Logo

নির্বাচিত

বাংলাদেশের পত্রিকা থেকে

অভিযানে গেলে নাকাল, উভয় সংকটে পুলিশ

Icon

বাংলাদেশের খবর

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৯:১৮

অ
অভিযানে গেলে নাকাল, উভয় সংকটে পুলিশ

ছবি : সংগৃহীত

চলছে বইমেলা। নতুন বইয়ের সুবাস সুখ বিলাচ্ছে পাঠকহৃদয়ে। রসেভরা গল্প-উপন্যাস কিংবা কবিতা-ছড়ার ছন্দতালে হাবুডুবু খাচ্ছে বইপাগলরা। আমাদের তরফ থেকে এই ‘শুদ্ধপাগলদের’ প্রতি ভালোবাসা। শুভেচ্ছা। নতুন বইয়ের নতুন আলোয় সমৃদ্ধ হোক সবার জীবন—এই প্রত্যাশায় চলুন জেনে নিই দিনের বাংলাদেশকে। চোখ বুলাই দেশের প্রথম সারির দৈনিকগুলোর প্রধান শিরোনামে—

তৃণমূল পর্যন্ত চলছে অভিযান
দেশজুড়ে চলমান অপারেশন ডেভিল হান্টে একদিনে ১ হাজার ৩০৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে সব মেট্রোপলিটন পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে ২৭৪ জনকে। আর সারা দেশের রেঞ্জ পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে ১ হাজার ৩৪ জনকে। গতকাল সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

এ অভিযানে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় কাজ করছে পুলিশ ও আনসার বাহিনী। শুরু থেকেই অভিযান চলছে শহর থেকে তৃণমূল পর্যন্ত। যতদিন পর্যন্ত দেশ থেকে ডেভিল শেষ না হবে, ততদিন এই অপারেশন চলবে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। 

গাজীপুরে অপারেশন ডেভিল হান্টের অভিযানে গতকাল বিকাল পর্যন্ত ১২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ৮৫ জনকে এবং গাজীপুর জেলা পুলিশ ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করে। আটকদের বেশির ভাগই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থক। দেশজুড়ে চলমান অপারেশন ডেভিল হান্টের অংশ হিসেবে অভিযান চালিয়ে তাদের জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ-উত্তর) রিয়াজ উদ্দিন বলেন, গাজীপুর মহানগরের ৮টি থানা এলাকা থেকে এ পর্যন্ত (বিকাল সাড়ে ৪টা) মোট ৮৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

বিসিএস পরীক্ষা–নিয়োগ দেড় বছরে শেষ করার সুপারিশ
প্রথম আলো লিড করেছে, ৪১তম বিসিএসের নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লেগেছে প্রায় সাড়ে চার বছর। আর ৪৩তম বিসিএসের ক্ষেত্রে সময় লেগেছে চার বছর দুই মাস। শুধু এ দুটি বিসিএস নয়, বছরের পর বছর ধরেই কমবেশি এমন দীর্ঘসূত্রতা চলে আসছে। এ পরিস্থিতিতে দেড় বছরের মধ্যেই বিসিএস পরীক্ষা শেষ করে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুপারিশ করেছে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন।

কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, বিসিএস পরীক্ষা শেষ করতে হবে এক বছরের মধ্যে। বাকি প্রায় ছয় মাসে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ ও নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। এ জন্য প্রিলিমিনারি, লিখিত, মৌখিক ও মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা বছরের কোন সময়ে হবে, তারও একটি বার্ষিক পঞ্জিকা বা ক্যালেন্ডার নির্ধারণ করে দিয়েছে কমিশন। বিসিএস পরীক্ষার পাঠ্যসূচিতেও বড় পরিবর্তন আনার সুপারিশ এসেছে। এ ছাড়া বিদ্যমান সরকারি কর্ম কমিশনকে (পিএসসি) পুনর্গঠন করে তিনটি পিএসসি করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এখন একেকটি বিসিএস পরীক্ষা গ্রহণ করে নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করতে সাড়ে তিন বছর থেকে সাড়ে চার বছর পর্যন্ত সময় লাগছে। পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা ও ফল প্রকাশের অনিশ্চয়তার কারণে বিসিএস পরীক্ষার্থীরা একসঙ্গে তিন-চারটি পরীক্ষার প্রস্তুতি বা পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে বাধ্য হন। বিসিএসের চাকরিতে সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক মর্যাদা বেশি হওয়ায় এর প্রতি চাকরিপ্রার্থীদের ঝোঁক বেশি। এ কারণে লেখাপড়া শেষ করা বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণীর জীবনের বড় সময় চলে যাচ্ছে বিসিএস পরীক্ষার পেছনে।

জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনে বিসিএস পরীক্ষা নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ ও সুপারিশ করা হয়েছে। গত শনিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে জনপ্রশাসন সংস্কারসহ ছয়টি সংস্কার কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এর আগে বুধবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেন কমিশনের প্রধান আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী।

এগোচ্ছে সংসদ নির্বাচন!
বাংলাদেশ প্রতিদিন লিড করেছে, এ বছরের মধ্যেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে সরব হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো। ছয়টি সংস্কার কমিশন ইতোমধ্যে সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা দিয়েছে। এখন শুরু হবে সুপারিশ বাছাইপর্ব। সে সঙ্গে সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে হবে সংলাপ। তবে সংলাপ যাতে সময়ক্ষেপণের ইস্যু না হয়, সেজন্য রাজনৈতিক দলগুলো নজর রাখছে, সেই সঙ্গে নির্বাচনের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে।

ইতোমধ্যে দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণাসহ নানা দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে আগামী মার্চে পবিত্র রমজান মাসেও ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে ভোটের দাবিতে সক্রিয় থাকবে দলগুলো। এদিকে সংস্কার করেই নির্বাচন- এমন অবস্থান থেকে সরে এসেছে সরকার। চলছে ভোট এগোনোর চিন্তাভাবনা।

জানতে চাইলে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে ও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে সঠিক পথে আনতে প্রয়োজনে আবারও রাস্তায় আন্দোলন করতে হতে পারে। সরকারকে আগস্টে জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে বিএনপি দ্রুত আন্দোলনের কথা ভাবছে।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে সংস্কারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হলে আমরা দলীয় ফোরামে আলোচনা করে কবে ভোট চাই, তা ঠিক করব।’

রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে শনিবার আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানান, অযথা সময়ক্ষেপণ করে সরকারে থাকার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা নেই তাঁদের। তাঁরা অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্র মেরামতের মৌলিক শর্ত পূরণ করতে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে যে সংস্কারগুলো অতিজরুরি, সেগুলো করার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে চলে যেতে চান।

আলোচনার টেবিলেই সমাধানের পথ
যুগান্তর লিড করেছে, সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনার টেবিলে সমাধান খুঁজবে রাজনৈতিক দলগুলো। এর আগে তারা নিজ নিজ দলীয় ফোরামে এসব সুপারিশ নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করবে। কমিশনের কোন কোন সুপারিশ এখনই বাস্তবায়নযোগ্য, তা তুলে ধরবে রাজনৈতিক দলগুলো। পাশাপাশি যে বিষয়গুলো নির্বাচিত সরকার করবে, সেগুলোয়ও সুস্পষ্ট মতামত দেবেন নেতারা। বিশেষ করে সংবিধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হাত দিতে নেতারা আরও চিন্তাভাবনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলছেন। বিষয়টি তারা নির্বাচিত সরকারের হাতেই ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছেন।

শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত ছয় সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এসব কথা বলেন। তারা বলেন, কমিশনের প্রস্তাবগুলোই চূড়ান্ত নয়। দেখার বিষয়-এসব থেকে কোন কোন প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য সরকার গ্রহণ করে। কেউ বলেছেন, বেশকিছু প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য।

অনেকেই বলেছেন-রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কারের সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রায় সবাই সংবিধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। চলতি মাসের মাঝামাঝি সংস্কার প্রতিবেদনগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা আছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ সংলাপের মাধ্যমেই আগামী নির্বাচনের পথে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হচ্ছে।

প্রযুক্তি খাতের নিয়ন্ত্রণ ভারত ও শেখ পরিবারের হাতে
আমার দেশ লিড করেছে, শেখ হাসিনার পতনের ছয় মাস পার হলেও দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাত এখনো পুরোটাই ভারত ও ফ্যাসিবাদের দোসর শেখ পরিবারের নিয়ন্ত্রণে। ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনার সরকার নানা অপকৌশলে খাতটি শেখ পরিবারের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী, রাজনীতিক ও সরাসরি ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেয়। ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগের 

সব তথ্য ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারী ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে জমা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এমনকি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের সব ডাটা এখন রয়েছে ভারতীয় সার্ভারে। এতে জাতীয় নিরাপত্তাও হুমকির মুখে রয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শেখ হাসিনার শাসনে তথ্যপ্রযুক্তি খাত ভারতের নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ কারে দেয় বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন 

(বিটিআরসি)। এজন্য বিটিআরসি সে সময় নানা অজুহাত তৈরি করে। সাবমেরিনের বিকল্প প্রয়োজনের কথা বলে ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবল (আইটিসি)। এর মাধ্যমে ভারতনির্ভর পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবসার অনুমোদন দেওয়া হয়। পাশাপাশি তিনটি প্রাইভেট সাবমেরিনের অনুমোদনও দেয় হাসিনার সরকার।

এগুলোর মালিকানা দেওয়া হয় সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ছেলে রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক ও সামিট গ্রুপকে। কোম্পানি তিনটিকে ব্যবসা পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয় ২০৪২ সাল পর্যন্ত। বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, চুক্তি বাতিল না হলে তাদের হাতেই থাকবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশ ২০০৬ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবল এসএমডব্লিও-৪-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। পরে সাবমেরিন ক্যাবলের তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় সরকার ২০০৮ সালে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড গঠন করে। 

অভিযানে গেলে নাকাল, উভয় সংকটে পুলিশ
সমকাল লিড করেছে, অপরাধী ধরতে অভিযানে নেমে শান্তিতে নেই পুলিশ। কোথাও হচ্ছে হামলা, কোথাও পড়তে হচ্ছে বাধার মুখে। ঘেরাও করে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া, থানা ভাঙচুরের উদাহরণও আছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় এমন ঘটনা ঘটছে একের পর এক। এসব কারণে অপরাধ দমনে কঠোর হতে পারছে না এ বাহিনী। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকেও কোনো কোনো সময় বনে যাচ্ছে নীরব দর্শক। আবার কখনও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি শেষ হওয়ার পর ঘটনাস্থলে ছুটছেন পুলিশ সদস্যরা। পুলিশের যখন এ পরিস্থিতি, তখন সেবাপ্রার্থীরাও পড়ছেন দোটানায়। জনমনে দেখা দিচ্ছে নানা প্রশ্ন। সব মিলিয়ে পুলিশ যেন এখন ‘শাঁখের করাত’!

বিশ্লেষকরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এখনও জনমনে উদ্বেগ রয়ে গেছে। এ পটভূমিতে শারীরিক ও মানসিকভাবে আক্রমণের শিকার হওয়ার পর সংকট কাটিয়ে উঠতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। ‘দলবদ্ধ রোষ’-এর নামে যারা আইন প্রয়োগে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাদের।

মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কারও কারও মধ্যে আইনকে তাচ্ছিল্য করার যে প্রবণতা, এটি কাটিয়ে উঠতে না পারলে শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ কঠিন। আবার অনেক পুলিশ সদস্য আইনি কাঠামোর মধ্যে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিধায় থাকেন। তাদের মধ্যে শঙ্কা হলো, এ পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে তাদের কোনো প্রশাসনিক জবাবদিহির মধ্যে পড়তে হতে পারে। আবার কেউ কেউ ‘মব ভায়োলেন্স’ নিয়ে ভীত। কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল আতঙ্কে থাকেন।

‘শয়তানের সন্ধানে’ ২৪ ঘণ্টা, গ্রেপ্তার ১৩০৮
মানবজমিন লিড করেছে, ‘শয়তানের’ সন্ধানে দেশ জুড়ে চলছে অপারেশন ডেভিল হান্ট। কার্যক্রম শুরু করেছে সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টার। প্রথম দিনের অপারেশনে ১৩০৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরমধ্যে পুলিশের মেট্রোপলিটন এলাকায় ২৭৪ ও রেঞ্জের পুলিশের বিভিন্ন জেলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১ হাজার ৩৪ জনকে। সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে গাজীপুর থেকে। গাজীপুর জেলা পুলিশের পাঁচটি থানা থেকে ৪৬ জনসহ মহানগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৮২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বিকাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী গ্রেপ্তার হওয়াদের অনেকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আছে দাগি ও পলাতক আসামি এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসী। 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রগুলো জানিয়েছে, সারা দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য একটি চক্র মরিয়া হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে দেশ জুড়ে বেশ কিছু অপ্রীতিকর ঘটনার সঙ্গে ওই মহলটির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। সর্বশেষ গাজীপুরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা পেয়ে। তাদের অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জে. (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন ডেভিল শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপারেশন চলবে। সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশনায় কমান্ড সেন্টারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সব বাহিনীর কর্মকর্তারা কমান্ড সেন্টারে কাজ করবেন। 

রোজা ঘিরে পর্যাপ্ত পণ্য আমদানি
কালের কণ্ঠ লিড করেছে, পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে আর মাত্র ১৮ দিন বাকি। রমজানে দেশে চাহিদা ব্যাপকভাবে বাড়ে ছোলা, খেজুর, ডাল, পেঁয়াজ, চিনি, ভোজ্যতেলসহ নানা পণ্যের। এসব পণ্যের চাহিদার জোগান দিতে প্রস্তুতি নেন ব্যবসায়ীরা। এবারও ঠিক তা-ই হচ্ছে।

অনেক আগে থেকেই রমজানের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। এবার রমজান ঘিরে জানুয়ারি মাসে বিপুল পরিমাণ ভোগ্যপণ্য আমদানি হয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে পুরো রোজার মাসের চাহিদার সমান। কিছু ক্ষেত্রে আমদানি রোজার চাহিদাকেও ছাড়িয়ে গেছে। চলতি মাসে আরো আমদানি হবে। এতে বাজারে সরবরাহ আরো বাড়বে বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা।

তবে পর্যাপ্ত অন্যান্য পণের মতো রোজায় বিপুল পরিমাণ ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে। কিন্তু তার পরও কোথাও কোথাও খুচরা পর্যায়ে বোতলজাত ভোজ্যতেলের সংকট হচ্ছে বলে খবর আছে। কোনো কোনো দোকানে বোতলজাত ভোজ্যতেল পাওয়া গেলেও বাড়তি দর চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ভোজ্যতেল আমদানিকারক ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, আগের বছরগুলোর তুলনায় তাঁরা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়িয়েছেন। গত জানুয়ারি মাসে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহের প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। মাঠ পর্যায়ে কেউ কেউ অতিরিক্ত মজুদ করে থাকতে পারে বলে অভিযোগ তেল সরবরাহকারী কম্পানিগুলোর। 

সম্প্রতি রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা, জোয়ারসাহারা ও মহাখালী কাঁচাবাজার ঘুরে ও ভোগ্যপণ্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে চিনি, ছোলা, পেঁয়াজ, ডালের। দামও অনেকটাই সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।

এটিআর/এনআর/

Logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন