Logo

নির্বাচিত

বাংলাদেশের পত্রিকা থেকে

সাউথইস্ট ব্যাংকের কারসাজিতে খেলাপি হয়েও এমপি

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৯:৩৭

অ
সাউথইস্ট ব্যাংকের কারসাজিতে খেলাপি হয়েও এমপি

ছবি : সংগৃহীত

চলছে বইমেলা। নতুন বইয়ের সুবাস সুখ বিলাচ্ছে পাঠকহৃদয়ে। রসেভরা গল্প-উপন্যাস কিংবা কবিতা-ছড়ার ছন্দতালে হাবুডুবু খাচ্ছে বইপাগলরা। আমাদের তরফ থেকে এই ‘শুদ্ধপাগলদের’ প্রতি ভালোবাসা। শুভেচ্ছা। নতুন বইয়ের নতুন আলোয় সমৃদ্ধ হোক সবার জীবন—এই প্রত্যাশায় চলুন জেনে নিই দিনের বাংলাদেশকে। চোখ বুলাই দেশের প্রথম সারির দৈনিকগুলোর প্রধান শিরোনামে—

সরকারের সামনে ছয় চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের খবরে লিড করা হয়েছে, উত্তরাধিকার সূত্রে অন্তর্বর্তী সরকার অনেকগুলো সমস্যা নিয়ে দায়িত্ব নিয়েছে। ফলে বিগত ছয় মাসে তাদের যেটা মূল কাজ, তারা সেটি এখনো শুরু করতে পারেনি। সামগ্রিকভাবে দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি ভালো না, দেশি-বিদেশি দুটোই। আবারও সক্রিয় হচ্ছে অপরাধের অর্থনীতি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বেশ খারাপ। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে অনেক ক্ষেত্রে তাদের অলস মনে হচ্ছে, কোথাও মনে হচ্ছে অগোছালো। মুদ্রানীতি, রাজস্বনীতিসহ গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোয় এখনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হয়নি। 


বিশ্লেষকরা বলছেন, নানান মহল থেকে তোলা দাবির বিষয়ে মনে হয় সরকারের একটা ভীতি আছে। গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলেও এর গতি মন্থর। সরকারের কার্যক্রম প্রকৃত মৌলিক সংস্কারগুলো থেকে অনেক দূরে। তবে, আগামী ছয় মাসে সরকার যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ পরিস্থিতি উন্নতি, মুদ্রা ও রাজস্বনীতি উন্নতি, প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজগুলো শুরু এবং গণহত্যার বিচার কাজগুলো আশানুরূপ ভালো করতে পারে, তবে গত ছয় মাসের সমস্যা মানুষ বড় করে দেখবে না।

এদিকে জনজীবনে নাভিশ্বাস তুলে দিচ্ছে মূল্যস্ফীতি। মূলধনের প্রবাহ কমে গিয়ে শ্লথ হয়ে পড়েছে বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি। আসছে না দেশি-বিদেশি নতুন বিনিয়োগ। বাড়ছে দারিদ্র্য ও কর্মহীনতা। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে বাংলাদেশে আত্মঘাতী জনতুষ্টিবাদ বড় ধরনের অস্থিতিশীলতার কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের। 

জুলাই আন্দোলন চলার সময় এইচএসসি ও সমমানের কিছু বিষয়ে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এলে স্থগিত হওয়া পরীক্ষা বাতিল করে অটোপাসের দাবিতে আন্দোলনে নামে এইচএসসি ও সমমান পর্যায়ের পরীক্ষার্থীরা। ক্ষমতা গ্রহণের ওই মাসেই সরকারও অটোপাসের দাবি মেনে নেয়। 

দিনভর বিক্ষোভ, ক্ষমা চাইল পুলিশ, সন্ধ্যায় ছাত্র গুলিবিদ্ধ
প্রথম আলো লিড করেছে,শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার গাজীপুরে দিনভর বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটি। বিক্ষোভের মুখে দায়িত্বে অবহেলার কথা স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন মহানগর পুলিশ কমিশনার। বিক্ষোভ শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের ওপর শুক্রবার রাতের হামলার ঘটনায় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার ও ১৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এক দিনের মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাসে বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এরপরই ঘটে গুলির ঘটনা।

গুলিবিদ্ধ মোবাশ্বের হোসেন (২৬) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন গাজীপুর জেলার একজন সদস্য ও ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের ছাত্র। তাঁর বাড়ি নগরের হারিনাল দক্ষিণপাড়া এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, শহরের জোর পুকুরপাড়ের দিক থেকে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থাকা শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

গুলিতে আহত মোবাশ্বের হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে একে অপরের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছিলেন। তখন জোড় পুকুরপাড়ের দিক থেকে একটি মোটরসাইকেলে দুর্বৃত্তরা এসে হঠাৎ তাঁদের লক্ষ্য করে একটি গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। গুলিটি তাঁর ডান হাতের এক পাশে লাগে। আশপাশের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

ওই হাসপাতালের চিকিৎসক মো. মনজুর মোর্শেদ সাংবাদিকদের জানান, গুলিটি লেগেছে মোবাশ্বের হোসেনের ডান বাহুতে। তিনি সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন।

গতকাল সকাল থেকে জেলা শহরের রাজবাড়ির মাঠ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মী ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। বেলা দুইটার দিকে ডিসি অফিসের সামনের রাস্তায় বসে বিক্ষোভ ও স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক সারজিস আলম।

ডেভিল হান্ট শুরু
বাংলাদেশ প্রতিদিন লিড করেছে, সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে শুরু হয়েছে যৌথ বাহিনীর অভিযান। আর এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’। গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গাজীপুর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান চলবে সারা দেশেই।

গাজীপুরে শুক্রবার রাতে ছাত্র-জনতার ওপর সন্ত্রাসী আক্রমণের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ নামের এই অভিযানের ঘোষণা দেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল জানানো হয়, শুক্রবার রাতে গাজীপুরে ছাত্র-জনতার ওপর সন্ত্রাসী আক্রমণের ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সমন্বয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল থেকেই গাজীপুর এলাকাসহ সারা দেশে এই  অভিযান শুরু হয় বলে জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। এ ছাড়াও এই অপারেশন নিয়ে আজ রবিবার সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। পতিত স্বৈরাচারের সন্ত্রাসীদের হামলায় কয়েকজন ছাত্র-জনতা গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।

এর আগে গাজীপুরে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। গতকাল দুপুর ১২টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা তো নিচ্ছিই, যারা জড়িত তাদের সর্বোচ্চ বিচারের আওতায় আনা হবে। তাদের যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি হয় এ ব্যবস্থা করা হবে।’

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি এবং সেগুলো জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। তাই অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ বাহিনী অভিযান শুরু করবে।

তিনি বলেন, লাইসেন্সধারী বেশির ভাগ অস্ত্র পুলিশের কাছে জমা দেওয়া হলেও লুট হওয়া অস্ত্রের বড় অংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশে অস্ত্র প্রবেশ করানোর মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। এ কারণে অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ বাহিনীর অভিযান ফের শুরু হবে।

জড়ো হচ্ছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা
যুগান্তর লিড করেছে, সাবেক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের গাজীপুরের বাড়িতে শুক্রবার রাতে ‘ডাকাত পড়েছে, যার যা আছে, তা নিয়েই এগিয়ে আসুন’-এমন মিথ্যা ঘোষণা দেওয়া হয় মসজিদের মাইকে। এরপরই বৈষমবিরোধী ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা চালায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও জাহাঙ্গীর বাহিনীর সন্ত্রাসীরা। এতে ১৪ জন আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে শনিবার দিনভর উত্তাল ছিল গাজীপুর।

এরই মধ্যে শনিবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের সড়কে দুর্বৃত্তদের গুলিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী মোবাশ্বির হোসাইন (২৬) নামে এক যুবক আহত হন। স্থানীয়দের অভিযোগ-পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে গাজীপুরের আওয়ামী লীগের পলাতক সন্ত্রাসীরা বেশ কয়েকদিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হয়েছেন। যা এখনো অব্যাহত আছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কেউ কেউ। এদিকে গত কয়েকদিনে গাজীপুরে যারা প্রবেশ করেছেন, তাদের শনাক্ত করতে মোবাইল ফোনের সিম পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে বিটিআরসির সহায়তা নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এদিন দুপুরে ডিসি অফিসের সামনের সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। তাদের দাবি, মোজাম্মেল হকের বাড়িতে ছাত্র-জনতার ওপর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এবং সাবেক সিটি মেয়র জাহাঙ্গীরের সন্ত্রাসী বাহিনী ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। তারা প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে বলেছেন, এই সময়ের মধ্যে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে তারা সরকারের বিরুদ্ধে চলে যাবেন। এ সময় স্থানীয় প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসক, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপারের পদত্যাগ দাবি করেন আন্দোলনকারীরা। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকেও ক্ষমা চাইতে বলেন। এ সময় তারা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধেরও দাবি জানান।

সারাদেশে যৌথবাহিনীর ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’
আমার দেশ লিড করেছে, গাজীপুরে ছাত্র-জনতার ওপর সন্ত্রাসী আক্রমণের ঘটনার প্রেক্ষাপটে সারাদেশে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার থেকে শুরু হয়েছে এ অপারেশন কার্যক্রমের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’।

এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ অভিযানের কথা জানানো হয়। এর মধ্য দিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক ছয় মাসের মাথায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বড় ধরনের অপারেশন শুরু হলো।

সরকারের এ অপারেশনকে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে স্বাগত জানিয়েছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তারা বলেছেন, আগেই এ ধরনের অপারেশন দরকার ছিল। এটা হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগেই উন্নত হতো।

গাজীপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন গাজীপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার নাজমুল করিম খান। তিনি বলেন, রাতে যে ঘটনাটি ঘটেছে, তাতে পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে আমি ক্ষমা চাচ্ছি। আমি ব্যর্থতা স্বীকার করে নিচ্ছি। হামলাকারী কাউকে ছাড়া হবে না, প্রতিটি হামলার জবাব দেওয়া হবে। যেসব পুলিশ রেসপন্স করতে দেরি করেছে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

এদিকে ওই হামলার ঘটনায় গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ প্রতিবাদ হয়েছে। এ সময় আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী (সেনা, নৌ ও বিমান), বিজিবির সমন্বয়ে গঠিত এ অপারেশনের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কার্যক্রম মনিটরিং করছে। অপারেশন কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং করার জন্য মন্ত্রণালয়ে স্থাপন করা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। অপারেশনের বিষয়ে আইজিপি শেখ বাহারুল আলম আমার দেশকে জানান, আজ রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিস্তারিত ব্রিফিংয়ে জানাবে। সে পর্যন্ত ধৈর্য ধরতে বলেন তিনি।

সাউথইস্ট ব্যাংকের কারসাজিতে খেলাপি হয়েও এমপি
সমকাল লিড করেছে,ঋণখেলাপি হওয়া সত্ত্বেও তা গোপন করে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তিন প্রার্থীকে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেয় বেসরকারি খাতের সাউথইস্ট ব্যাংক। তারা হলেন– সাবের হোসেন চৌধুরী, মোরশেদ আলম ও মামুনুর রশিদ কিরণ। গত বছরের ৭ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনে তারা সবাই এমপি হন। আরেক আওয়ামী লীগ নেতা বেঙ্গল ব্যাংকের পরিচালক প্রকৌশলী আবু নোমান হাওলাদারের খেলাপি ঋণের তথ্য গোপন রাখায় তিনি এখনও পরিচালক পদে আছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক পরিদর্শনে ভয়াবহ এ অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। খেলাপি ঋণ নিয়মিত দেখানোর সঙ্গে জড়িত সাউথইস্ট ব্যাংকের কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। খেলাপির তথ্য লুকানোর পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার ঋণে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। অনিয়মের বিষয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ব্যাখ্যা চেয়ে গত ১৩ জানুয়ারি চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ১২ মার্চের মধ্যে দফা ধরে ধরে ব্যাখ্যা দিতে হবে।

নিয়ম অনুযায়ী কেউ ঋণখেলাপি হলে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরোতে (সিআইবি) রিপোর্ট করতে হয়। কারও ঋণের শ্রেণি পরিবর্তন হলে একসময় শাখা থেকে প্রথমে নিজ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় এবং সেখান থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতে হতো। বেশ কিছু প্রক্রিয়া মেনে সিআইবির তথ্য হালনাগাদ করা হতো। তবে আশ্চর্যজনকভাবে গত নির্বাচনের তিন মাস আগে হঠাৎ করে তথ্য হালনাগাদের ক্ষমতা ব্যাংকের হাতে তুলে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এই সুযোগের অপব্যবহার করে সাউথইস্ট ব্যাংক তিনজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর খেলাপি ঋণের তথ্য গোপন করে। এমন অনিয়ম অন্য ব্যাংকেও ঘটতে পারে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন।

কী ঘটেছে গাজীপুরে?
মানবজমিন লিড করেছে, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা। গাজীপুর চৌরাস্তা মোড়ের চান্দিনা টাওয়ারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের একটি অফিস উদ্বোধনের কাজ চলছিল। হঠাৎ একটি ফোন কল আসে। বলা হয়- গাজীপুরের ধীরাশ্রম মন্দিরবাড়ী এলাকায় সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম. মোজ্জামেল হকের বাড়িতে কিছু লোক ভাঙচুর-লুটপাট চালাচ্ছে। এই খবর পেয়ে আমরা ৪০ থেকে ৫০জন শিক্ষার্থী ৪টা ইজিবাইকে করে সেখানে যায়। তারা সেখানে গিয়ে দেখেন কয়েকজন মোজ্জামেল হকের বাড়ির ভেতরে ভাঙচুর করছে।

শিক্ষার্থীদের একটি দল ভেতরে প্রবেশ করে। আরেক গ্রুপ বাইরে ছিল। এ সময় হঠাৎ বাড়ির সামনের মসজিদের মাইকে জয় বাংলা বলে ঘোষণা করা হয়- বলা হয় এলাকায় ডাকাত ঢুকেছে। সব লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। আপনারা সবাই যার যা আছে নিয়ে বের হয়ে আসুন। এরপর এলাকাটির প্রায় সবক’টি মসজিদে একই ঘোষণা দেয়া হয়। ঘোষণার পরপরই এলাকাটির প্রায় এক-দেড়শ’ মানুষ ধারালো অস্ত্র, লাঠি-সোটা নিয়ে বের হয়ে মোজাম্মেল হকের বাড়ির চারপাশ ঘিরে ফেলে। তারা এসেই প্রথমে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের মারধর করে। পরে বাড়ির ভেতরে ঢুকে শিক্ষার্থীদের আটকে রেখে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকে। তখন তাদের কেউ কেউ দুইতলা থেকে নিচে লাফ দেন। 

১০ থেকে ১৫ জন জীবন বাঁচাতে বাড়িটির ছাদে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দেন। তারা ছাদের দরজা ভেঙে ছাদে গিয়েও হামলা করে। গাজীপুরের ধীরাশ্রমে শুক্রবার রাতে হামলার এমনই বর্ণনা দিয়েছেন আহতরা। সরজমিন ঘুরে স্থানীয়দের কাছ থেকেও এমন বর্ণনা মিলেছে। যদিও ঘটনার পর থেকে এলাকায় পুরুষদের খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকেও কেউ ঘটনার বিষয়ে কথা বলছেন না। হামলার শিকার হয়ে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১২তলার কেবিনে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন চান্দিনা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমাদের ওপর পরিকল্পনা করেই হামলা হয়। তারা মাথা লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। একটা কোপ এসে লাগে আমার বাম চোখের পাশে। আমি নিচে লুটিয়ে পড়লে তারা আমাকে মৃত ভেবে চলে যাচ্চিল। তখন একজন লাইট মেরে বলে- শালা মরেনি।

ওদের ধরে নিয়ে চল। আজকে সবক’টাকে একদম শেষ করে দেবো। তখন আমাদেরকে ধরে বাড়ির সামনের মসজিদে নিয়ে গিয়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে আবারো মারধর করে। আমার সামনেই একজনের পায়ের রগ কেটে দেয়। আমাকেও বলা হয়- ভিডিওতে মাফ চা, বল কোনোদিন আর এসব করবি না। না হলে তোরও পায়ের রগ কেটে দেয়া হবে। পরে আমি তাদের কাছে মাফ চেয়ে জীবনটা রক্ষা করি। 

ফ্যাসিবাদের বীজ ৭২-এর সংবিধানে
কালের কণ্ঠ লিড করেছে, সংবিধান সংস্কার কমিশন সংবিধানের বিদ্যমান প্রস্তাবনার বদলে নতুন প্রস্তাবনা রাখা এবং রাষ্ট্রের বাংলা নাম পরিবর্তনসহ নানা সুপারিশ করেছে। এ ছাড়া ১৯৭২ সালের বিদ্যমান সংবিধান সম্পর্কে বলা হয়েছে, ফ্যাসিবাদের বীজ ’৭২ সালের সংবিধানের মধ্যেই নিহিত ছিল। 

আর নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে জরিপের ফল হিসেবে বলা হয়েছে, দেশের ৬৮.২৮ শতাংশ মানুষ নির্দলীয় রাষ্ট্রপতি এবং এ পদে সরাসরি ভোট চায়। গতকাল শনিবার নির্বাচনব্যবস্থা, সংবিধান, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ ও পুলিশ সংস্কার কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

সংবিধান সংস্কার কমিশনের সংবিধানে প্রতিস্থাপনের জন্য সুপারিশ করা নতুন প্রস্তাবনাটি হচ্ছে, ‘আমরা, বাংলাদেশের জনগণ, যারা এই ভূখণ্ডের মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে ঐতিহাসিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় জনযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছি এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছি; আমরা শহীদদের প্রাণোৎসর্গকে পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে অঙ্গীকার করছি যে, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের যে আদর্শ বাংলাদেশের মানুষকে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধে এবং গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীনতার যে আদর্শ ২০২৪ সালে ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ করেছিল, সেই সব মহান আদর্শ রাষ্ট্র ও সমাজে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে; আমরা জনগণের সার্বভৌম অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্রকে সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করে জনগণের জন্য একটি সংবিধান রচনা ও বিধিবদ্ধ করছি, যে সংবিধান বাংলাদেশের জনগণের সর্বোচ্চ আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ এবং যে সংবিধান স্বাধীন সত্তায় যৌথ জাতীয় বিকাশ সুনিশ্চিত করবে এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার সংরক্ষণ করবে; আমরা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করছি যে, এই সংবিধান প্রতিটি নাগরিককে পরস্পরের প্রতি অধিকার, কর্তব্য ও জবাবদিহির চেতনায় সংঘবদ্ধ করবে, সর্বদা রাষ্ট্র পরিচালনায় জনপ্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করবে, আন্তর্জাতিক শান্তি ও সহযোগিতার নীতিকে অনুসরণ করবে এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখবে; জনগণের সম্মতি নিয়ে আমরা এই সংবিধান জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান হিসেবে গ্রহণ করছি।’

রাষ্ট্রের নাম সংশোধনে কমিশনের সুপারিশ, সংবিধানের প্রযোজ্য সব ক্ষেত্রে ‘প্রজাতন্ত্র’ এবং ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ শব্দগুলোর পরিবর্তে ‘নাগরিকতন্ত্র’ এবং ‘জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ’ শব্দগুলো ব্যবহৃত হবে। তবে ইংরেজি সংস্করণে ‘রিপাবলিক’ ও ‘পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ’ থাকবে। নাগরিকতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা হবে ‘বাংলা’।

এটিআর/



Logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন