Logo

ধর্ম

দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

অপসংস্কৃতিরোধে কঠোর নজরদারি চাই

Icon

মুহাম্মদ হেদায়াত উল্লাহ

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৫

অপসংস্কৃতিরোধে কঠোর নজরদারি চাই

ইসলামী শিক্ষা ও দ্বীনি প্রতিষ্ঠানসমূহ আবহমানকাল ধরে আমাদের সমাজে নৈতিকতা, সততা এবং মানবিক মূল্যবোধের আধার হিসেবে কাজ করে আসছে। বিশেষ করে নূরানী ও হিফজুল কুরআন মাদরাসাগুলো কোমলমতি শিশুদের হৃদয়ে ইসলামের আলো জ্বালিয়ে দেওয়ার পবিত্র দায়িত্ব পালন করে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, সাম্প্রতিক সময়ে একশ্রেণীর অর্ধশিক্ষিত, তথাকথিত ‘টিকটকার’ হাফেজ এবং নামধারী নূরানী শিক্ষকের অপেশাদার ও অনৈসলামিক কর্মকাণ্ডের কারণে এই মহান দ্বীনি শিক্ষার ভাবমূর্তি মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে।

​সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সস্তা জনপ্রিয়তা বা ভিউ পাওয়ার আশায় দ্বীনি লেবাস ও পবিত্র স্থানকে ব্যবহার করে কিছু তরুণ যে ধরনের অসভ্যতা ও সস্তা বিনোদনে লিপ্ত হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। পবিত্র কুরআনের হাফেজ কিংবা শিশুদের নৈতিকতা শেখানোর দায়িত্বপ্রাপ্ত নূরানী শিক্ষকদের কাছ থেকে সমাজ সর্বোচ্চ তাকওয়া ও শালীনতা আশা করে। অথচ এদের অবক্ষয়ের কারণে সাধারণ মানুষের মনে দ্বীন ও ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে একটি তীব্র নেতিবাচক এবং ভুল ধারণার সৃষ্টি হচ্ছে। গুটিকয়েক উশৃঙ্খল ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো আলেম সমাজ বা মাদরাসা শিক্ষার ওপর গিয়ে পড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

​এই নীরব সামাজিক ব্যাধি ও অপসংস্কৃতিকে এখনই কঠোরভাবে প্রতিহত করা না গেলে, আমাদের দ্বীনি ও সামাজিক ঐতিহ্য অচিরেই ধ্বংসের মুখে পড়বে। আর তাই এই বিশৃঙ্খলা রুখতে বহুমুখী এবং কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সময়ের দাবি:

​পরিচালনা কমিটির কঠোর নজরদারি: মাদরাসা পরিচালনা কমিটিকে কেবল তহবিল সংগ্রহ বা বাহ্যিক তদারকির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের আচরণ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁদের কার্যক্রম এবং তাঁদের পূর্বের ইতিহাস পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করতে হবে।

​স্থানীয় উলামাদের অভিভাবকত্ব: স্থানীয় উলামায়ে কেরামকে এই অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। যারা দ্বীনের নাম ব্যবহার করে বখাটেপনা করছে, তাদের চিহ্নিত করে সামাজিকভাবে বয়কট এবং সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে।

​আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিচার: কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর আচরণ যদি দ্বীনি শিক্ষার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে, তবে তাকে অবিলম্বে বরখাস্ত করাসহ প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় বিচারের আওতায় আনতে হবে। অপরাধীকে ‘ধর্মীয় সহানুভূতি’র চোখে দেখার কোনো সুযোগ নেই।

​সবচেয়ে বড় দায়িত্ব রয়েছে জেলাভিত্তিক মাদরাসা বোর্ডগুলোর কাঁধে। জেলা বোর্ডগুলো যদি এখনই এই বিষয়ে সর্বোচ্চ সচেতন না হয় এবং কেন্দ্রীয়ভাবে কঠোর নীতিমালা ও মনিটরিং সেল গঠন না করে, তবে অতি শীঘ্রই পুরো দ্বীনি শিক্ষা ব্যবস্থাকে এর জন্য চড়া মাশুল দিতে হবে। সাধারণ মানুষের আস্থা হারিয়ে ফেললে দ্বীনি শিক্ষার প্রচার ও প্রসার থমকে দাঁড়াবে।

​আমরা বিশ্বাস করি, ইসলাম কোনো উশৃঙ্খলতা বা সস্তা প্রচারসর্বস্ব জীবন সমর্থন করে না। দ্বীনি শিক্ষার পবিত্রতা রক্ষা করতে এবং নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্তির হাত থেকে বাঁচাতে আলেম সমাজ, মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এবং জেলা বোর্ডগুলোকে একযোগে মাঠে নামতে হবে। বখাটে ও অসভ্য চক্রের হাত থেকে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য রক্ষা করা আমাদের সবার ঈমানী ও নৈতিক দায়িত্ব।

​ইসলামী ও দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সমাজে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের মূল ভিত্তি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে একশ্রেণীর অর্ধশিক্ষিত হাফেজ ও শিক্ষকের টিকটকভিত্তিক অপেশাদার কর্মকাণ্ড দ্বীনি শিক্ষার ভাবমূর্তিকে চরম সংকটের মুখে ফেলছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তার লোভে দ্বীনি লেবাস ও পবিত্র স্থানকে ব্যবহার করে যে অসভ্যতা ছড়ানো হচ্ছে, তা পুরো আলেম সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই অপসংস্কৃতি রুখতে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির পুঙ্খানুপুঙ্খ নজরদারি, স্থানীয় উলামাদের অভিভাবকত্ব এবং জেলাভিত্তিক মাদরাসা বোর্ডগুলোর মাধ্যমে কঠোর মনিটরিং সেল গঠন জরুরি। ইসলামের পবিত্রতা ও দ্বীনি শিক্ষার ভাবমূর্তি রক্ষায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

লেখক: প্রভাষক, ইসলামিক স্টাডিজ, দশমিনা ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা, পটুয়াখালী

ইমেইল: Hedayt801@gmail.com

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন