Logo

ধর্ম

কিন্ডারগার্টেন ও নূরানী জেনারেল বিভাগ

ক্লাস পরিচালনা ও পাঠদান নীতিমালা

Icon

আমীনুর রহমান নড়াইলী

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১৩:১৬

ক্লাস পরিচালনা ও পাঠদান নীতিমালা

একজন শিক্ষক শুধু একটি বইয়ের পাঠদান করেন না; তিনি একজন শিশুর চিন্তা, চরিত্র, অভ্যাস ও ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ করে ইসলামী কিন্ডারগার্টেন ও নূরানী বিভাগের শিক্ষার্থীরা কোমলমতি ও অনুকরণপ্রবণ। তারা শিক্ষকের কথা যেমন শোনে, তেমনি শিক্ষকের আচরণও অনুকরণ করে।

তাই শ্রেণিকক্ষের প্রতিটি মুহূর্তকে শিক্ষার্থীর শিক্ষা, আদব, আখলাক, শৃঙ্খলা ও আত্মগঠনের কাজে লাগাতে প্রত্যেক শিক্ষককে নিম্নোক্ত নীতিমালা যথাসম্ভব মেনে চলতে হবে।

১. যথাসময়ে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হওয়া

প্রত্যেক শিক্ষককে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হতে হবে। ক্লাস শুরু হওয়ার পর শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

শিক্ষক নিজে সময়ানুবর্তী হলে শিক্ষার্থীদের মাঝেও সময়ের মূল্য, নিয়মানুবর্তিতা ও দায়িত্ববোধ সৃষ্টি হবে।

২. শ্রেণিকক্ষ পরিচ্ছন্ন ও পাঠোপযোগী রাখা

ক্লাস শুরু করার আগে শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ, বোর্ড, টেবিল ও শিক্ষার্থীদের বসার ব্যবস্থা দেখে নিতে হবে। শ্রেণিকক্ষে অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, ময়লা-আবর্জনা বা বিশৃঙ্খলা থাকলে তা যথাসম্ভব দ্রুত ঠিক করতে হবে।

৩. সালামের মাধ্যমে ক্লাস শুরু করা

ক্লাসের শুরুতে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সালাম দেবেন এবং তাদের কাছ থেকে সালামের উত্তর আদায় করবেন। শিক্ষার্থীদের সালাম দেওয়ার গুরুত্ব, পদ্ধতি ও আদব শেখাতে হবে। সবাই সালাম দেওয়া শিখে গেলে তারা একসঙ্গে সমস্বরে সালাম দেবে এবং শিক্ষক সুন্দরভাবে তার উত্তর দেবেন।

৪. শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেওয়া

ক্লাসের শুরুতে আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসা করতে হবে—‘তোমরা কেমন আছো?’

শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে উত্তর দেবে—‘আমরা সকলে আল্লাহর দয়ায় খুবই ভালো আছি, আলহামদুলিল্লাহ।’

প্রয়োজনে দু-একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত খোঁজখবরও নিতে হবে। এতে শিক্ষার্থীরা বুঝবে—শিক্ষক শুধু তাদের পড়ান না; তাদের ভালো থাকা নিয়েও চিন্তা করেন।

৫. হাজিরা গ্রহণ ও অনুপস্থিতির কারণ জানা

নিয়মিতভাবে শ্রেণিকক্ষে হাজিরা নিতে হবে। আগের দিন উপস্থিত থাকা কোনো শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলে তার অনুপস্থিতির কারণ জানতে হবে।

বারবার অনুপস্থিতি বা অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত থাকার ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী অফিস ও অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

৬. প্রথম ক্লাসে ডায়েরি সংগ্রহ

দিনের প্রথম ক্লাস হলে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ডায়েরি সংগ্রহ করতে হবে। শিক্ষক নিজ দায়িত্বে অথবা নির্ধারিত কোনো শিক্ষার্থীর মাধ্যমে ডায়েরিগুলো অফিসে পৌঁছে দেবেন। ডায়েরিতে অফিস বা অভিভাবকের কোনো গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ থাকলে শিক্ষক তা লক্ষ্য করবেন।

৭. গত দিনের হোমওয়ার্ক সংগ্রহ

গত দিনের দেওয়া হোমওয়ার্ক নির্ধারিত সময়ে জমা নিতে হবে। প্রয়োজনে শ্রেণির একজন বা একাধিক শিক্ষার্থীকে হোমওয়ার্ক সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে, যাতে শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে আসার আগেই খাতাগুলো সংগ্রহ করে টেবিলে রাখা যায়।

৮. হোমওয়ার্ক না করলে কারণ জানা ও জবাবদিহিতা

যারা হোমওয়ার্ক জমা দেয়নি, তাদের প্রত্যেকের কারণ জানতে হবে। কারণ যৌক্তিক হলে সহানুভূতির সঙ্গে বুঝিয়ে দিতে হবে; আর অবহেলা বা নিয়মভঙ্গের কারণে হলে প্রতিষ্ঠানের নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে শাস্তি কখনো যেন অপমানজনক, ভয়ভীতিকর বা শিশুর মানসিক ক্ষতির কারণ না হয়।

অন্যদিকে যারা নিয়মিত ও সুন্দরভাবে হোমওয়ার্ক করেছে, তাদের প্রকাশ্যে প্রশংসা ও উৎসাহ দিতে হবে। বিশেষভাবে সুন্দর কাজ করা শিক্ষার্থীকে ‘আজকের সেরা কাজ’ হিসেবে প্রশংসা বা অনুমোদিত পুরস্কার দেওয়া যেতে পারে।

৯. আগের পড়া ঝালাই

হোমওয়ার্ক সংগ্রহের পর প্লে শ্রেণি ব্যতীত অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কয়েক মিনিট গত দিনের পড়া জোরে জোরে পড়তে দিতে হবে। এমনভাবে পড়তে হবে, যাতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর আওয়াজ শিক্ষক শুনতে পান। এতে পড়া ঝালাইয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উচ্চারণ ও সাবলীলতা বৃদ্ধি পাবে।

১০. নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের পড়ায় ব্যস্ত রাখা

শিক্ষক হোমওয়ার্ক দেখা বা অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত থাকলে শিক্ষার্থীদের কোনো কাজ ছাড়া রাখা যাবে না। তাদের পড়া, লিখা, মুখস্থ করা, বোর্ড থেকে অনুশীলন করা বা নির্ধারিত কোনো শিক্ষামূলক কাজে ব্যস্ত রাখতে হবে। শিক্ষার্থীদের কাজ ছাড়া রাখা মানেই শ্রেণিকক্ষে বিশৃঙ্খলার সুযোগ তৈরি করা।

১১. হোমওয়ার্ক যাচাই ও সংশোধন

শিক্ষককে মনোযোগ দিয়ে হোমওয়ার্ক দেখতে হবে এবং ভুলগুলো চিহ্নিত করে দিতে হবে। হাতের লেখা সুন্দর না হলে সংশ্লিষ্ট অংশে লাল কালি দিয়ে দাগ দিতে পারেন এবং পরবর্তীতে কীভাবে সুন্দর করতে হবে, তা বুঝিয়ে দিতে হবে।

খাতায় স্পষ্টভাবে দিনের তারিখ লিখে দিতে হবে। সময় ও সুযোগ থাকলে শিক্ষক স্বাক্ষর বা সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করতে পারেন।

১২. সবার পড়া শোনা

হোমওয়ার্ক দেখা শেষে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পড়া শুনতে হবে। প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের বোর্ডে এনে পড়াতে হবে। শুধু মেধাবী বা ভালো শিক্ষার্থীদের পড়া শুনে সন্তুষ্ট হওয়া যাবে না। অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীদেরও নিয়মিত পড়া শুনতে হবে।

১৩. দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর

প্রত্যেক শিক্ষার্থী সমান গতিতে শেখে না। কেউ দ্রুত বুঝবে, কেউ কিছুটা সময় নেবে। তাই দুর্বল শিক্ষার্থীকে অবহেলা করা যাবে না।

যে শিক্ষার্থী বারবার ভুল করছে, তাকে আলাদা করে বুঝিয়ে দিতে হবে, অতিরিক্ত অনুশীলনের সুযোগ দিতে হবে এবং প্রয়োজনে অভিভাবককে অবহিত করতে হবে। একজন দুর্বল শিক্ষার্থীকে উন্নতির পথে নিয়ে আসাই একজন শিক্ষকের বড় সাফল্য।

১৪. পড়া না পারলে আগে কারণ অনুসন্ধান

কোনো শিক্ষার্থী পড়া না পারলে প্রথমেই তার কারণ জানতে হবে। অসুস্থতা, পারিবারিক সমস্যা, অতিরিক্ত পড়ার চাপ বা অন্য কোনো যৌক্তিক কারণ থাকলে তাকে সহানুভূতির সঙ্গে বুঝিয়ে দিতে হবে।

তবে ইচ্ছাকৃত অবহেলা বা নিয়মিত পড়া না শেখার প্রবণতা থাকলে তাকে সতর্ক করতে হবে এবং প্রয়োজনে অফিস ও অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতিষ্ঠানের নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

১৫. নতুন পড়া দেওয়ার আগে মনোযোগ নিশ্চিত করা

নতুন পড়া শুরু করার আগে সবাই মনোযোগ দিয়ে বসেছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে গল্প, দুষ্টুমি বা অমনোযোগ থাকলে প্রথমে তা নিয়ন্ত্রণ করে তারপর নতুন পড়া শুরু করতে হবে।

১৬. নতুন পড়া দেওয়ার সঠিক পদ্ধতি

নতুন পড়া দেওয়ার সময় শিক্ষক—প্রতিটি শব্দ স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করবেন; শব্দে শব্দে শিক্ষার্থীদের দিয়ে পড়াবেন; প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে উচ্চারণ শুনবেন; ভুল হলে সঙ্গে সঙ্গে সংশোধন করবেন; পুরো পড়াটি কয়েকবার জোরে ও স্পষ্টভাবে পড়ে শোনাবেন; এরপর একে একে শিক্ষার্থীদের ডেকে পড়তে বলবেন।

মনে রাখতে হবে, নতুন পড়া শুধু পড়িয়ে দেওয়াই যথেষ্ট নয়; শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে বুঝেছে ও পড়তে পারছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।

১৭. বোর্ডের যথাযথ ব্যবহার

প্রয়োজনীয় শব্দ, বাক্য, হোমওয়ার্ক, তারিখ, কঠিন শব্দ বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বোর্ডে বড় ও স্পষ্ট করে লিখতে হবে। বিশেষ করে নূরানী ও ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে বোর্ডের লেখা যেন পরিষ্কার, সুন্দর ও সহজবোধ্য হয়।

১৮. প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা

শুধু শিক্ষক কথা বলবেন—এমন ক্লাস পরিহার করতে হবে। মাঝেমধ্যে সহজ প্রশ্ন করে শিক্ষার্থীদের উত্তর দিতে উৎসাহিত করতে হবে। প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে শুধু মেধাবী শিক্ষার্থীদের সুযোগ না দিয়ে বিভিন্ন শিক্ষার্থীকে উত্তর দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

এতে তাদের মনোযোগ, আত্মবিশ্বাস ও কথা বলার দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।

১৯. শিক্ষার্থীদের সবাইকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া

ক্লাসে কোনো শিক্ষার্থী যেন সবসময় পিছিয়ে না থাকে। পড়া, প্রশ্নের উত্তর, বোর্ডে লেখা ও অন্যান্য শিক্ষামূলক কাজে পর্যায়ক্রমে সবাইকে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। এতে লাজুক ও দুর্বল শিক্ষার্থীরাও ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে।

২০. ক্লাসে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা পরিহার

শিক্ষক ক্লাসের সময় ব্যক্তিগত গল্প, অপ্রয়োজনীয় আলোচনা বা এমন কোনো বিষয়ে কথা বলবেন না, যা পাঠদানের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। প্রত্যেক মিনিটকে শিক্ষার্থীদের উপকারে লাগানোর চেষ্টা করতে হবে।

২১. শাস্তির ক্ষেত্রে ভারসাম্য ও প্রজ্ঞা

শিক্ষার্থীর ভুল সংশোধনের উদ্দেশ্য হবে তাকে অপমান করা নয়; বরং সুন্দরভাবে সংশোধন করা।

তাই রাগের বশবর্তী হয়ে কোনো শাস্তি দেওয়া যাবে না। শারীরিক বা মানসিকভাবে ক্ষতিকর কোনো আচরণ সম্পূর্ণ পরিহার করতে হবে।

প্রথমে বুঝিয়ে বলা, সতর্ক করা, দায়িত্ব দেওয়া, অভিভাবককে জানানো—এসব ইতিবাচক পদ্ধতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত কোনো শাস্তির ব্যবস্থা থাকলে তা যথাযথ নিয়ম মেনেই প্রয়োগ করতে হবে।

২২. শিক্ষার্থীদের সামনে কাউকে অপমান না করা

কোনো শিক্ষার্থী ভুল করলে তাকে সবার সামনে এমনভাবে অপমান করা যাবে না, যাতে তার আত্মসম্মান নষ্ট হয় বা সে পড়াশোনার প্রতি ভীত হয়ে পড়ে। ভুল সংশোধন করতে হবে, কিন্তু শিশুর মন ভেঙে নয়।

২৩. শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুলনা না করা

একজন শিক্ষার্থীকে অন্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমনভাবে তুলনা করা যাবে না, যাতে সে নিজেকে হীন মনে করে। বরং প্রত্যেককে তার নিজের আগের অবস্থার তুলনায় উন্নতি করার জন্য উৎসাহিত করতে হবে।

২৪. ভালো কাজের প্রশংসা করা

শিক্ষার্থীর ভালো কাজ, সুন্দর হাতের লেখা, সুন্দর পড়া, ভালো আচরণ, সময়মতো হোমওয়ার্ক, পরিচ্ছন্নতা বা সহপাঠীকে সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো প্রকাশ্যে প্রশংসা করতে হবে। প্রশংসা শিশুর ভালো কাজকে অভ্যাসে পরিণত করতে সাহায্য করে।

২৫. পরবর্তী দিনের হোমওয়ার্ক স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেওয়া

নতুন পড়া দেওয়ার পর পরবর্তী দিনের হোমওয়ার্ক স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিতে হবে। প্রয়োজনে বোর্ডে বড় করে লিখে দিতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের দিয়ে একবার পড়িয়ে নিতে হবে—যাতে কেউ ভুল বুঝে না যায়।

২৬. হোমওয়ার্কের পরিমাণ শিক্ষার্থীর সক্ষমতানুযায়ী রাখা

শিক্ষার্থীদের বয়স, শ্রেণি ও সক্ষমতা বিবেচনা করে হোমওয়ার্ক দিতে হবে। এমন অতিরিক্ত কাজ দেওয়া যাবে না, যা শিক্ষার্থীর ওপর অযথা চাপ সৃষ্টি করে বা তার পড়াশোনার প্রতি বিরক্তি তৈরি করে।

২৭. ক্লাসের শেষ কয়েক মিনিট গুছিয়ে নেওয়া

ক্লাস শেষ হওয়ার আগে শিক্ষার্থীদের খাতা-কলম গুছিয়ে রাখতে, আগামী দিনের পড়া মনে রাখতে এবং শ্রেণিকক্ষ পরিচ্ছন্ন রাখতে নির্দেশ দিতে হবে।

প্রয়োজনে দিনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একবার সংক্ষেপে স্মরণ করিয়ে দিতে হবে।

২৮. যথাসময়ে ক্লাস সমাপ্ত করা

নির্ধারিত সময়ে ক্লাস শেষ করতে হবে। কোনোভাবেই অযথা ক্লাস দীর্ঘ করা যাবে না এবং পরবর্তী শিক্ষকের সময় নষ্ট করা যাবে না।

২৯. দোয়া ও সুন্দর বিদায়

ক্লাস শেষ করার আগে শিক্ষার্থীদের সুন্দরভাবে বিদায় জানাতে হবে এবং তাদের জন্য দোয়ামূলক কথা বলতে হবে। হাসিমুখে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হওয়ার অভ্যাস করতে হবে। এতে শিক্ষার্থীদের মনে শিক্ষকের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা তৈরি হবে।

৩০. ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের বাইরে না পাঠানো

ক্লাস চলাকালীন কোনো শিক্ষার্থীকে কোনো কারণেই একা মাদরাসা ক্যাম্পাসের বাইরে পাঠানো যাবে না।

বিশেষ প্রয়োজন হলে প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে অবহিত করতে হবে।

৩১. ক্লাস চলাকালে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ

ক্লাস চলাকালে শিক্ষক মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকবেন। জরুরি কোনো কল এলে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কথা শেষ করতে হবে। অপ্রয়োজনীয়ভাবে মোবাইল দেখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বা ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকা সম্পূর্ণ পরিহার করতে হবে।

৩২. ক্লাস চলাকালে অভিভাবকের সঙ্গে কথা না বলা

ক্লাস চলাকালে কোনো অভিভাবকের সঙ্গে শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে কথা বলবেন না। কোনো অভিভাবকের জানার বা বলার কিছু থাকলে তাকে অফিসে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করতে হবে। প্রয়োজনে অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলা যাবে।

৩৩. শিক্ষার্থীদের প্রতি কোমল ও স্নেহশীল আচরণ

শিক্ষকের আচরণ হবে কোমল, মার্জিত ও স্নেহপূর্ণ। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে হাসিমুখ, সুন্দর ভাষা ও আন্তরিক আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে স্নেহ যেন অতিরিক্ত প্রশ্রয়ে পরিণত না হয়। ভালোবাসার সঙ্গে শৃঙ্খলা এবং শৃঙ্খলার সঙ্গে ভালোবাসা—দুটিই বজায় রাখতে হবে।

৩৪. শিক্ষক নিজেই আদর্শ হয়ে উঠবেন

শিক্ষার্থীদের যে আদব শেখানো হবে, শিক্ষককে তা নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে।সময়ানুবর্তিতা, পরিচ্ছন্নতা, সালাম, সুন্দর ভাষা, ধৈর্য, আমানতদারি, শৃঙ্খলা ও উত্তম আচরণ—এসব বিষয়ে শিক্ষক নিজে উদাহরণ সৃষ্টি করবেন।

কারণ, শিশুরা অনেক সময় শিক্ষকের মুখের কথার চেয়ে শিক্ষকের আচরণ থেকেই বেশি শেখে। একজন শিক্ষক প্রতিদিন শ্রেণিকক্ষে যে ছোট ছোট কাজগুলো করেন, সেগুলোই একদিন একজন শিশুর বড় জীবনের ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়। তাই প্রতিটি ক্লাস হোক—ইলমের পাঠ, আদবের শিক্ষা এবং সুন্দর মানুষ গড়ার একটি সুযোগ।

লেখক: শিক্ষক ও প্রশিক্ষক, নারায়ণগঞ্জ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন