সোনারগাঁও:
বাংলায় ইসলামি জ্ঞানচর্চার এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়
মুফতি আহমাদুল্লাহ মাসউদ
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:০৮
বাংলার ইতিহাসে এমন কিছু অধ্যায় রয়েছে, যেগুলো সময়ের প্রবাহে ধীরে ধীরে বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে গেছে। অথচ একসময় সেগুলো ছিল জ্ঞান, সভ্যতা ও ইসলামি সংস্কৃতির উজ্জ্বল কেন্দ্র। তেমনি একটি ঐতিহাসিক জনপদ হলো সোনারগাঁও। প্রায় আটশ বছর আগে ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জ্ঞানপিপাসু মানুষ যে স্থানে সমবেত হতেন, সেই সোনারগাঁও ছিল ইসলামি শিক্ষা, গবেষণা ও দাওয়াতি কার্যক্রমের এক প্রাণকেন্দ্র।
এই গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক অসাধারণ মনীষীর নাম, শাইখ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা (রহ.)। তিনি ছিলেন মুহাদ্দিস, ফকিহ, উসূলবিদ, দাঈ, খতিব এবং বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী একজন মনীষী। হাদিস, ফিকহ, তাফসির ও সিরাতশাস্ত্রের পাশাপাশি উদ্ভিদবিদ্যা, গণিত, ভূগোল ও রসায়নেও তাঁর ছিল পাণ্ডিত্য।
নিজ জন্মভূমি মধ্য এশিয়ার প্রসিদ্ধ নগরী বুখারা ত্যাগ করে তিনি হাজার হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ইসলামের দাওয়াত ও দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারের উদ্দেশ্যে ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন করেন। প্রথমে তিনি দিল্লিতে অবস্থান করেন। পরে সে সময়ের বাংলার রাজধানী সোনারগাঁওয়ে হিজরত করেন এবং এখানেই ইসলামি জ্ঞানচর্চা ও সংস্কৃতি বিকাশে অনন্য অবদান রাখেন।
সোনারগাঁওয়ে তিনি এমন একটি বৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন, যা কার্যত একটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা লাভ করেছিল। দূর-দূরান্ত থেকে—উপমহাদেশের নানা অঞ্চল অতিক্রম করে—দশ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী সেখানে জ্ঞানার্জনের জন্য সমবেত হতেন। শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই নয়, তিনি একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার এবং ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির জন্য একটি খানকাহও প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর হাত ধরে সোনারগাঁও পরিণত হয় ইসলামী জ্ঞান, গবেষণা ও আধ্যাত্মিক সাধনার এক অনন্য কেন্দ্রস্থলে।
শাইখ আবু তাওয়ামা (রহ.)-এর জীবন ছিল ইসলামের সেবায় নিবেদিত। শিক্ষা, দাওয়াত, গবেষণা এবং সমাজসংস্কারে তিনি অসাধারণ অবদান রেখে গেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাকেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে একটি ফলবান বৃক্ষের মতো জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ফল বিতরণ করেছে। তাঁর জীবদ্দশায় যেমন অসংখ্য আলেম ও দাঈ তৈরি হয়েছে, তেমনি তাঁর ইন্তেকালের পরও দীর্ঘকাল সেই প্রতিষ্ঠান সমাজকে আলোকিত করেছে।
কিন্তু কালের নির্মম পরিক্রমায় যথাযথ পরিচর্যার অভাবে এই গৌরবোজ্জ্বল প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যায়। একসময়ের প্রাণবন্ত শিক্ষাকেন্দ্র পরিণত হয় নীরব ধ্বংসস্তূপে। সময়ের স্রোতে হারিয়ে যায় তার অধিকাংশ স্থাপনা। আজ সেখানে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শাইখ আবু তাওয়ামা (রহ.) ও তাঁর কয়েকজন শিষ্যের কবর এবং অতীতের কিছু নিদর্শন।
ইমাম শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা (রহ.): জীবন, জ্ঞানসাধনা ও বাংলায় আগমনের ইতিহাস
শাইখ আবু তাওয়ামা (রহ.)-এর প্রাথমিক জীবনের অনেক তথ্য আজ আর নির্ভরযোগ্যভাবে ইতিহাসে সংরক্ষিত নেই। তবে বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক সূত্র থেকে জানা যায়, তিনি বর্তমান উজবেকিস্তানের ঐতিহাসিক নগরী বুখারায় ত্রয়োদশ শতাব্দীর সূচনাকালে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি জ্ঞানার্জনের প্রতি গভীর অনুরাগী ছিলেন। খোরাসানে তিনি প্রাথমিক ও উচ্চতর শিক্ষা অর্জন করেন। হাদিস ও ফিকহের পাশাপাশি উদ্ভিদবিদ্যা, প্রাকৃতিক বিজ্ঞান, ভূগোল ও রসায়নের মতো বিষয়েও তিনি পারদর্শিতা অর্জন করেন। অল্প বয়সেই তিনি ইলম অন্বেষণ ও তাকওয়ার কারণে সমকালীন আলেমদের কাছে পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি বিশেষায়িত জ্ঞানার্জনের জন্য ইয়েমেন গমন করেন। সেখানে তিনি তাফসির, হাদিস, ফিকহ, উসূলে ফিকহের পাশাপাশি আরবি ভাষা ও সাহিত্যে উচ্চতর জ্ঞান অর্জন করেন।
দিল্লিতে দাওয়াত ও জ্ঞানচর্চা
ত্রয়োদশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে দিল্লি সালতানাতের সুলতান গিয়াসউদ্দীন বলবনের শাসনামলে শাইখ আবু তাওয়ামা (রহ.) ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন করেন এবং দিল্লিকে তাঁর দাওয়াতি ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেন।
দিল্লিতে তিনি শুধু বক্তৃতা বা ওয়াজের মাধ্যমে নয়, বরং নিজের চরিত্র, সততা, নম্রতা ও উত্তম আচরণের মাধ্যমে মানুষের হৃদয় জয় করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আলেম, ছাত্র, আমির-উমরা সকল শ্রেণির মানুষের কাছে তিনি আস্থা ও শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে ওঠেন। তাঁর প্রভাব এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, মানুষ তাঁকে শুধু একজন আলেম নয়, বরং একজন সত্যিকারের পথপ্রদর্শক হিসেবে গ্রহণ করেছিল।
সরল জীবন, অসাধারণ প্রভাব
দিল্লিতে অবস্থানকালে তিনি একটি ছোট্ট মসজিদের পাশে অত্যন্ত সাধারণ কুঁড়েঘরে বসবাস করতেন। বিলাসিতা বা ক্ষমতার প্রতি তাঁর কোনো আকর্ষণ ছিল না। দীর্ঘ সময় ইতিকাফে কাটিয়ে তিনি ইবাদত, আত্মশুদ্ধি এবং মানুষের নৈতিক উন্নয়নে নিজেকে নিবেদিত রাখতেন।
সপ্তাহে একদিন তিনি সাধারণ মানুষের ইসলাহি বয়ান পেশ করতেন। তাঁর সেই সাপ্তাহিক মজলিসগুলো লোকে ভরপুর থাকত। কি ধনী কি দরিদ্র, আলেম থেকে তালেবে ইলম সবাই একই মাটিতে বসে তাঁর বয়ান শুনতেন। ফলে তাঁর মজমা এক মহাসম্মেলনে পরিণত হতো।
রাজ শক্তির ভয় ও সোনারগাঁও অভিমুখে যাত্রা
অল্প সময়ের মধ্যেই শাইখের এর জনপ্রিয়তা এতটাই বৃদ্ধি পায় যে, সুলতান বলবনের মনে ক্ষমতার মসনদ নিয়ে আশঙ্কার জন্ম হয়। যদিও শাইখ কখনোই রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রতি বিন্দু মাত্র আগ্রহ দেখাননি। তবুও সুলতান মনে করতে থাকেন যে, তাঁর এই আধ্যাত্মিক প্রভাব ভবিষ্যতে রাজশক্তির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
এমতাবস্তায় সুলতান অত্যন্ত কৌশলে শাইখ আবু তাওয়ামা (রহ.)-কে বাংলার তৎকালীন রাজধানী সোনারগাঁওয়ে এসে দাওয়াতি কাজ করার অনুরোধ জানান। বলবন বলেন, ‘বাংলার মুসলমানরা আপনার জ্ঞান ও দাওয়াতি কার্যক্রমের অধিক প্রয়োজন অনুভব করছে।’
শাইখ পরিস্থিতি অনুধাবন করে এ প্রস্তাবে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাননি। বরং আল্লাহর ফয়সালার প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে তিনি তা সানন্দে গ্রহণ করে দিল্লি ত্যাগ করেন।
তাঁর এই সফরই পরবর্তীকালে বাংলার ইসলামী ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করে। সোনারগাঁও তাঁর হাত ধরে পরিণত হয় উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামী শিক্ষা, গবেষণা ও দাওয়াতি কেন্দ্র হিসেবে, যার প্রভাব বহু শতাব্দী ধরে বাংলার ধর্মীয়, শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে।
সোনারগাঁও: বাংলার প্রাচীন রাজধানী ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র
বর্তমান বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্তর্গত সোনারগাঁও এর পূর্বের নাম ছিল সুবর্ণগ্রাম/সুবর্ণগাঁও। মুঘল আমলের পূর্বে এটি ছিল মুসলিম সুলতানদের রাজধানী এবং ত্রয়োদশ থেকে চতুর্দশ শতাব্দী পর্যন্ত বাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নগরী।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সোনারগাঁও ছিল আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি প্রধান কেন্দ্র। জাভা, সুমাত্রা, মিসর, ইরাকসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এখানকার নৌবাণিজ্য ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ভারত মহাসাগরীয় বাণিজ্যপথে সোনারগাঁওয়ের বন্দর ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অসংখ্য বাণিজ্যজাহাজ নিয়মিত এই বন্দরে নোঙর করত এবং এখান থেকে মূল্যবান পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে রপ্তানি হতো।
১২১৪ খ্রিষ্টাব্দে (৬১০ হিজরি) বাংলা বিজেতা ইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজির উত্তরসূরি সুলতান গিয়াসউদ্দীন ইওয়াজ পূর্ববঙ্গ জয় করে সোনারগাঁওকে বাংলার শাসনব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করেন। এরপর থেকেই নগরীটি দ্রুত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব লাভ করে।
সোনারগাঁওয়ের সোনালি যুগ
সোনারগাঁওয়ে পৌঁছেই শাইখ আবু তাওয়ামা (রহ.) উপলব্ধি করেন যে, ইসলামের স্থায়ী ভিত্তি গড়ে তুলতে হলে সুসংগঠিত শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য। তাই তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন, যা অল্প সময়ের মধ্যেই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপ লাভ করে।
এই প্রতিষ্ঠান ছিল বহুমাত্রিক কার্যক্রমের কেন্দ্র। এখানে একদিকে যেমন কুরআন, হাদিস, ফিকহ ও ইসলামী আকিদার শিক্ষা প্রদান করা হতো, অন্যদিকে এটি ছিল ইসলামী দাওয়াত, গবেষণা, আত্মশুদ্ধি ও সমাজসংস্কারের প্রাণকেন্দ্র। বিশেষভাবে হাদিস শিক্ষার জন্য এখানে নিয়মিত দরসের ব্যবস্থা ছিল। দেশ-বিদেশ থেকে আগত ছাত্রদের জন্য আবাসন ও খাদ্যেরও সুব্যবস্থা ছিল। ফলে এটি দ্রুতই উপমহাদেশের অন্যতম প্রধান ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয়।
বাংলায় হাদিস শিক্ষার নতুন দিগন্ত
শাইখ আবু তাওয়ামা (রহ.)-এর অন্যতম ঐতিহাসিক অবদান হলো, বাংলার মাটিতে সর্বপ্রথম নিয়মতান্ত্রিকভাবে সহীহ বুখারি ও সহীহ মুসলিম-এর পাঠদান শুরু করা। অনেক ইতিহাসবিদের মতে, ভারতীয় উপমহাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে সহীহাইন পাঠদানের এটিই ছিল প্রথম উদ্যোগ।
পাশাপাশি তিনি মুসনাদে আবু ইয়ালা, মাশারিকুল আনওয়ারসহ হাদিসশাস্ত্রের আরো কয়েকটি কিতাব পাঠদান করতেন।
বহুমুখী শিক্ষাব্যবস্থা
শাইখ আবু তাওয়ামা (রহ.) প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু ধর্মীয় শিক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং সে সময়কার প্রয়োজন অনুযায়ী এখানে যুক্তিবিদ্যা, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান, নৌবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, গণিত, ভূগোল, রসায়ন, পদার্থবিদ্যা ও দর্শনের মতো বিষয়ও পাঠদান করা হতো।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত বিশ্বকোষে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শাইখ আবু তাওয়ামা (রহ.) প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠান ভারতীয় উপমহাদেশে হাদিসশাস্ত্রের প্রথম নিয়মতান্ত্রিক শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছিল। ধর্মীয় ও জাগতিক জ্ঞানের সমন্বিত পাঠ্যক্রমই ছিল এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
ইন্তেকাল
শাইখ আবু তাওয়ামা (রহ.) প্রায় তেইশ বছর সোনারগাঁওয়ে অবস্থান করে ইসলামের দাওয়াত, শিক্ষা ও সমাজসংস্কারে অসামান্য অবদান রেখে যান। দীর্ঘ কর্মময় জীবনের পর ৭০০ হিজরি (প্রায় ১৩০০ খ্রিস্টাব্দ) সালে তিনি ইন্তেকাল করেন। এবং সোনারগাঁওয়ের সেই ভূমিতেই তাঁকে সমাহিত করা হয়, যেখান থেকে তিনি আজীবন ইসলামের দাওয়াত ও জ্ঞানচর্চার আলো ছড়িয়েছিলেন।
তাঁর ইন্তেকালের মধ্য দিয়ে একটি যুগের অবসান হলেও তাঁর রেখে যাওয়া শিক্ষা, আদর্শ ও প্রতিষ্ঠান বহু শতাব্দী ধরে বাংলার ধর্মীয় ও বুদ্ধিবৃত্তিক জীবনে গভীর প্রভাব বিস্তার করে।
উত্তরসূরি শাইখ ইয়াহইয়া মনেরী (রহ.)
শাইখ আবু তাওয়ামা (রহ.)-এর ইন্তেকালের পর তাঁর জামাতা, প্রিয় শিষ্য এবং বিশিষ্ট মুহাদ্দিস শাইখ ইয়াহইয়া মনেরী (রহ.) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন তাঁর শিক্ষকের প্রকৃত উত্তরসূরি। প্রজ্ঞা, যোগ্যতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তিনি প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা, গবেষণা ও দাওয়াতি কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন। তাঁর নেতৃত্বে সোনারগাঁওয়ের এই ঐতিহাসিক শিক্ষাকেন্দ্র আরও বহু বছর ইসলামী জ্ঞানচর্চার উজ্জ্বল ধারাকে বহমান রাখে এবং বাংলায় আলেম তৈরির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত থাকে। কিন্তু পরবর্তীকালে তিনি পরিবার-পরিজনসহ তার নিজ এলাকা বিহারে ফিরে গেলে প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়ে। যথাযথ পরিচর্যা ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে একসময়ের ঐতিহাসিক এই বিশ্ববিদ্যালয় সময়ের স্রোতে হারিয়ে যায়। বিশাল শিক্ষাকেন্দ্রটি ধীরে ধীরে জনবসতিতে পরিণত হলেও আজও এর ধ্বংসাবশেষ সেই গৌরবময় অতীতের নীরব সাক্ষ্য বহন করে চলেছে।
লেখক: মুদাররিস, জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়া, কামরাঙ্গীরচর, ঢাকা।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

