর্জনের মাঝপথ থেকে ছিটকে পড়ে কিংবা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না। অনেকে কিছুদূর অগ্রসর হলেও উম্মাহ তাদের গ্রহণ করছে না এবং তারাও উম্মাহর প্রয়োজন পূরণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। আবার অনেকে জ্ঞানের অঙ্গনে সফলতার স্বাক্ষর রাখছেন, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে নিরাপদে পৌঁছে যাচ্ছেন। এই সফলতা ও ব্যর্থতার অনেকগুলো কারণের মধ্যে অন্যতম একটি কারণ হলো—পদ্ধতিগত ব্যবধান। যারা লেখাপড়ার আদর্শ পদ্ধতি অবলম্বন করে, সাধারণত এই পথে তাদের সফলতা অর্জন সহজ হয়ে যায়। এই ক্ষেত্রে একজন আদর্শ ছাত্র হতে হলে বেশ কিছু গুণের অধিকারী হতে হয়।

নিয়ত পরিশুদ্ধ রাখা

একজন আদর্শ ছাত্রের সর্বপ্রথম কর্তব্য হলো তার নিয়ত পরিশুদ্ধ করা। তার জ্ঞান অর্জন, ইবাদত, কল্যাণমূলক কাজ কিংবা অন্য যেকোনো খেদমত—সবই আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সম্পাদন করা উচিত। কারণ, নিয়তের বিশুদ্ধতাই আমলের গ্রহণযোগ্যতার মূল ভিত্তি। যার নিয়ত শুদ্ধ নয়, তার আমল পূর্ণতা লাভ করে না এবং সে কখনো প্রকৃত অর্থে noble বা আদর্শ ব্যক্তি হতে পারে না। তাই প্রতিটি শিক্ষার্থীর উচিত নিজের নিয়তকে সর্বদা বিশুদ্ধ রাখা এবং প্রতিটি কাজে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া।

শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের মনোভাব

পৃথিবীতে কারো জন্য জায়গা প্রস্তুত থাকে না; বরং প্রস্তুত করে নিতে হয়। তাই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের মনোভাব না থাকলে সফলতা অর্জন করা যায় না। রাসুলুল্লাহ সা. এর আত্মবিশ্বাস ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের মনোভাব লক্ষ্য করুন; তিনি কাফেরদের স্পষ্টভাষায় বলতেন, 'আমার এই দ্বীন গোটা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়বে।' লক্ষ্য করুন, তাঁর সেই মনোভাব আল্লাহর ইচ্ছায় কতটা কার্যকর হয়েছে। গোটা পৃথিবী আজ এক নামে 'ইসলাম' কে চেনে। কোটি কোটি মানুষ আজ এই ধর্মের অনুসারী। শুধু তাই নয়, প্রতিপক্ষ পর্যন্ত তাঁর এবং তাঁর প্রচারিত ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে।

​এমনকি আল্লাহ তা'আলা স্বয়ং তাঁর প্রিয় রাসুল (সা.)-কে উৎকর্ষ ও জ্ঞান-বৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষা লালন করতে শিক্ষা দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, "বলুন, হে আমার রব! আমার জ্ঞান আরও বৃদ্ধি করে দিন।" (সুরা তহা: ১১৪)। এই দুআ কেবল জ্ঞান অর্জনের আবেদনই নয়; বরং নিরন্তর উন্নতি, উৎকর্ষ সাধন এবং শ্রেষ্ঠত্বের পথে অবিচল থাকার এক অনন্য শিক্ষা। আল্লাহ তা'আলা তাঁর হাবীবের এ আকাঙ্ক্ষাকে কবুল করেছেন এবং তাঁকে এমন জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় ভূষিত করেছেন, যার সমকক্ষ পৃথিবীর ইতিহাসে আর কেউ হতে পারেনি। ফলে তিনি মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক, সর্বাধিক জ্ঞানী এবং সর্বোত্তম পথপ্রদর্শক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

পূর্ণ দ্বীনদারী

আল্লাহপ্রদত্ত ইলমের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত রয়েছে আল্লাহ তা'আলার পূর্ণ আনুগত্যে। জ্ঞান তখনই কল্যাণকর, যখন তা মানুষকে তার স্রষ্টার নৈকট্যের দিকে পরিচালিত করে এবং তাঁর আদেশ-নিষেধের প্রতি আন্তরিকভাবে অনুগত হতে উদ্বুদ্ধ করে। কিন্তু যদি অর্জিত বিদ্যা মানুষের অন্তরে আল্লাহভীতি সৃষ্টি না করে, ইবাদতের প্রতি আগ্রহ না জাগায় এবং তাকে স্রষ্টামুখী জীবনের পরিবর্তে দুনিয়ামুখী করে তোলে, তবে সেই বিদ্যা তার আসল উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ।

উত্তম চরিত্র

একজন আদর্শ ছাত্রের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়া। জ্ঞান ও চরিত্র—এই দুইয়ের সমন্বয়েই একজন শিক্ষার্থী প্রকৃত অর্থে আদর্শ হয়ে ওঠে। মহানবী (সা.) মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ ব্যক্তিত্ব। তাঁর महान চরিত্র সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করেছেন, "নিশ্চয়ই আপনি সুমহান চরিত্রের অধিকারী।" (সুরাতুল কলাম: ৪)

​রাসুলুল্লাহ (সা.) মানুষের মর্যাদা রক্ষা করতেন, বয়োজ্যেষ্ঠদের যথাযথ সম্মান করতেন, ছোটদের স্নেহ করতেন, আত্মীয়তার সম্পর্ক সুদৃঢ় রাখতেন এবং কখনো কারও সঙ্গে অসদাচরণ করতেন না। তাঁর প্রতিটি আচরণ ছিল সৌজন্য, নম্রতা ও উত্তম আখলাকের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাই একজন আদর্শ শিক্ষার্থীরও উচিত মহানবীর এসব মহৎ গুণাবলি ও উত্তম আখলাক নিজের জীবনে ধারণ করা এবং চরিত্রের সৌন্দর্যের মাধ্যমে নিজেকে একজন সত্যিকারের আদর্শ শিক্ষার্থী হিসেবে গড়ে তোলা।

সামাজিক অবস্থান সুদৃঢ় রাখা

একজন আদর্শ ছাত্রের উচিত সমাজের সঙ্গে সুদৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখা। তিনি ব্যক্তিগত পড়াশোনার পাশাপাশি সামর্থ্য অনুযায়ী বিভিন্ন দাওয়াতি, সামাজিক ও কল্যাণমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবেন। সেবামূলক সংগঠন ও দাওয়াতি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থেকে সমাজের কল্যাণে অবদান রাখা একজন সচেতন ও আদর্শ শিক্ষার্থীর পরিচয়।

স্বাস্থ্য সচেতনতা

একজন আদর্শ ছাত্রের জন্য সুস্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হওয়া অপরিহার্য। শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তি ও প্রফুল্লতা বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সুস্বাস্থ্য ও প্রফুল্ল মনই উৎকর্ষ অর্জন এবং জীবনের সাফল্যের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

মোহগ্রস্ত না হওয়া

একজন আদর্শ ছাত্র নিজের সফলতা ও শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে কখনো অহংকার করে না এবং অন্যের প্রতি হিংসাও পোষণ করে না। কারণ, অহংকার ও হিংসা মানুষের চরিত্রকে কলুষিত করে এবং পতনের দিকে ঠেলে দেয়। শয়তানের পরিণতিই তার জ্বলন্ত প্রমাণ। সে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের অহংকার করেছিল এবং আল্লাহ তা'আলা মানবজাতিকে যে মর্যাদা দান করেছেন, তা সহ্য করতে না পেরে হিংসায় লিপ্ত হয়েছিল। ফলে সে আল্লাহর রহমত থেকে চিরবঞ্চিত হয়। পক্ষান্তরে ফেরেশতাগণ অহংকার ও হিংসা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ছিলেন। তাই তাঁরা আজও আল্লাহর নৈকট্য ও সম্মানিত মর্যাদায় সমাসীন রয়েছেন। সুতরাং একজন আদর্শ ছাত্রের উচিত বিনয় ও নম্রতার মাধ্যমে নিজের চরিত্রকে অলংকৃত করা।

সহযোগী মনোভাব

সহপাঠীদের প্রতি সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব একজন আদর্শ ছাত্রের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। পড়াশোনা ও অন্যান্য কল্যাণকর কাজে সে সাধ্যমতো অন্যদের পাশে দাঁড়ায়। যারা কোনো বিষয় বুঝতে অসুবিধা বোধ করে, তাদের সাহায্য করে; কারও প্রয়োজন হলে তা পূরণের চেষ্টা করে এবং কোনো ভালো উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে তাতে আন্তরিকভাবে অংশগ্রহণ করে। কারণ, পারস্পরিক সহযোগিতা কল্যাণ ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা করে, আর ভালো কাজের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা কখনোই একজন আদর্শ শিক্ষার্থীর পরিচয় হতে পারে না।

উদ্যমী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ

একজন আদর্শ ছাত্র একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের দক্ষতা, যোগ্যতা ও প্রতিভা বিকাশেও যত্নবান থাকে। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভাগ ও কার্যক্রমে সে উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করে। পাঠাগার, প্রতিযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার মাধ্যমে সে নিজের জ্ঞান, দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত করে।

অলসতা পরিহার

পরিশ্রম ও অধ্যবসায় সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। চেষ্টা ছাড়া কোনো মানুষই জীবনে প্রকৃত উৎকর্ষ অর্জন করতে পারে না। ইতিহাসের পাতায় মনীষীদের জীবনী সাক্ষ্য দেয় যে, তাঁদের সাফল্যের ভিত্তি ছিল নিরলস শ্রম, অধ্যবসায় ও আত্মনিবেদন। তাই একজন আদর্শ ছাত্র কখনো অলসতার কাছে আত্মসমর্পণ করে না; বরং সময়ের যথাযথ ব্যবহার ও নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিজেকে শ্রেষ্ঠত্বের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কারণ, অলসতা মানুষের সম্ভাবনাকে নষ্ট করে এবং তাকে উন্নতির পথ থেকে পিছিয়ে দেয়।

সময়ানুবর্তিতা

সময় মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। সময়ই জীবন, জীবনই সময়। তাই একটি প্রবাদে বলা হয়েছে, 'সময় তরবারির মতো; তুমি যদি তাকে কাজে না লাগাও, তবে সে-ই তোমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।' একজন আদেশ ছাত্র সময়ের যথাযথ মূল্যায়ন করে এবং প্রতিটি মুহূর্তকে ফলপ্রসূ কাজে ব্যয় করার চেষ্টা করে। এমনকি অল্প ও ভাঙা সময়কেও তিনি অবহেলা করে না।

লক্ষ্য স্থির করা

জীবনে সফলতা অর্জনের জন্য সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ অপরিহার্য। লক্ষ্যহীন মানুষ দিকহারা পথিকের মতো; সে জানে না কোথায় যেতে হবে, তাই কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যেও পৌঁছাতে পারে না। সুস্পষ্ট লক্ষ্যই একজন শিক্ষার্থীকে সঠিক পথে পরিচালিত করে এবং তার প্রচেষ্টাকে অর্থবহ করে তোলে। তাই একজন আদেশ ছাত্রের উচিত জীবনের মহৎ লক্ষ্য নির্ধারণ করে দৃঢ় সংকল্প, অধ্যবসায় ও পরিকল্পনার সঙ্গে সে লক্ষ্য অর্জনের পথে এগিয়ে চলা। এমন লক্ষ্যভিত্তিক জীবনই প্রকৃত সফলতার দ্বার উন্মোচন করে।

যুগসচেতন হওয়া

একজন আদর্শ শিক্ষার্থীর জন্য যুগ সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং সময়ের চাহিদা অনুধাবন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুগের প্রয়োজন অনুযায়ী উপকারী জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করা একজন সচেতন শিক্ষার্থীর বৈশিষ্ট্য। মহানবী (সা.) সাহাবি জায়েদ ইবন সাবিত (রা.)-কে তৎকালীন প্রয়োজনের প্রেক্ষাপটে হিব্রু ভাষা শেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এ প্রসঙ্গে তালীমুল মুতা'আল্লিম গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেন, মানুষের জন্য তার যুগ ও পারিপার্শ্বিকতার প্রয়োজন অনুযায়ী উপকারী জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করা এবং সে বিষয়ে শরঈ দৃষ্টিভঙ্গি জানা অপরিহার্য। তাই একজন আদর্শ ছাত্রের উচিত যুগের বাস্তবতা ও প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে নিজেকে যোগ্য ও দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা।

ধৈর্য ও অবিচলতা

জ্ঞান অর্জনের পথে কষ্ট, ত্যাগ ও নানা বাধা-বিপত্তি আসা স্বাভাবিক। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও ধৈর্য ও অবিচলতার সঙ্গে এগিয়ে চলাই একজন আদর্শ ছাত্রের বৈশিষ্ট্য। কারণ, ধৈর্য ছাড়া ইলমের উচ্চ শিখরে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

পবিত্র কুরআনে মূসা (আ.) ও খিজির (আ.)-এর ঘটনা ধৈর্যের এক উজ্জ্বল শিক্ষা। জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে মূসা (আ.) যখন খিজির (আ.)-এর সান্নিধ্যে যান, তখন তাঁকে ধৈর্য ধারণ করে কোনো প্রশ্ন না করার শর্ত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রবল আগ্রহের কারণে তিনি বারবার প্রশ্ন করায় শেষ পর্যন্ত তাঁরা পৃথক হয়ে যান। এ ঘটনা থেকে শিক্ষা পাওয়া যায় যে, জ্ঞান অর্জনের পথে ধৈর্য, সেয়াম ও অবিচলতা অপরিহার্য। তাই একজন আদর্শ ছাত্রের উচিত প্রতিকূলতার কাছে হার না মেনে দৃঢ়তার সঙ্গে নিজের লক্ষ্যের পথে এগিয়ে চলা।

যোগ্য মুরুব্বির তত্ত্বাবধানে থাকা

জীবনের পথ সবসময় সহজ ও মসৃণ নয়; বরং নানা প্রতিকূলতা ও বিভ্রান্তিতে পরিপূর্ণ। তাই সঠিক পথে চলতে একজন অভিজ্ঞ ও যোগ্য মুরুব্বি বা শিক্ষকের দিকনির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর সান্নিধ্য শিক্ষার্থীকে ভুল থেকে রক্ষা করবে, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে এবং জ্ঞান ও চরিত্র গঠনের পথে এগিয়ে দেবে। তাই একজন আদর্শ ছাত্রের উচিত একজন যোগ্য মুরুব্বির তত্ত্বাবধানে থেকে নিজেকে গড়ে তোলা।

সফলতার জন্য আল্লাহর নিকট দুআ করা

একজন আদর্শ ছাত্রের সর্বদা আল্লাহ তা'আলার ওপর ভরসা রাখা এবং তাঁর নিকট সফলতার জন্য দুআ করা উচিত। কারণ, মানুষের চেষ্টা ও পরিশ্রম যতই আন্তরিক হোক না কেন, আল্লাহর তাওফীক ও সাহায্য ছাড়া প্রকৃত সফলতা অর্জন সম্ভব নয়। তাই প্রতিটি শিক্ষার্থীর উচিত অধ্যয়ন শুরুর আগে, পরীক্ষার সময় এবং জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আল্লাহর নিকট জ্ঞান, প্রজ্ঞা, কল্যাণ ও সফলতা প্রার্থনা করা।

​আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রিয় নবী (সা.)-কে শিক্ষা দিয়েছেন, "হে আমার রব! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন।" এ দুআ একজন শিক্ষার্থীর জন্য সর্বোত্তম প্রার্থনা। যে ছাত্র পরিশ্রমের পাশাপাশি আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে তাঁর সাহায্য কামনা করে, আল্লাহ তা'আলা তার পথ সহজ করে দেন এবং তার জ্ঞান ও কর্মে বরকত দান করেন। তাই একজন আদর্শ ছাত্রের জন্য দুআ একটি অপরিহার্য বিষয়।

লেখক: শিক্ষার্থী, জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়া, কামরাঙ্গীরচর, ঢাকা

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন