Logo

ধর্ম

বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানো ইবাদত

Icon

হুসাইন আহমদ

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০১:১৩

বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানো ইবাদত
মানবজাতির কল্যাণে পরস্পরের পাশে দাঁড়ানো, এগিয়ে আসা, সহমর্মী হওয়া, এক চিলতে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করা, সমাজের নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি, অসঙ্গতি-অপকর্ম বন্ধ ও সমাধানের নিয়তে কাজ করা হচ্ছে মানবসেবা। মানবসেবা মানবজাতির শ্রেষ্ঠত্বের অলংকার ও একটি ইবাদত। যেমন- আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি। মানবজাতির কল্যাণেই তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা ভালো কাজের নির্দেশ দেবে এবং মন্দ কাজে বাঁধা দেবে। (আল-ইমরান :১১০)

অপরদিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা জগদ্বাসীর প্রতি সদয় হও। তাহলে আসমানের মালিক আল্লাহ তাআলা তোমাদের প্রতি সদয় হবেন। (তিরমিযী)

আর উত্তমগুণাবলির মধ্যেও অন্যতম একটি গুণ হচ্ছে এই মানবসেবা। কারণ, একেঅপরের সহযোগিতা ছাড়া একাকি জীবন-যাপন করা কঠিন। তাই কোনো সমাজে যদি একেঅপরের প্রতি সহযোগিতার মন-মানসিকতা হ্রাস পায়। তখন সে সমাজের মানুষ সব দিক থেকেই পিছিয়ে পড়ে। সে সমাজের সর্বত্র অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়, শান্তি বিলুপ্ত হয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসা দূর হয়ে যায়। 

ইসলাম একটি সহানুভূতির ধর্ম। যেখানে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সহযোগিতাই ইসলামের অন্যতম বিষয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সমগ্র সৃষ্টি আল্লাহর পরিবার। তাই পরোপকারের চেতনার ক্ষেত্রে কোনো শ্রেণিভেদ নেই। বড়-ছোট, ধনী-গরিব, আত্মীয়-অনাত্মীয়, স্বজাতি-বিজাতি, মুসলিম-অমুসলিম এসব ব্যবধানের ঊর্ধ্বে উঠে ইসলামের শান্তি ও সৌহার্দ্যের সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বলেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন, মুমিন মিলেমিশে থাকে। তার মধ্যে ভালো কিছু নেই, যে মিলেমিশে থাকতে পারে না। যে ব্যক্তি মানুষের বেশি উপকার করে, সে-ই শ্রেষ্ঠ মানুষ। (আল-মুজামুল আওসাত)

অন্যত্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অবশ্যই দান-সদকা মানুষের হায়াত বৃদ্ধি করে। অপমৃত্যু থেকে বাঁচায় এবং অহমিকা দূর করে। (আল-মুজামুল কাবীর: ১৩৫০৮)

আর কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, কে আছে যে আল্লাহকে কর্জে হাসানা উত্তম ঋণ দেবে, তাহলে তিনি তার জন্য একে বর্ধিত করে দেবেন এবং তার জন্য সম্মানজনক প্রতিদানও রয়েছে। (সূরা হাদিদ : ১১)

অতএব বর্তমান দেশের বিভিন্ন এলাকায় বর্ষা ও বৃষ্টির পানিতে ভয়াবহ বন্যা ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বাড়িঘর তলিয়ে গেছে। খুব কষ্টে দিন অতিবাহিত করছে। ঐ সব এলাকার বন্যার্ত মানুষের মধ্যে মানবসেবায় কাজ করাও হবে ইবাদত। তাই অসহায় মানুষের কল্যাণে, সাহায্যে কাজ করা প্রত্যেকের নৈতিক ও ঈমানি দায়িত্ব। আর আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সবাইকে সকল কাজে পারস্পরিক কল্যাণে কাজ করে দুনিয়ায় রহমত ও পরকালে উত্তম প্রতিদান লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক: মাদরাসা শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক
Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন