Logo

নির্বাচিত

বাংলাদেশের পত্রিকা থেকে

আলামত ধ্বংস করল কারা?

Icon

বাংলাদেশের খবর

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৯:০০

অ
আলামত ধ্বংস করল কারা?

ছবি : সংগৃহীত

প্রিয় পাঠক, আসন্ন শবে বরাতের মহিমায় পুণ্যময় হোক আপনার দিন। অপ্রাপ্তির সব হিসাব মুছে প্রাপ্তির খাতায় যোগ হোক সমূহ সুখ— এই প্রত্যাশায় চলুন জেনে নিই দিনের বাংলাদেশকে। চোখ বুলাই দেশের প্রথম সারির দৈনিকগুলোর প্রধান শিরোনামে— 

ক্ষমতায় থাকতেই নৃশংস হত্যাকাণ্ড
বাংলাদেশের খবরে লিড করা হয়েছে,জুলাই আন্দোলনের সময় ১৮ জুলাই সন্ধ্যায় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে একটি 'কোর কমিটি'র বৈঠক হয়।

ওই বৈঠকে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি এবং গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে মন্ত্রী বিজিবি কমান্ডারকে আরও সহজে মারণক্ষম শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দেন। পর দিন অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নিজেই নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তাদের বিক্ষোভকারীদের হত্যা করার নির্দেশ দেন এবং বিশেষভাবে বলেন, বিক্ষোভের নেতাদের, দাঙ্গাবাজদের ধরুন, হত্যা করুন এবং তাদের লাশ গুম করুন। 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। 

ক্ষমতায় থাকতে নৃশংস পদক্ষেপ নিয়েছিল শেখ হাসিনা সরকার
প্রথম আলো লিড করেছে, জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় আওয়ামী লীগের সহিংস কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিগত সরকার এবং নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পদ্ধতিগতভাবে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িত ছিল। ক্ষমতায় থাকার জন্য হাসিনা সরকার ক্রমাগত নৃশংস পদক্ষেপ নিয়ে পদ্ধতিগতভাবে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করেছিল।

বাংলাদেশে অভ্যুত্থানে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের তদন্তে এই তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল বুধবার সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভা থেকে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এ উপলক্ষে সেখানে এ দিন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশন অনলাইনে ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে।

রোমহর্ষক আয়নাঘর প্রকাশ্যে
বাংলাদেশ প্রতিদিন লিড করেছে, আয়নাঘর-০১ : একটি সরু কক্ষ, সঙ্গে হাই কমোড। দেয়ালে হালকা সবুজ নতুন রঙ। পাশে জানালার মতো প্রবেশদ্বার ইট-সিমেন্ট দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে।

আয়নাঘর-০২ : সাদা দেয়াল। পাশেই স্টেইনলেস স্টিলের ইলেকট্রিক চেয়ার। যেটাতে বসিয়ে ভুক্তভোগীদের নির্যাতন করা হতো।

আয়নাঘর-০৩ : অন্ধকারাচ্ছন্ন একটি দেয়াল। চকে আঁকা ছবি মুছে ফেলা হয়েছে। তার পাশে লেখা, ‘লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা... মিনাজ জোয়ালিমিন’।

জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের গোপন বন্দিশালা, যা আয়নাঘর নামে পরিচিত, তার এমন খণ্ড  খণ্ড চিত্র উঠে এসেছে ছবিতে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে বলে ওঠেন, ‘কী বীভৎস দৃশ্য! প্রতিটি জিনিস যা হয়েছে, এখানে তা ছিল নৃশংস! যতই শুনি, অবিশ্বাস্য মনে হয়! এটা কি আমাদেরই জগৎ! আমাদের সমাজ! আমরা এটা করলাম!’


গতকাল সকালে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, গুম কমিশনের সদস্য, ভুক্তভোগী এবং একটি দেশি ও দুটি বিদেশি গণমাধ্যমকর্মী নিয়ে রাজধানীর তিনটি আয়নাঘর পরিদর্শন করেন। শুধু রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম বিটিভি এবং বিদেশি গণমাধ্যমের মধ্যে আলজাজিরা ও নেত্র নিউজের প্রতিনিধি সঙ্গে ছিলেন। সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁও, কচুক্ষেত এবং উত্তরার আয়নাঘর পরিদর্শন করেন প্রধান উপদেষ্টা। এর মধ্যে দুটি র‌্যাবের এবং একটি ডিজিএফআইয়ের আয়নাঘর।

পরিদর্শনের সময় আয়নাঘরের দেয়াল দেখে চিনতে পারেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই)-এর টর্চারসেলে (আয়নাঘর) আটকে রাখা হয়েছিল জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে। তাঁরা জানান, জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তাঁদের তুলে নেওয়া হয়। আয়নাঘর পরিদর্শনের পর আসিফ জানান, তাঁকে যে কক্ষে আটকে রাখা হয়েছিল সেই কক্ষের দেয়ালের ওপরের অংশের খোপগুলোতে এগজস্ট ফ্যান ছিল, এখন নেই।

জাতিসংঘের কাঠগড়া হাসিনা
যুগান্তর লিড করেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হয় বাংলাদেশের ইতিহাসে ভয়াবহ মানবতাবিরোধী হত্যাকাণ্ড। নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় ১৪০০ নিরস্ত্র মানুষকে। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষার্থী, নিরস্ত্র বিক্ষোভকারী, নারী ও শিশু রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের শিকার মোট শিশু ১১৮। শতকরা হিসাবে যা ১২-১৩ শতাংশ। আহত হয়েছেন প্রায় ১২ হাজার। হত্যাকাণ্ডের ৬৬ শতাংশই মিলিটারি রাইফেলের গুলিতে এবং ১২ শতাংশ শটগানের গুলিতে সংঘটিত হয়।

প্রমাণ হয়েছে-ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এই নৃশংসতার পথ বেছে নিয়ে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার নির্দেশ দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুরো বিষয়টি সমন্বয় করেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। সামরিক ও আধা-সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন আওয়ামী লীগের সংসদ-সদস্যরাও।

এটি ক্ষমতার চূড়ান্ত অপব্যবহার, গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক ফৌজদারি অপরাধ। আন্দোলনকারীদের অনেকে প্রাথমিক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের (ওএইচসিএইচআর) ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্টে এসব উঠে এসেছে। 

হাসিনার কমান্ডে জুলাই গণহত্যা
আমার দেশ লিড করেছে, জাতিসংঘের রিপোর্টে জুলাই গণহত্যার জন্য পতিত সৈরাচার শেখ হাসিনাকেই মূল হোতা হিসেবে দায়ী করা হায়োছে। বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। তার সরাসরি পরিকল্পনা এবং নির্দেশে জুলাই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তিনি জলহি বিক্ষোভে ছাত্রদের হত্যা করে তাদের লাশ গম করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডে অন্তত ১৮০০ মানুষ নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে শতকরা ১৩ ভাগ শিশু।

মূল্যই বিপ্লবে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড এবং মানবাধিকার পঞ্চনের ঘটনা তদন্তে জাতিসংঘ গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন গতকাল বুধবার জেনেভায় জাতিসংঘ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফাকার টুর্ক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে রিপোর্ট উন্মুক্ত করে বলেন, বাংলাদেশের জনগণের বিরোধিতার মুখেও তৎকালীন সরকার ক্ষমতা তাকিড়ে রাখতে চেয়েছিল। তিনি বলেন, জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িতরা যেন পার না পায়, তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। এই প্রতিবেদনে জুলাই গণহত্যার ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। জাতিসংঘের রিপোর্টটিতে জুলাই বিক্ষোভের সময়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড এবং চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই বিক্ষোভ দমনের পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নের যাবতীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এবং সরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত কোর কমিটির মাধ্যমে। আর এ কাজে সরাসরি সহায়তা দিয়েছে ডিজিএফয়াই, এনএসআই, ডিবি, এসবি, এনটিএমসি এবং সিটিটিসিএর শীর্ষ কর্মকর্তারা। 

হাসিনার গোপন বন্দিশালার বর্বরতা এলো প্রকাশ্যে
সমকাল লিড করেছে,মানুষের মুখে মুখে ফেরা ‘আয়নাঘর’খ্যাত শেখ হাসিনার শাসনামলের গোপন বন্দিশালা অবশেষে প্রকাশ্যে এসেছে। গুম অবস্থা থেকে ফিরে আসা মানুষের জবানীতে রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোর পরিচালিত অবৈধ বন্দিশালায় নৃশংস বর্বরতার কথা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালেই জানা গিয়েছিল। এসবের সত্যতা মিলেছে ভুক্তভোগীদের নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পরিদর্শনে। 

মুরগির খাঁচার মতো ছোট্ট কুঠুরিতে বন্দি করে রাখা হতো আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার বিরোধিতাকারীদের। কোনো কোনো কুঠুরি দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে তিন ফুট করে। পাশেই শৌচকর্মের জন্য বড়জোর এক ফুট জায়গা। এর মধ্যে একজন মানুষকে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস থাকতে হতো। মাটিতে শুয়ে ঘুমানোর মতো জায়গা পর্যন্ত নেই এসসব কুঠুরিতে।

মাসের পর মাস হাত-চোখ বেঁধে রাখা হতো কুঠুরিতে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় চলত বর্বর শারীরিক নির্যাতন।  বন্দিশালায় পাওয়া গেছে স্টিলের তৈরি চেয়ার। এতে বসিয়ে বন্দিদের বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হতো। দেয়ালে লেখা রয়েছে বন্দিদের আর্তনাদের কথা। দেয়ালে দাগ কেটে বন্দিরা হিসাব রাখত কতদিন কেটে যাচ্ছে আয়নাঘরে। পরিবারের কাছে ফেরার আকুতি জানিয়ে দেয়ালে ‘আই লাভ মাই ফ্যামিলি’ লেখেন ইব্রাহিম নামের এক বন্দি। বাহিনীগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে লেখেন, ‘ওরা মিথ্যাই বলবে’। ইব্রাহিমের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা জানা যায়নি।

আয়নাঘর
আলামত ধ্বংস করলো কারা?
মানবজমিন লিড করেছে, ছোট ছোট খুপরি। গা ছমছম পরিবেশ। আলোহীন এক একটি কামরা যেন গ্রামের মুরগির খাঁচা। বাইরের জগৎ থেকে পুরাই আলাদা। কোথায় আছেন, দিনের কোন সময় পার করছেন জানারও সুযোগ নেই। কোনো কোনো কক্ষ সাউন্ডপ্রুফ। যেসব কক্ষে থাকতো নির্যাতনের নানা সরঞ্জাম। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে ভিন্নমত দমনে গড়ে ওঠে এসব সেল। যেটি আয়নাঘর বা গোপন বন্দিশালা নামে পরিচিত। বছরের পর বছর আয়নাঘরে বন্দি ছিলেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে অনেক নিরপরাধ মানুষ। এখান থেকে কেউ কেউ ফিরে এসেছেন, কেউ ফেরেননি। মৃত্যুই যাদের শেষ ঠিকানা হয়েছে। সরকারের নির্দেশে গুম করা অনেক মানুষকে এখানে বন্দি রাখতো আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো।

বন্দিজীবনের গল্প ফুটে উঠেছে আয়নাঘরের দেয়ালে দেয়ালে। কিন্তু সেই আয়নাঘরের অনেক আলামতই গায়েব হয়ে গেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস গতকাল পরিদর্শন করেছেন রাজধানীতে থাকা তিন আয়নাঘর। যেগুলো বিগত সরকারের গোপন বন্দিশালা ও টর্চার সেল হিসেবে পরিচিত ছিল। কচুক্ষেত, আগারগাঁও ও উত্তরায় অবস্থিত এসব আয়নাঘরের একটি ডিজিএফআই’র, বাকি দুটো র‌্যাবের। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তারা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- গুমের শিকার হওয়া একাধিক ব্যক্তি ও গুম কমিশনের সদস্যরা।

কিন্তু এ পরিদর্শনের সময় নিজেদের দেয়া প্রতিশ্রুতি রাখেনি সরকার। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমকে আয়নাঘর পরিদর্শনের সুযোগ দেয়ার কথা থাকলেও প্রধান উপদেষ্টার পরিদর্শনের সময় সেটি করা হয়নি। কেবল পছন্দমতো দুইটি গণমাধ্যমকে (আলজাজিরা ও নেত্র নিউজ) এ সুযোগ দিয়েছে সরকার। এ ছাড়া একজন সংবাদকর্মী প্রধান উপদেষ্টার পরিদর্শনের সময় সঙ্গে ছিলেন। 

খোদ হাসিনাই হত্যার নির্দেশদাতা
কালের কণ্ঠ লিড করেছে, গত বছরের জুলাই ও আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ছাত্র আন্দোলন মোকাবেলায় অভিযান পরিচালনায় সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগ, এমনকি হত্যা করেও আওয়ামী লীগ সরকারকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা ছিল।

গতকাল বুধবার জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর থেকে প্রকাশিত সত্যানুসন্ধান প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

এর আগে এই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন তদন্তে জাতিসংঘের সত্যানুসন্ধান মিশনের নজির ছিল।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটিই প্রথম। প্রবল আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। সেদিনই শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। এরপর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।

খোদ হাসিনাই হত্যার নির্দেশদাতাপ্রধান উপদেষ্টার অনুরোধে জাতিসংঘের সত্যানুসন্ধান মিশন গত বছরের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে।

সরকারি-বেসরকারি সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর গতকাল বলেছে, এই বিক্ষোভ চলাকালে এক হাজার চার শর মতো মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারে। তাদের বেশির ভাগই বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী ব্যবহৃত প্রাণঘাতী অস্ত্র, সামরিক রাইফেল ও শটগানের গুলিতে নিহত হন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরো কয়েক হাজার।

এটিআর/

Logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন