বাংলাদেশের পত্রিকা থেকে
চলছে খোলস বদলের রাজনীতি
ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৩:৩৯
ছবি : সংগৃহীত
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে জোর বাড়ছে না সুদহার
বাংলাদেশের খবর প্রধান প্রতিবেদন করেছে, মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জ নিয়ে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার বাড়ানোর আলোচনা থাকলেও জানুয়ারির মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে আসায় আপাতত তা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বিনিময় হার ব্যবস্থায়ও বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানুয়ারি-জুন সময়ের জন্য আগাম মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। এটি অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান গভর্নরের প্রথম মুদ্রানীতি। অনুষ্ঠানের শুরুতে মুদ্রানীতির ওপর একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, মূল্যস্ফীতি ৭-৮ শতাংশ নামিয়ে আনা হবে। সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৭.৫ শতাংশ। গত ডিসেম্বরে যা হয়েছে ১৮.১০ শতাংশ। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার, জাকির হোসেন চৌধুরী, ড. কবির আহমেদ ও বিএফআইইউ প্রধান এএফএম শাহীনুল ইসলাম। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
টাস্কফোর্স কমিটির প্রতিবেদন
দেশে দক্ষ শ্রমশক্তির অভাব
বাংলাদেশের খবরের দ্বিতীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে নতুন নতুন প্রযুক্তি ও উন্নত বীজের সংস্থান থাকলেও কৃষকরা ফসল ফলান সেই কম উৎপাদনশীল বীজ দিয়েই। চাষাবাদ করেন পুরোনো প্রযুক্তিতেই। কৃষকরা রাত-দিন পরিশ্রম করেও কাঙ্ক্ষিত ফলন পাচ্ছেন না। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ব্যাপক। এতে নিম্ন আয় ও দরিদ্র মানুষ জীবনমানের উন্নতি ঘটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। শুধু আয় নয়, সমাজে কাঠামোগত বৈষম্য দূর করা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে এআই ব্যবহার, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির চেষ্টা, লালফিতার দৌরাত্ম্য ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বাধা রোধ করা, ধনীরা সম্পদের মূল্য কম দেখিয়ে ফাঁকি রোধ করা, পোশাক খাতে দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকের মজুরি বৈষম্য দূর করা, কৃষিক্ষেত্রে জমি, আকার কমে যাওয়া রোধ করাসহ উন্নত বীজ ও কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে ধান, গম ও আলু উৎপাদন ৪০ থেকে শত ভাগ বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা টেকসই অর্থনৈতিক কৌশল পুনর্নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় সম্পদ আহরণে গঠিত টাস্কফোর্স কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এ বিষয়ে টাস্কফোর্স কমিটির প্রধান কে এ এস মুরশিদ বলেন, উন্নত বীজ ও সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহার না করার ফলে আমাদের দেশে ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে। কৃষকরা এখনো ২০ থেকে ৩০ বছর আগের প্রযুক্তিই ব্যবহার করছেন। দেশে উন্নত জাতের বীজ থাকলেও তারা সঠিক বীজ পাচ্ছেন না। তাঁদের কাছে সঠিক তথ্য যাচ্ছে না। টাস্কফোর্স দেশের কৃষিক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ খুঁজে পেয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে জমির অভাব এবং জমির আকার কমে যাওয়া, শ্রমশক্তি হ্রাস এবং ৭০ শতাংশেরও বেশি কৃষকের জন্য সীমিত বাজার প্রবেশাধিকার। অনেক কৃষক ঋণের সুযোগ নিয়ে লড়াই করছেন এবং আধুনিক কৃষি পদ্ধতিতে বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনের অভাব রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
কৃষি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টাস্কফোর্স কমিটি বেশ কয়েকটি সুপারিশ প্রস্তাব করেছে, যার মধ্যে রয়েছে দক্ষতা উন্নত করার জন্য অ্যাক্সিয়াল ফ্লো পাম্প, দুই চাকার যান্ত্রিক রিপার এবং বিকল্প ভেটিং অ্যান্ড ড্রাইং সেচ গ্রহণ। সৌরশক্তি চালিত স্প্রিংকলার সেচের ব্যবহার সম্প্রসারণ জল ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে পারে। অন্যদিকে দেশীয় সার কারখানা আপগ্রেড এবং কৌশলগত সার মজুদ স্থাপনে বিনিয়োগ আমদানি নির্ভরতা হ্রাস করতে পারে। উচ্চ ফলনশীল ফসলের জাত চাষের প্রচার সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
নির্বাচনের রূপরেখা চায় বিএনপি
প্রথম আলোর প্রধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্রুত নির্বাচন দিতে সরকারের ওপর চাপ তৈরি করেছে বিএনপি। নির্বাচনের রূপরেখা ঘোষণাসহ কিছু দাবিতে আগামীকাল বুধবার থেকে মাঠের কর্মসূচিতে যাচ্ছে দলটি। এই কর্মসূচি শুরুর আগে সরকারকে দ্রুত নির্বাচনের বিষয়ে তাগিদ দিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা। বৈঠকে নির্বাচন প্রশ্নে দলীয় অবস্থান ও মনোভাব প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছেন বিএনপির নেতারা।
এর আগে গত রোববার প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপি। সেই বৈঠকে ইসির কাছে নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন নেতারা। সর্বশেষ গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে নির্বাচনসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করল বিএনপি।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টাকে চার পৃষ্ঠার একটি লিখিত বক্তব্য দিয়েছে বিএনপি। বৈঠক শেষে রাত পৌনে আটটায় যমুনা প্রাঙ্গণে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, প্রধান উপদেষ্টা এবং তাঁর সঙ্গে যাঁরা ছিলেন তাঁরা আশ্বস্ত করেছেন, অতি দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করছেন। তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) বলেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের ব্যবস্থা করার জন্য কাজ করছেন। জনগণের প্রত্যাশা, অতি দ্রুত একটা রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে, যার মধ্য দিয়ে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে।
কবে নির্বাচনের রোডম্যাপ (পথনকশা) ঘোষণা করা হতে পারে, এমন এক প্রশ্নে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এটা ওনারা ঠিক করবেন। তবে ওনারা সম্ভাব্য ১৫ তারিখের (ফেব্রুয়ারি) মধ্যেই কিছু একটা বলতে পারেন।’
ন্যূনতম সংস্কার সম্পন্ন করে আলোচনা এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন দেওয়ার বিষয়ে বৈঠকে কথা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে আরও ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ ও হাফিজ উদ্দিন আহমদ। গতকাল সন্ধ্যা ছয়টায় তাঁরা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পৌঁছান। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। প্রায় দেড় ঘণ্টার এই বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্যসহ চলমান বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয়।
ভোট সামনে রেখে দল গোছাচ্ছে বিএনপি
আমার দেশ পত্রিকার প্রধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরে অথবা আগামী জানুয়ারি মাসে ভোটের আয়োজন মাথায় রেখে দলকে আরও শক্তিশালী করার কথা ভাবছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। একইসঙ্গে ত্রয়োদশ নির্বাচনের প্রাক-প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে দলটি। এর অংশ হিসেবে সারা দেশে কমিটিগুলোকে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। জনশক্তির মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনা ও জনগণের সঙ্গে তাদের সংযোগ ঘটাতে ৩১ দফাকে নিয়ে সারা দেশে কর্মশালা চলছে।
এরই মধ্যে ৬৪ জেলায় সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে সূচিও প্রকাশ করেছে বিএনপি। এসব সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেবেন। সমাবেশগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা এবং পতিত ফ্যাসিবাদের নানা ষড়যন্ত্র মোকাবিলার বিষয় অগ্রাধিকার পাবে।
অন্যদিকে ত্রয়োদশ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রস্তুতিও নিতে শুরু করেছে বিএনপি। এবারের নির্বাচনে তরুণ, অভিজ্ঞ ও প্রবীণদের সমন্বয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা সাজানো হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন-সংগ্রামে যেসব দল ও জোট অংশ নিয়েছে, তাদের নিয়ে আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চিন্তা রয়েছে বিএনপির। এরই অংশ হিসেবে গত বছরের ২২ অক্টোবর প্রাথমিকভাবে সমমনা শরিক জোটের ছয় নেতাকে নিজ এলাকায় জনসংযোগে সহযোগিতা করার জন্য দলের সংশ্লিষ্ট ছয় জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের ‘অতীব জরুরি’ নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দেয় দলটি। তবে এ চিঠির ঘটনায় তৃণমূলে ভুল বোঝাবুঝির পরিপ্রেক্ষিতে পরে কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই চিঠি ধানের শীষের চূড়ান্ত মনোনয়ন নয়।
বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি দেখেই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের কার্যক্রম জনসম্মুখে তুলে ধরবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া দলটি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পতিত শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর দেশে মুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ বিরাজ করলেও নির্বাচনের মাঠে অনেক চ্যালেঞ্জ দেখছে তারা। এ ক্ষেত্রে প্রার্থী তালিকা তৈরিতে ১৬ বছরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ত্যাগী নেতারা মূল্যায়িত হবেন। সে সঙ্গে ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেওয়া জনপ্রিয় প্রার্থীদের মূল্যায়নও করা হবে বলে জানা গেছে।
রাজনীতির মাঠে নির্বাচনের উত্তেজনার মধ্যে গত রোববার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এমএম নাসিরউদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল। বৈঠকে বর্তমান কমিশন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি কতটুকু নিয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে নজরুল ইসলাম খান জানান, নির্বাচন আয়োজনে কমিশনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় কমিশন তাদের প্রস্তুতি জানালে বিএনপি তাদের সন্তুষ্টি প্রকাশ করে।
নতুন মোড়কে পুরোনো নেতা
চলছে খোলস বদলের রাজনীতি
বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার প্রধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনা এক. দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংরক্ষিত মহিলা আসনে আওয়ামী লীগের এমপি হতে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর আরজিনা পারভীন চাঁদনী নামে এক নেত্রী। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তার বাবা, দাদা এবং নানা সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ছিলেন এবং তিনি নিজেও বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আরজিনা তার রাজনৈতিক অবস্থান বদলান। বিএনপিতে যোগ দেন এবং পলাশবাড়ী উপজেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতির পদে আসীন হন।
ঘটনা দুই. জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক নম্বর সদস্য ও টনকী জোবায়দা জোব্বার উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মতিউর রহমান মুক্তা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতাদের সঙ্গে সখ্য থাকায় চলতেন দাপটের সঙ্গে। তোয়াক্কা করতেন না কোনো কিছু। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর সেই আওয়ামী লীগ নেতা এখন বিএনপির নেতা বনে গেছেন। কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির এক নম্বর সদস্য হয়েছেন। এ নিয়ে তৃণমূল বিএনপিতে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
ঘটনা তিন. সম্প্রতি রাজধানীর পূর্বাচল এলাকায় মেগা সিটি নামক একটি হাউজিং প্রকল্পের জমি নিয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। এতে তিন ভাইকে কুপিয়ে আহত করে সন্ত্রাসীরা। আহত এক ভাই এখন উত্তরার একটি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
জানা গেছে, মেগা সিটি স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ছত্রছায়ায় কার্যক্রম শুরু করে। কিন্তু পট পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের সেই নেতা-কর্মীরা এখন বিএনপির পরিচয়ে এলাকায় বুক ফুলিয়ে চলছে। দাউদপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তুহিন আখন্দ এখন যুবদল নেতা। যুবলীগ নেতা শাহিন আকন্দ এখন যুবদল নেতা। আওয়ামী লীগ নেতা এরমান হোসেন এখন বিএনপির নেতা। যুবলীগ নেতা রিয়াজ উদ্দিন এখন যুবদল নেতা। ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ এখন ছাত্রদল নেতা। ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ মোল্লা এখন যুবদল নেতা। যুবলীগ নেতা আশাদ ফকির এখন যুবদল নেতা।
ঘটনা চার : উত্তরায় ছাত্র-জনতা গণহত্যার মাস্টারমাইন্ড ও ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক এমপি হাবিব হাসানের সক্রিয় কর্মী ছিলেন সালাম আলী। ৫ আগস্টের পর সেই সালাম এখন বিএনপির রাজনীতিতে শুধু নিজেকে সক্রিয়ই নয় বরং সালাম আলী এরই মধ্যে নিজেকে উত্তরা পশ্চিম থানা বিএনপির সভাপতি প্রার্থী ঘোষণা করে তুরাগ ও উত্তরার আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীকে বিএনপিতে অনুপ্রবেশের সুযোগ করে দেওয়ার একাধিক ছবি ও তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন আল সোহেল, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা আবু সাঈদ, সাব্বির হোসেন, মুসা, যুবলীগ নেতা মানিক, আল আমিন, গন্ডার সোহেল, যুবলীগ নেতা রিপন, আলম, কামাল ও পশ্চিম থানা যুবলীগ নেতা সেলিমসহ ছাত্রলীগ-যুবলীগের একাধিক নেতা-কর্মীকে সালাম আলী বিএনপিতে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির বৈঠক
ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন?
কালের কণ্ঠ পত্রিকার প্রধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএনপি জানিয়েছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সংসদ নির্বাচন আয়োজনে সরকার কাজ করছে। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের রোডম্যাপ দেওয়া হতে পারে।
গতকাল সোমবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা বলেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বৈঠক হয়।
সরকারের তরফ থেকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, সব রাজনৈতিক দল একমত হলে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দিতে আপত্তি নেই।

সংসদ নির্বাচন কবে হবে—এ নিয়ে নানা আলোচনা আছে। গত কিছুদিন ধরে দেশে বিশৃঙ্খলা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট সময় জানালেন।
সরকার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি বছরের ডিসেম্বর-ই সংসদ নির্বাচন হতে পারে। সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। গতকালের বৈঠকে বিএনপিও দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানায়। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই মন্তব্য নেতারা দ্রুত রোডম্যাপ ঘোষণা করতে ‘চাপ’ দেন নেতারা।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা এবং তাঁর সঙ্গে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, তাঁরা অতি দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করছেন। তিনিও বলেছেন যে তাঁরা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের ব্যবস্থা করার জন্য কাজ করছেন। আমরা আশা করব, জনগণের আশা ও প্রত্যাশা অনুযায়ী অতি দ্রুত রোডম্যাপ ঘোষণা করে সে অনুযায়ী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন হবে।’
কবে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এটা উনারা ঠিক করবেন। সম্ভবত আগামী ১৫ তারিখের মধ্যে কিছু একটা জানাবেন।
ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন, আশ্বস্ত করল সরকার
সমকাল পত্রিকার প্রধান সংবাদে বলা হয়েছে, চলতি বছর ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনে কাজ চলছে বলে বিএনপিকে আশ্বস্ত করেছে সরকার। গতকাল সোমবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকের পর এ তথ্য জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনে সরকার কাজ করছে বলে আমাদের জানিয়েছেন (প্রধান উপদেষ্টা)। আশা করব, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে এবং একটি রোডম্যাপ (রূপরেখা) দেওয়া হবে।’ তবে রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘বৈঠকে জাতীয় নির্বাচন বিএনপির পক্ষ থেকে দ্রুত চাওয়া হয়েছে– চলতি ডিসেম্বরেই চেয়েছেন তারা। সরকারের তরফে চিন্তাভাবনা হচ্ছে। এ বিষয় উপদেষ্টা পরিষদ দেখবেন, সিদ্ধান্ত হলে জানাবেন।’ সরকার ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের আশ্বাস দিয়েছে কিনা– এ প্রশ্নে প্রেস সচিব বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হলে আপনারা জানবেন।’

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান। অন্যদিকে বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
এদিকে মানিকগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্য নিয়েই তারা প্রস্তুত হচ্ছেন। একটি ভালো নির্বাচন না করার কোনো বিকল্প কমিশনের কাছে নেই। গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য তিনি রাজনৈতিক নেতাসহ সবার সহায়তা কামনা করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে চার পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্য তুলে ধরা হয়। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের ছয় মাস এবং রাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দলটির অবস্থান তুলে ধরা হয়। তবে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বিএনপির পক্ষ থেকে সংস্কারের নামে নির্বাচন বিলম্বের পাঁয়তারার অভিযোগ তুললেও গতকালের বৈঠকে তারা সংস্কার ও নির্বাচন প্রক্রিয়া দুটিই একসঙ্গে চলতে পারে বলে মত দিয়েছেন। এ জন্য দ্রুত নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংস্কার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব জানিয়েছেন, সংস্কার কমিশনগুলোর সুপারিশ নিয়ে আলোচনা করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বসছে জাতীয় ঐকমত্য গঠন কমিশন। ছয় কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন নিয়ে দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ হবে।
জুলাই-আগস্টে 'লেডি হিটলার'র নৃশংস গণহত্যা
হাসিনার বুলেটে শহিদ ১৫৮১
যুগান্তর পত্রিকার প্রধান সংবাদে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও তার নেতাকর্মীদের বুলেটে শহিদ হয়েছেন ১৫৮১ জন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ছিল শিশু। এছাড়া গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আরও ছয়জনকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়। পাশাপাশি জানুয়ারি থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত হাসিনার শাসনামলে রাজনৈতিক সহিংসতায় কমপক্ষে ১৯৯ জন নিহত ও ৬৯৭৯ জন আহত হয়। ২০০৯ সালে হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে রাজনৈতিক আন্দোলন দমন ও ভিন্নমতাবলম্বীদের কণ্ঠ রোধ করে জোর করে ক্ষমতায় থাকার জন্য গুম-খুনকে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে দেশে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়। হাসিনার ক্ষমতার শেষ পাঁচ মাসেও অন্তত ২০ জনকে গুম করা হয়েছিল। মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব তথ্য। সোমবার সংগঠনটির ওয়েসাইটে ৫৪ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
এদিকে গণ-আন্দোলনে হতাহত এবং সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে গুম-খুনের শিকার হওয়া পরিবারের সদস্যরা শেখ হাসিনার এমন শাসনকে হিটলারের সঙ্গে তুলনা করছেন। তাকে ‘লেডি হিটলার’ আখ্যায়িত করে তারা বলেন, ‘স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে ক্ষমতা নিয়েই দেশ ধ্বংসের পরিকল্পনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় ফ্যাসিস্ট হাসিনা হিটলারের চেয়েও কোনো অংশে কম অত্যাচার করেনি।’

উল্লেখ্য, অ্যাডলফ হিটলার ইতিহাসের এক ভয়ংকর একনায়কের নাম। তিনি ১৯৩৩ সালে জার্মানির চ্যান্সেলর নির্বাচিত হন। তারই নির্দেশে দেশটির নাৎসি বাহিনী বিরোধী পক্ষের অনেককেই হত্যা করে। প্রতিষ্ঠা করেন একটি সমগ্রতাবাদী ও ফ্যাসিবাদী একনায়কত্ব। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বর্বরোচিতভাবে নাৎসিরা ৬০ লাখের বেশি ইহুদিকে খুন করে, যা থেকে অবোধ শিশু ও বৃদ্ধরাও রক্ষা পায়নি।
এমআই

