Logo

ধর্ম

হাফেজ গড়ার অনন্য কারিগর

বেলায়েত হুসাইন

বেলায়েত হুসাইন

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৫, ২১:১৫

অ
হাফেজ গড়ার অনন্য কারিগর

শায়খ নেছার আহমাদ আন নাছিরী

বাংলাদেশী হাফেজদের সুনাম বিশ্বজুড়ে। আরব না হয়েও আরবি ভাষায় পবিত্র কোরআনের চমৎকার তিলাওয়াত দিয়ে বিশ্ববাসীর মন কেড়েছে এ দেশের অসংখ্য হাফেজ। বিশ্বের নানা প্রান্তে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি হাফেজদের ধারাবাহিক সাফল্য এর বড় প্রমাণ। আর যেসব হাফেজে কোরআন বিদেশের মাটিতে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন, তাদের বড় একটি অংশ শায়খ নেছার আহমাদ আন নাছিরির হাতে গড়া ছাত্র।

একনজরে শায়খ নেছার আহমাদ আন নাছিরী
হিফজ মাদ্রাসা জগতের তিনি একজন মহান সংস্কারক। কোরআনিক জগতে বিশ্বজয়ের এক অসাধারণ রূপকার। এই মহান মানুষটি বহু প্রতিভাবান কোরআনের সৈনিক। কোরআনের আলো সর্বত্র পৌঁছে দিতে তিনি নানামুখী কাজ করে যাচ্ছেন। তার জন্ম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামে। তিনি ১৯৮২সালে একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবার নাম জজ মিয়া।

শায়খ নাছিরির বহু সফলতার মধ্যে অন্যতম এবং সবচেয়ে বড় সফলতা তার প্রতিষ্ঠিত ‘মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র মতো একটি যুগোপযোগী আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। এই প্রতিষ্ঠানে পড়েই অসংখ্য শিক্ষার্থী পবিত্র কোরআনের হাফেজ হওয়ার পাশাপাশি শতাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে। এটির মূল ক্যাম্পাস রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে। এর একটি করে শাখা সাইনবোর্ডের পাশাপাশি শায়খ নাছিরির নিজ জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও রয়েছে।

বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়ানো শায়খ নাছিরির ছাত্র-ছাত্রীরা এ পর্যন্ত সৌদি আরব, দুবাই, কুয়েত, বাহরাইন, ইরান, জর্দান, লিবিয়া, আলজেরিয়ায়সহ বহু দেশ থেকে দেশের পক্ষে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। একাধিকবার প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় হওয়ার মাধ্যমে লাল সবুজের পতাকাকে বিশ্ব মঞ্চে সমুন্নত করেছে। এমনকি শুধু সৌদি আরবেই দশের অধিক বিশ্বজয়ের অনন্য রেকর্ড রয়েছে এই মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা!

শায়খ নেছার আহমাদ আন নাছিরী সাহেবের হাতে গড়া বিশ্বজয়ী হাফেজদের মধ্যে কয়েকজন হলেন- হাফেজ তরিকুল ইসলাম, হাফেজ তানভির হোসাইন, হাফেজ সাআদ সুরাইল, হাফেজ এমদাদুল্লাহ, হাফেজ আনাস, হাফেজ হেলাল উদ্দিন, হাফেজ হুজায়ফা, হাফেজ হাবিবুল্লাহ, হাফেজ হোসাইন, হাফেজ ফয়সাল আহমাদ, হাফেজ তরিকুল ইসলাম, সাইফুর রহমান, হাফেজ আবু রাহাত, হাফেজ আবু তলহা, হাফেজ মহিউদ্দিন ও হাফেজ বশির আহমাদ।

কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বজয়ের ক্ষেত্রে শায়েখ নাছিরির ছাত্রীরাও পিছিয়ে নেই। তারাও বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে বিশ্বের নানা প্রান্তে সমুন্নত করেছে। তাদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলেন- হাফেজা রাফিয়া হাসান জিনাত, হাফেজা ফারিহা ও আদিবা তাসনিম, হাফেজা শিফা সহ আরো অনেকেই।

বহু গ্রন্থের লেখক, হিফজ শিক্ষা-সিলেবাসের প্রবর্তক
শায়খ নেছার আহমাদ আন নাছিরীর স্বপ্ন অনেক বিস্তৃত। পবিত্র কোরআনের শিক্ষাকে আরও আকর্ষণীয় ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে তিনি একটি আধুনিক শিক্ষা-সিলেবাসের প্রবর্তন করেছেন। নুরানী, নাজেরা ও হিফজ বিভাগকে কেন্দ্র করে তৈরি করা তার সিলেবাসের মূল আকর্ষণ হচ্ছে- সিলেবাস আকারে সাজানো তিন মাসে তাহফিজ কায়দা, তিন মাসে তাহফিজ আমপারা, ছয় মাসে নাজেরা শেষ করা এরপর হিফজ শুরু করে অল্প সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের হাফেজ-হাফেজা তৈরি করা।

মারকাজুত তাহফিজ ফাউন্ডেশন
কোরআনের বহুমুখী খেদমত আঞ্জাম দেয়ার জন্য শায়খ নেছার আহমাদ আন নাছিরী প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘মারকাজুত তাহফিজ ফাউন্ডেশন’। এই প্রতিষ্ঠানের রয়েছে একটি নিজস্ব প্রকাশনা বিভাগ। এর অধীনে প্রকাশিত হয়েছে বেশকিছু কিতাব ও পুস্তিকা, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- আন্তর্জাতিক ও জাতীয় হাফেজদের জন্য বিশেষ ভাবে প্রস্তুত করা তাহফিজ কোরআন শরিফ, তাহফিজ কায়দা, তাহফিজ আমপারা, তাহফিজ মুয়াল্লিমুত তাজভীদ, নুরানি এবং নাজেরা ও হিফজ বিভাগের জন্য ডিজিটাল সিলেবাসের প্যাকেজসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কিতাব।

সামাজিক কাজ ও ধর্মীয় আন্দোলনে শায়খ নাছিরি
নানা সামাজিক কাজেও সরব উপস্থিতি শায়খ আন নাছিরির। সর্বশেষ সুইডেনে পবিত্র কোরআন অবমাননার ঘটনায় তার অভিনব প্রতিবাদ পদ্ধতিটি বেশ প্রশংসিত হয়েছে। তিনি দেশটিতে কোরআনের ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে অন্তত এক হাজার কপি ‘তাহফিজ কোরআন শরিফ’ পাঠিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, আমরা নিজেদের জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবাসি পবিত্র কুরআনকে। যারা কোরআন পোড়ানোর মতো জঘন্য কাজ করছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আশা করছি- যেখানে পবিত্র কোরআনের অবমাননা হয়েছে, সেখানে এর চর্চা আরো বৃদ্ধি পাবে ইনশাআল্লাহ!

বিএইচ/

Logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন