বাংলাদেশের পত্রিকা থেকে
নির্বাচন ইস্যুতে বিরোধ বাড়ছে
ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:৩৬
বিপরীতমুখী অবস্থানে বিএনপি-জামায়াত
নির্বাচন ইস্যুতে বিরোধ বাড়ছে
বাংলাদেশের খবর প্রধান প্রতিবেদন করেছে, বিএনপি জাতীয় নির্বাচনের আগে সংস্কার ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন চায় না। অন্যদিকে জামায়াতের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। দলটি সংস্কার ছাড়া নির্বাচন চায় না। আবার জাতীয় নির্বাচনের আগে চায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন। জামায়াতের সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতিরও পুরোপুরি বিপরীত অবস্থানে বিএনপি।
এর মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার ঘোষিত ডিসেম্বরে নির্বাচনের আশ্বাসে ভরসা বা বিশ্বাস রাখতে চায় না বিএনপি। সে কারণে নির্বাচনের চাপ অব্যাহত রাখতে তারা মাঠের কর্মসূচি নিয়েছেন। দলটির নেতারা ধারণা করছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি যে নতুন দল গঠন করছে, এর পেছনে সরকারের একটা অংশের সমর্থন রয়েছে। আর সে কারণে তারা মনে করেন, সরকারের ভিতরে কারও কারও নির্বাচন প্রলম্বিত করার চিন্তা থাকতে পারে। ফলে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ না পাওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের সময় নিয়ে নিশ্চিত হতে পারছে না বিএনপি।

এদিকে বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিনের মিত্র থেকে বিপরীত দুই মেরুতে পৌঁছেছে বিএনপি ও জামায়াত। নির্বাচন ও সংস্কার ইস্যুতে দুটি দলের মধ্যে বিরোধ ক্রমেই বাড়ছে। এই মুহূর্তে অন্যতম দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে বাড়তে পারে জটিলতা। আবার বিএনপি নেতাদের শঙ্কা; দেশে নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচন ও সংস্কার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে সরকারের আন্তরিকতা ও দৃঢ়তার ওপর।
কুয়েটে উত্তেজনা
ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের সংঘর্ষে আহত শতাধিক
প্রথম আলোর প্রধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা–কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ এবং পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে। এতে শতাধিক আহত হন।
রাতে শিক্ষার্থীরা প্রেস ব্রিফিং করে কুয়েটে ছাত্ররাজনীতি পুরোপুরি নিষিদ্ধ, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের শাস্তি এবং উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ছাত্রকল্যাণ পরিচালকের পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন। বুধবার বেলা একটার মধ্যে দাবি পূরণের আলটিমেটাম দিয়েছেন তারা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কুয়েটে সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে কুয়েটে সংঘর্ষের জেরে রাতে খুলনা নগরের শিববাড়ী মোড়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। রাত সাড়ে আটটার দিকে জিয়া হল চত্বরের মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা–কর্মীরা অবস্থান নেন এবং মিছিল করেন। আর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা অবস্থান নেন জিয়া হল চত্বরের পাশেই শিববাড়ী মোড় চত্বরে। দুই দলের মধ্যে দূরত্ব ছিল মাত্র কয়েক হাত। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কুয়েটে দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। কুয়েটে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। কুয়েটে সংঘর্ষের পর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদল।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুয়েট শাখার সদস্যসচিব জাহিদুর রহমান বলেন, তাঁদের পক্ষের অন্তত ৫০ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহতের সংখ্যা দেড় শতাধিক হবে।
সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে জানিয়ে খুলনার খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন বলেন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ ও র্যাব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
কুয়েট ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, গত ১১ আগস্ট সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
পরিবার-অনুগতদের জন্য হাসিনার প্লটবন্যা
আমার দেশ পত্রিকার প্রধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনের তোয়াক্কা না করে এক নির্বাহী আদেশেই নিজের পরিবার ও অনুগত আমলা, বিচারপতি এবং সংসদ সদস্যদের পূর্বাচলে সাড়ে ১১০০ প্লট দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা। এ কাজে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (রাজউক) বাধ্য করা হয় বরাদ্দ দেওয়া প্লটগুলোকে বৈধতা দেওয়ার জন্য। ফলে রাজউকের তৎকালীন বোর্ড ভবিষ্যতে কী হবে সে চিন্তা না করে সরকারের আদেশে লটারির বাইরে দেওয়া প্লটগুলোকে প্রয়োজনীয় বৈধতা দিয়েছে।
রাজউকের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, স্বৈরাচারী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে নির্বাহী আদেশে এক হাজার ১৫০টির বেশি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব প্লটের প্রায় সবই দলীয় বিবেচনায় এবং আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দেওয়া হয়। শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানার পরিবারের একজন ছাড়া বাকি ছয়জনের নামে প্লট বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শেখ হাসিনা পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, শেখ রেহানা পেয়েছেন জাতির জনক ট্রাস্টের সহসভাপতি হিসেবে, সজীব ওয়াজেদ জয় নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল নিয়েছেন অটিজমের চেয়ারপারসন হিসেবে। এ ছাড়া রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ও মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক নিয়েছেন জাতির জনক ট্রাস্টের সদস্য হিসেবে। দুই বোনের পরিবারের ছয়জন নিয়েছেন ১০ কাঠা করে ৬০ কাঠা।
আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের (এমপি) প্রায় সবাই ১০ কাঠা করে প্লট নিয়েছেন। এমপিদের মধ্যে কেউ কেউ তিন কাঠা ও ৫ কাঠার প্লটও পেয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে যাদের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে, তারা পেয়েছেন ১০ কাঠা করে।
মধ্যে রয়েছেন ৯ জন বিচারপতি। তারা পাঁচ থেকে ১০ কাঠার প্লট পেয়েছেন। আবার তৎকালীন আওয়ামী লীগের একান্ত অনুগত অনেক আমলা রয়েছেন, তারাও তিন থেকে ১০ কাঠার প্লট পেয়েছেন। তালিকায় দেখা গেছে, যারা শেখ হাসিনার খুব বেশি অনুগত ছিলেন, তাদের ১০ কাঠা করে প্লট দেওয়া হয়েছে। কিছু সামরিক কর্মকর্তার নামও পাওয়া গেছে যারা তিন থেকে পাঁচ কাঠার প্লট পেয়েছেন।
সাবেক সচিবদের মধ্যে নজিবুর রহমান ১০ কাঠা, শেখ শামীম ইকবাল ১০ কাঠা, এবিএম আমিন উল্লাহ নূরী সাড়ে সাত কাঠা, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও সাবেক সূচিব ফজলে কবির পেয়েছেন সাড়ে সাত কাঠা, হেলালুদ্দীন আহমদ সাড়ে সাত কাঠার ঘট পেয়েছেন। এমনকি সিএমএম রেজাউল করিম চৌধুরীও পেয়েছেন ১০ কাঠার প্লট।
এমন অনেক সচিব আছেন, যারা তাদের কাজের ধরন অনুযায়ী তিন কাঠার প্লট পেয়েছেন। কিন্তু একজন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট পেয়েছেন ১০ কাঠার প্লট। এর বাইরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সাবেক চেয়ারম্যান খালিদ মাহমুদ সাড়ে সাত কাঠা, মিল্ক ভিটার সাবেক চেয়ারম্যান নাদির হোসেন পেয়েছেন সাড়ে সাত কাঠার প্লট। চিকিৎসকদের মধ্যে অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়য়া পাঁচ কাঠা, ডা. পার্থ প্রতীম দাস ও ডা. অনিন্দিতা দত্ত মিলে পেয়েছেন পাঁচ কাঠার প্লট। ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া পাঁচ কাঠার প্লট পেলেও মন্ত্রী হিসেবে কনক কান্তির ভাই দিলীপ বড়ুয়া পেয়েছেন ১০ কাঠার প্লট।
জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই কর্মসূচিতে তারেক রহমান
তিস্তার পানি করুণা নয়
বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার প্রধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্সা বাংলাদেশের প্রাপ্য অধিকার, এটি কোনো করুণা বা দয়ার বিষয় নয়। উত্তরাঞ্চলের তিস্তাপাড়ের পানিবঞ্চিত মানুষ আজ সারা বিশ্বকে জানিয়ে দিতে চায় যে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য বণ্টন আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিশ্চিত করা উচিত।
গতকাল তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের ৪৮ ঘণ্টার ‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ কর্মসূচির সমাপনী জনসমাবেশে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারীর ১১টি পয়েন্টে একযোগে তাঁর বক্তব্য সম্প্রচারিত হয়। এ সমাবেশগুলোতে লাখ লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ৫ আগস্ট পতিত আওয়ামী স্বৈরাচারী সরকার জোর করে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যেসব চুক্তি সম্পাদন করেছে, সেগুলো পুনর্মূল্যায়ন করার আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, দুঃখের বিষয়, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্সা আমাদের অধিকার হওয়া সত্ত্বেও, সেটি আদায়ের জন্য আজ আমাদের আন্দোলন করতে হচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষ, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের মানুষ, নিজেদের ন্যায্য দাবির জন্য রাজপথে নামতে বাধ্য হচ্ছে।
তিনি বলেন, তিস্তা নদী রক্ষার লড়াই শুধু তিস্তাপাড়ের মানুষের লড়াই নয়, এটি গোটা বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। উত্তরাঞ্চলকে মরুকরণ থেকে বাঁচাতে আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারী পতিত সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন বলেছিলেন, আমরা ভারতকে যা দিয়েছি ভারত কখনো ভুলবে না। আসলে তাই ৫ আগস্ট গণ অভ্যুত্থানে সেই স্বৈরাচারী সরকারের পতন হলে প্রতিবেশী দেশ তাকে মনে রেখে আশ্রয় দিয়েছে। আসলে আমাদের প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের মানুষকে ভালোবাসে না তারা ভালোবাসে পতিত সরকার প্রধানকে।
তিস্তা চুক্তি ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে উত্তরের ৫ জেলায় টানা ৪৮ ঘণ্টার আন্দোলন কর্মসূচি সমাপনী দিনে তিস্তা রেলসেতু কাউনিয়া ও লালমনিরহাট প্রান্তে হাজার হাজার মানুষ তিস্তা নদীর হাঁটু পানিতে নেমে প্রতিবাদ জানান। এ সময় ভারতের পানি আগ্রাসন বন্ধ করা, মরুকরণ থেকে নদী রক্ষায় তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্সা প্রদান এবং বন্যা ভাঙন থেকে তিস্তাপাড়ের মানুষকে রক্ষায় মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করা হয়। তারা তিস্তা আমার মা, মরতে আমরা দেব না’ জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাইসহ নানা স্লোগান দিতে থাকে। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় তিস্তা রেলসেতু লালমনিরহাট পয়েন্ট থেকে দিনের প্রথম কর্মসূচি পদযাত্রা শুরু হয়। পদযাত্রাটি কাউনিয়া উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবারও সেতু এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’
তিস্তায় ভারতের আচরণ অন্যায্য
কালের কণ্ঠ পত্রিকার প্রধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ভারতের অপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের কারণে আজ তিস্তাপারের লাখো মানুষ বন্যা ও খরায় দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে। পানির অভাবে এখন তিস্তার বুকে ধু ধু বালুচর। বিএনপি ক্ষমতায় এলে পানির ন্যায্য হিস্যার জন্য জাতিসংঘ যাবে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে অসম, অন্যায্য ও একতরফা সব চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন বা পুনর্বিবেচনা করা হবে।
মঙ্গলবার রংপুর ও লালমনিরহাট জেলার মাঝে তিস্তা রেলওয়ে সেতুসংলগ্ন চরে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা ও মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিএনপি আয়োজিত দুই দিনব্যাপী প্রতিবাদ সমাবেশের সমাপনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশের দ্বিতীয় দিনের সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘তিস্তা নদী রক্ষা কমিটি’র প্রধান সমন্বয়কারী ও বিএনপির রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু।

‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ স্লোগান সামনে রেখে গাইবান্ধা, রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও কুড়িগ্রামের ১১টি স্থানে সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। গত সোমবার তিস্তা নিয়ে এই কর্মসূচি উদ্বোধন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সমাপনী বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘সারা বিশ্ব আজকে দেখে রাখুক, তিস্তাপারের লাখো মানুষ ন্যায্য পানির হিস্যা থেকে বঞ্চিত। উত্তরাঞ্চলের মানুষ আজ সারা বিশ্বকে জানিয়ে দিতে চায়, ভারতের সঙ্গে যে অভিন্ন ৫৪টি নদী, এই নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা প্রাপ্তি কারো কোনো করুণার বিষয় নয়। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এটা বাংলাদেশের প্রাপ্য। অথচ তিস্তা নদীর পানির জন্য আজকে আমাদের আন্দোলন করতে হচ্ছে।
বাংলাদেশের মানুষ তথা উত্তরাঞ্চলের মানুষকে এই আন্দোলন করতে হচ্ছে। এই পানিবণ্টন নিয়ে আমাদের প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে অপ্রতিবেশীসুলভ আচরণ করেই চলছে। আজকে ৫০ বছর হলো, ফারাক্কার অভিশাপ থেকে বাংলাদেশ মুক্তি পায়নি। এখন আবার তিস্তা বাংলাদেশের জন্য আরেকটি অভিশাপ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সব আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে প্রতিবেশী দেশ আমাদের উজানে গজলডোবায় বাঁধ নির্মাণ করেছে।
রমজানের আগে দাম বাড়াতে সেই পুরোনো কৌশল
সমকাল পত্রিকার প্রধান সংবাদে বলা হয়েছে, ‘দেখেন ভাই, বোতলে লেখা ৮৫২; কিনলাম ৮৮০ টাকায়। এই পাঁচ লিটারে যে আমার ২৮ টাকা বেশি দিতে হইল, তাইলে দ্যাশে পরিবর্তনটা হইছে কী?’ গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার থেকে বেশি দরে তেল কেনার পর বারুদকণ্ঠে কথাগুলো বলেছিলেন শাহরিয়ার আলম। আঙুলের ইশারায় তাঁর দেখিয়ে দেওয়া সেই দোকানে দাম যাচাইয়ে যায় সমকাল। দাম বেশি নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট দোকানি বলেন, ‘বোতলে লেখা দরেই ডিলার থেকে তেল কিনতে হইছে। সাড়ে আটশ টাকা পুঁজি খাটায়া ২৮ টাকা লাভ করতে না পারলে ব্যবসা করব কেমনে?’
ভোজ্যতেল নিয়ে এমন ক্ষোভের দহন এখন সবখানেই। ক্রেতারা যেমন ফুঁসছেন, ছোট ব্যবসায়ীরাও ত্যক্ত-বিরক্ত। গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মহাখালী, হাতিরপুলসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বোতলজাত সয়াবিন তেল পুরোপুরি উধাও। কয়েকটি দোকানে মিললেও গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। এ কারণে খোলা তেলের দামও আকাশ ছুঁয়েছে। প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল কেনাবেচা হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৮২ টাকায়। অথচ সরকারের নির্ধারিত দর ১৫৭ টাকা। সে হিসাবে প্রতি লিটারে ভোক্তাকে বাড়তি গুনতে হচ্ছে ২৩ থেকে ২৫ টাকা।

আমদানি সংকট দেখিয়ে কোম্পানিগুলো তেল সরবরাহ তলানিতে ঠেকিয়েছে। দৈনিক সাড়ে পাঁচ হাজার টন চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে আড়াই হাজার টন। এতে বাজারে এক ধরনের কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতি চলছে তাও দুই-তিন মাস। খোদ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়েরই দুটি সংস্থার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে কৃত্রিম সংকটের ইঙ্গিত। তবু তাদের যেন কিছুই করার নেই। শুধু বাজার পরিদর্শনে গিয়ে ছোট ব্যবসায়ীকে জরিমানা করে দায় সারছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, তদারকি আরও জোরদার করা হচ্ছে। অচিরেই সংকট কেটে যাবে।
ট্যারিফ কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশে প্রতি মাসে তেলের চাহিদা সর্বোচ্চ ১ লাখ ৭০ হাজার টন। যেখানে ১২ পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানের দৈনিক উৎপাদনক্ষমতা ২৫ হাজার ৫০০ টন। আমদানিও হচ্ছে পর্যাপ্ত। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, এত তেল যাচ্ছে কোথায়? ভোক্তাদের অভিযোগ, গণআন্দোলনের মাধ্যমে নতুন সরকার এলো। তবে বাজার ব্যবস্থাপনায় এক আনাও বদলায়নি। সিন্ডিকেট রয়ে গেছে আগের মতোই।
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীর অভিযোগের তীর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের দিকে। তারা বলছেন, সরকারি সংস্থা শুধু ছোট দোকানিকে জরিমানা করে দায় এড়াচ্ছে। অথচ কোনো মিলে গিয়ে তদারকি কিংবা জরিমানা করছে না। গত দু’দিনে ঢাকার ছোট ও মাঝারি পর্যায়ের অন্তত ২০ ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলেছে সমকাল। তারা বলেন, কোম্পানিগুলো তাদের জানিয়েছে, আগামী শনিবার থেকে অপরিশোধিত তেলের জাহাজ বন্দরে নোঙর করবে। পরিশোধনের পর বোতলজাত করে তা ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে সরবরাহ করা হবে।
তবে অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে চার দিনের মধ্যে বাজারজাত করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। হয়তো আমদানিকারকরা কৃত্রিম সংকট তৈরির জন্য বোতলজাত তেল মজুত করেছেন। রমজান সামনে রেখে তারা সংকট দেখিয়ে সরকারকে চাপে ফেলে দাম বাড়ানোর কৌশলে হাঁটছেন। গত জানুয়ারিতেই আমদানিকারকরা ট্যারিফ কমিশনে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রমজানে দাম বাড়বে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। এর পর থেকেই ভোজ্যতেল নিয়ে ভেলকি শুরু করে তারা।
প্রেষণে আসা ফ্যাসিস্ট সরকারের অর্ধশত কর্মকর্তা বহাল
পুরোনো পথে হাঁটছে দুদক
যুগান্তর পত্রিকার প্রধান সংবাদে বলা হয়েছে, পুরোনো পথেই হাঁটছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এখনো সংস্থাটিতে একের পর এক প্রেষণে নিয়োগ পাচ্ছেন বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তারা। বিস্ময়কর তথ্য হচ্ছে-আলোচিত একটি দুর্নীতির মামলায় আসামি হয়েও উপসচিব পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা পরিচালক পদে নিয়োগ বাগিয়ে নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা থেকে প্রেষণে আসা অন্তত অর্ধশত কর্মকর্তা এখনো বহাল তবিয়তে আছেন। একাধিক সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ-ক্ষমতাচ্যুত হাসিনার আমলে প্রেষণে আসা কর্মকর্তাদের বহাল এবং একটি ক্যাডার থেকে এভাবে নিয়োগ দেওয়া হলে সংস্থাটি ক্রমেই দুর্বল হবে। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা-জবাবদিহি নিশ্চিত করা যেমন কঠিন হবে, তেমনই সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত সুপারিশও বাস্তবায়ন করা যাবে না।
জানা যায়, দুদকের বিধিতে বলা আছে, প্রেষণে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনধিক ৩ বছর থাকতে পারবেন। ৩ বছরের অধিক হলে তারা নিজ সংস্থায় ফেরত যেতে বাধ্য। অথচ অনেক কর্মকর্তা প্রেষণে যোগদানের পর পদোন্নতি পান। আবার বছরের পর বছর দুদকের শীর্ষ পদগুলোয় বহালও থাকেন। এমনকি তাদের কেউ কেউ আট বছর ধরে দুদকে কর্মরত আছেন-এমন নজিরও আছে, যা দুদক কর্মচারী চাকরি বিধিমালা ২০০৮-এর বিধি নং ০৮(২) (ক)-এর সম্পূর্ণ লঙ্ঘন।

জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, ‘দুদক সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের আগে এ ধরনের নিয়োগ সম্পূর্ণভাবে স্থগিত রাখা উচিত। সুপারিশ বাস্তবায়নের আগে এ ধরনের প্রেষণে প্রেরণ করা শুরু হলে তা দুদকের জন্য বিব্রতকর হবে। তাহলে ধরে নিতে হবে অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে এমন কিছু মহল আছে, যারা চাচ্ছে সংস্কারের আগে দুদককে আরও অকার্যকর করে ফেলা, যাতে পরবর্তীকালে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা না যায়।
এটিকে ষড়যন্ত্রমূলক পদক্ষেপ হিসাবে বিবেচনা করতে হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট কোনো দুর্নীতি মামলার আসামিকে মন্ত্রণালয় থেকে প্রেষণে পাঠাতে চাইলেও কমিশনের উচিত হবে তাকে প্রত্যাখ্যান করা। সে ক্ষমতাও কমিশনের আছে।’

