Logo

নির্বাচিত

বাংলাদেশের পত্রিকা থেকে

কারচুপির নীলনকশার মাস্টারমাইন্ড যারা

Icon

বাংলাদেশের খবর

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৮:৫৩

অ
কারচুপির নীলনকশার মাস্টারমাইন্ড যারা

ছবি : বাংলাদেশের খবর

বাজার নিয়ন্ত্রণে সতর্ক সরকার
বাংলাদেশের খবরে লিড করা হয়েছে, আগে থেকে সরকার নানা পদক্ষেপ নেওয়ার পরও রমজানে নিত্যপণ্যের দর নিয়ে সক্রিয় বাজার সিন্ডিকেট। প্রতি বছরের মতো এ বছরও রমজান মাস আসার আগেই বাজারে বইছে কিছুটা অস্থিরতার হাওয়া। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগামী মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে রমজান মাস শুরু হবে। ডলারের দাম ঠিক থাকলে রমজানে পণ্যের বাজার স্থিতিশীল থাকবে। এদিকে রমজানের নিত্যপণ্য আমদানিতে বড় ধরনের শুল্ক-কর অব্যাহতি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। 

এতে নিত্যপণ্যের আমদানি বেড়েছে, পর্যাপ্ত মজুতও রয়েছে। পাইপলাইনে রয়েছে বিপুল পরিমাণ পণ্য। তবু রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি নিয়ে কারসাজির শঙ্কা রয়েছে। ভোজ্যতেল নিয়ে ক্ষোভের দহন এখনো সবখানে। ক্রেতারা যেমন ফুঁসছেন, ছোট ব্যবসায়ীরাও ত্যক্ত-বিরক্ত। সরকারের বিশেষ উদ্যোগে গত বছরের চেয়ে বেশি আমদানি হলেও খুচরা বাজারে নেই বোতলজাত সয়াবিন। যাও কিছু পাওয়া যাচ্ছে তাও খুচরায় লিটারে ১০-২০ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে ভোজ্যতেল সরবরাহকারীদের সংগঠন, বাংলাদেশ ভেজিটেবল ওয়েল রিফাইনার্স ও বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অল্প সময়ের মধ্যে বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট কেটে যাবে।

অন্যদিকে খেজুরের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে এবার। গণ-অভ্যুত্থানে সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ 'খেজুর মাফিয়া' সিন্ডিকেট ভেঙে পড়ায় আমদানিতে উৎসাহ ফিরে পেয়েছেন ছোট আমদানিকারকরা। এতে কিছুটা কমেছে খেজুরের দামও। যদিও এবার বাজার নিয়ন্ত্রণেও রয়েছে সরকারের কঠোর নজরদারি।

হাসিনার আনুগত্যের পুরস্কার ঝিলমিলেও
প্রথম আলো লিড করেছে, ঢাকার পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের মতো কেরানীগঞ্জে রাজউকের ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পেও ‘অনুগত ও তোষামোদকারীদের’ মূল্যবান প্লট দিয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার। সরকারি চাকরি, জনসেবা ও সমজাতীয় খাতে জাতীয়ভাবে ‘অসামান্য অবদানের’ নামে ঝিলমিলে দেওয়া প্লট সংখ্যা অন্তত ২০৬।

অসামান্য অবদানের নামে প্লট পাওয়া ব্যক্তিদের একজন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এম আবদুস সোবহান। ২০১৩ সালে তাঁকে ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পে সংরক্ষিত কোটায় তিন কাঠার একটি প্লট দেওয়া হয়। তিনি প্রথম মেয়াদে ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় মেয়াদে ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন।

অধ্যাপক সোবহান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য থাকাকালে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ২০২১ সালে নিজের মেয়াদের শেষ কার্যদিবসে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিভিন্ন পদে অবৈধ ও বিধিবহির্ভূতভাবে ১৩৭ জনকে নিয়োগ দেন। এ নিয়ে তখন ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। পরে ওই নিয়োগকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

আবদুস সোবহানের মতো প্লট পেয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ‘অনুগত ও ঘনিষ্ঠ’ অনেকে। শেখ হাসিনা সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে ঝিলমিল প্রকল্পে সংরক্ষিত কোটায় ২০৬টির বাইরে আর কাউকে প্লট দেওয়া হয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।

অসামান্য অবদানের নামে ঝিলমিলে প্লট পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন আওয়ামী লীগ ও তার জোটভুক্ত দলের সাবেক সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ, বিচারপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিল্পী-সাহিত্যিক, আইনজীবী, সরকারি চাকরিজীবী, প্রবাসী, সাংবাদিক, গৃহিণী, সমাজসেবক ও ব্যবসায়ীরা। কেউ তিন কাঠা, কেউ পাঁচ কাঠা আয়তনের প্লট পেয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বেশির ভাগ প্লট দেওয়া হয়েছে আনুগত্য ও তোষামোদির উপহার হিসেবে। অল্প কিছু প্লট দেওয়া হয়েছে যোগ্য ব্যক্তিদের।

রাজউক চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ছিদ্দিকুর রহমান ১ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোকে বলেন, রাজউকের কাজ হচ্ছে ওপর থেকে যেসব নির্দেশ আসে, তা প্রতিপালন করা। বিগত সরকার যাঁদের প্লট দিতে বলেছে, রাজউক তাদের প্লট দিয়েছে। সেখানে ভুলত্রুটি থাকতে পারে। তদন্ত হতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্লটগুলো কাদের দেওয়া হয়েছে, তা পর্যালোচনার জন্য আদালত তিন সদস্যের একটি কমিটি করে দিয়েছেন। বিষয়টি কমিটি দেখছে।

আলোচনায় নাগরিক শক্তি
বাংলাদেশ প্রতিদিন লিড করেছে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের রাজনৈতিক দলের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। নতুন দল ঘোষণার প্রস্তুতি পর্বে গতকাল রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় নতুন দলের নাম নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়। ‘আপনার চোখে নতুন বাংলাদেশ’ শীর্ষক জনমত জরিপ কর্মসূচি থেকে পাওয়া ফরমের তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করেন তরুণ নেতারা। জানা যায়, দলের নাম প্রস্তাবনায় সাধারণ কি-ওয়ার্ডগুলোর মধ্যে বেশি এসেছে ‘গণতন্ত্র’, ‘নাগরিক’, ‘জাস্টিস’ ও ‘বৈষম্যবিরোধী’। অর্থাৎ বেশির ভাগ মানুষ চান নতুন দলের নামের মধ্যে এ ধরনের শব্দ থাকুক। একটি সূত্র জানায়, জনগণের আকাক্সক্ষাকে বিবেচনায় রেখে ‘জাতীয় নাগরিক শক্তি’ নামেই আত্মপ্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে নতুন রাজনৈতিক দলের। 

সূত্রটি আরও জানায়, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব  দিয়ে যে কয়জন তরুণ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন তারাই থাকছেন নতুন এই রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের অগ্রভাগে। দলের প্রধান চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদ নিয়ে এখন ব্যাপক আলোচনা চলছে। এর মধ্যে আহ্বায়ক হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব হিসেবে জাতীয় নাগরিক কমিটির বর্তমান সদস্য সচিব আখতার হোসেনকে চাইছেন বেশির ভাগ নেতা-কর্মী।

শুরুতে ছাত্র ঐক্যে ফাটল
যুগান্তর লিড করেছে, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাড়ছে উত্তেজনা। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে দায়ী করে প্রকাশ্যে বক্তব্যও দিচ্ছে। হামলার জন্য ছাত্রদলকে দোষারোপ করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। বিপরীতে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের সংগঠনের সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ছাত্রদের একাংশ বাধা দিলে এমন ঘটনার সূত্রপাত হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ক্যাম্পাসগুলোয় প্রাধান্য বিস্তারের চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করা হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে ফ্যাসিস্টবিরোধী এসব ছাত্রশক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে জীবনবাজি রেখে লড়াই করেছে। অনেককে জীবন দিতে হয়েছে। দেড় হাজারের বেশি ছাত্র-জনতা শহিদ হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন কমবেশি ৩০ হাজার। অথচ ফ্যাসিস্টবিরোধী শক্তির অন্যতম নিয়ামক হিসাবে খ্যাতি পাওয়া এসব ছাত্র সংগঠনের শক্তিগুলো এখন ভবিষ্যৎ ছাত্র রাজনীতির কর্তৃত্ব ধরে রাখাসহ বহুমুখী স্বার্থ ও রাজনীতির নানা হিসবনিকাশের মধ্যে নিজেরাই নিজেদের প্রতিপক্ষ বানাচ্ছে। তারা মনে করেন, এটি পুরো জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক শুধু নয়, এর মধ্য দিয়ে সর্বনাশের পদধ্বনিও শোনা যাচ্ছে।

এটি একধরনের অশনিসংকেতও বটে। এর পেছনে তৃতীয় পক্ষের দূরবর্তী ইন্ধন থাকতে পারে। তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ফ্যাসিস্টবিরোধী সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। 

এখনো ক্ষমতাধর হাসিনা সরকারের আমলারা
আমার দেশ লিড করেছে, গত সাড়ে ১৫ বছরে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের অনিয়ম ও লুটপাটের সহযোগী হিসেবে দায়িত্বপালনকারী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে ৩২ জন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, ‍বিভাগের সচিব এবং কয়েকটি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে সচিবের মর্যাদায় নিয়োজিত আছেন।

জনপ্রশাসনের শীর্ষপদে থেকে পৃথক বলয় তৈরি করেছেন পতিত হাসিনা সরকারের এসব আমলা। উপদেষ্টা পরিষদের নির্দেশনা ও নীতি বাস্তবায়নে গতি না ফেরা এবং ক্ষেত্রবিশেষে বাস্তবায়ন না হওয়ার পেছনে এসব আমলার অসহযোগিতাকে দায়ী করছেন জনপ্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সরকারের সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে আমার দেশ-এর। তাদের মতে, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে এখনো আগের সরকারের সুবিধাভোগীরা রয়েছেন। ফলে প্রশাসনকে গতিশীল করা সরকারের জন্য এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের সরানোর পর দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে নেওয়ার মতো দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তার সংকট রয়েছে। এ সুযোগে ভুয়া ভোট, রাতের ভোট ও ডামি ভোটের কারিগর ডিসি ও এসপিদের অনেকেই এখনো প্রশাসনের নীতিনির্ধারণী পদে রয়ে গেছেন।

প্রশাসনকে গতিশীল করা ও বিগত সরকারের সুবিধাভোগী এবং তিনটি ভুয়া ভোটের কারিগরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি কাজ করলেও আশানুরূপ ফল পায়নি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, চাকরিবিধি ভেঙে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আদায়ের নামে যেভাবে সভা-সমাবেশ করা হচ্ছে, তাতে সেবা ব্যাহত হচ্ছে। হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের সুবিধাভোগীরাই এখন দাবি-দাওয়া নিয়ে মাঠে বেশি সোচ্চার।

প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে শৃঙ্খলা ও গতি ফিরে না আসায় মাঠপ্রশাসনেও বিরাজ করছে স্থবিরতা। জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে মাঠপ্রশাসনের কর্মকর্তারা নিজেদের ‘মহারাজা’ ভাবছেন। ভূমি ও স্থানীয় সরকার খাতে সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি নাজেহাল হচ্ছেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। জুলাই বিপ্লবের অন্যতম স্লোগান জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তোলা এবং ঘুস, দুর্নীতি ও অনিয়মের মূলোৎপাটন হলেও প্রশাসনে এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র আলোচনা নেই।

গণহত্যায় নেই আ’লীগের এমন নেতা পাবেন ক্ষমা!
সমকাল লিড করেছে, জুলাই গণহত্যা, গুম, খুনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত নন, এমন আওয়ামী লীগ নেতারা ক্ষমা চাইলে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পেতে পারেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীর প্রস্তাবে এ রকম চিন্তাভাবনাই করছে অন্তর্বর্তী সরকার।

শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটানো গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতারাও অপরাধী নন, এমন নেতাকে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দিতে ‘রিডিম এবং রিকনসিলিয়েশন’-এ রাজি। তবে আপত্তি রয়েছে বিএনপির তরফ থেকে। দলটি ছাত্রনেতাদের এ চাওয়াকে নতুন দল গঠনের সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছে। জামায়াতের ভাষ্য, আগে দায়ীদের চিহ্নিত ও বিচার করা হোক; তারপর ক্ষমার চিন্তা হতে পারে। 

একাধিক রাজনৈতিক সূত্র সমকালকে জানিয়েছে, ক্ষমার সুযোগ দিয়ে আওয়ামী লীগকে স্থায়ীভাবে বিভক্ত করার চেষ্টা রয়েছে। যারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে থাকবে, তারা হবে একটি দল। যারা ১৫ বছরের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইবে, তারা হবে আরেকটি দল। ক্ষমা চাওয়া অংশকে রাজনীতিতে বাধা দেওয়া হবে না। তাদের আওয়ামী লীগের মূলধারা হিসেবে স্বীকার করে নেওয়া হবে। এই অংশের নির্বাচনে অংশ নিতেও বাধা থাকবে না। বিভক্ত আওয়ামী লীগ অন্যদের জন্য যেমন হুমকি হতে পারবে না, তেমনি রাজনীতিতেও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ পাবে না। 

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকালে মানবাধিকারবিরোধী অপরাধের তদন্ত প্রক্রিয়ায় যুক্ত একটি সূত্র সমকালকে নিশ্চিত করেছে, আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা দোষ স্বীকার করে নিষ্কৃতি পেতে চান। তারা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সাক্ষী হতে রাজি। বিদেশ পালিয়ে যাওয়া কয়েকজন নেতা ক্ষমা প্রার্থনার বিনিময়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ পেলে দেশে ফিরতে চান। 

কারচুপির নীলনকশার মাস্টারমাইন্ড যারা
মানবজমিন লিড করেছে, পৃথিবীর ইতিহাসে কলঙ্কিত এক ভোট। নজিরবিহীন এক নির্বাচন। নীশিরাতের ভোট হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে দেশ-বিদেশে। ২০১৮ সালে হওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এমন চিত্র দেখে হতবাক সবাই। মধ্যরাতে অর্ধেক ভোট শেষ। তারপরও দিনের বেলায় ব্যালট বাক্স ছিনতাই, কেন্দ্রে ভোটারদের ওপর হামলা, শত শত জালভোট, প্রার্থীদের তুলে নেয়া, ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা  দেয়া, প্রকাশ্যে ব্যালটে শত শত সিল মারা, হত্যা, মারধর, জবরদখল এমন কিছু নেই- যা এ নির্বাচনে ঘটেনি। এ নির্বাচনে স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি কথায় বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। শেখ হাসিনা বলেছিলেন-আমি বঙ্গবন্ধুর কন্যা। একবার আমাকে বিশ্বাস করে দেখুন। নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে কেমন সুন্দর হয় তা দেখতে পাবেন। বিরোধী দলগুলো তার কথা বিশ্বাস করেছিলেন। আর সেই বিশ্বাসের ফল পেয়েছিলেন শূন্য হাতে। নির্বাচনের পরদিন শেখ হাসিনা বুক ফুলিয়ে বলেছিলেন দেশবাসী আওয়ামী লীগের ওপর বিশ্বাস রেখেছে। 

কিন্তু সর্বত্র নানা প্রশ্ন তখন ঘুরে বেরিয়েছে। এমন অকল্পনীয় নির্বাচনের মাস্টারমাইন্ড কারা? কারাই বা এমন নীলনকশা এঁকেছিলেন? কোন ক্ষমতার বলে আওয়ামী লীগ এমন একটি একতরফা ভোট করতে পেরেছে। এই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে কারা নেতৃত্ব দিয়েছিল? অনুসন্ধানে এর বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। কারা ওই ভোট কারচুপিতে জড়িত ছিলেন এবং পরিকল্পনা করেছেন তাদের সকলের নাম-পদবিসহ এখন বেরিয়ে এসেছে। ওই নির্বাচনে সকল দলকে ডেকে এনে আগের রাতে শতাধিক আসনের ভোট কেটে নিয়ে যায় আওয়ামী লীগ। সকাল হওয়ার আগেই দলটির বিজয় নিশ্চিত হয়ে যায়। সূত্র বলছে, ৩০শে ডিসেম্বর ভোট কারচুপির পরিকল্পনা সাজিয়েছেন রাষ্ট্রীয় দু’টি গোয়েন্দা সংস্থার কর্তাব্যক্তিরা। এই প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনেও এই তথ্য উঠে এসেছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী মাস্টারপ্ল্যানে ক্রীড়নকের ভূমিকা পালন করেন দু’টি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা। আর মাঠ পর্যায়ে তা বাস্তবায়ন করেন সংস্থা দু’টির বিভাগ, মহানগর ও জেলা পর্যায়ে কর্মরত পরিচালক, যুগ্ম পরিচালক, উপ-পরিচালক ও সহকারী পরিচালকরা। এতে বিপুল পরিমাণ টাকা লগ্নি করে আওয়ামী লীগ সরকার। নির্বাচনী মাঠে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হয় সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারীদের পেছনে। সেই সময় অনেকে ব্রিফকেসভর্তি টাকা পেয়েছে- এমন তথ্যও উঠে এসেছে। মূলত কৌশলে রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনে ডেকে এনে ধোঁকা দেয়া হয়। যা পুরোটাই ছিল পূর্বপরিকল্পিত। 

সরকারের বিদেশী ঋণ পরিশোধ খরচ বছরে ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে
বণিক বার্তা লিড করেছে, সরকার ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট ৬০৭ কোটি ৮০ লাখ ডলারের বিদেশী ঋণ পরিশোধ করেছে (সুদ ও আসল মিলিয়ে)। এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরে পরিশোধ করা হয়েছিল ৪৭৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

সে অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে সরকারের বিদেশী ঋণ পরিশোধ বাবদ ব্যয় বেড়েছে ২৭ শতাংশের বেশি। আর ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে সরকারের মোট বিদেশী ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৮ দশমিক ১৮ বিলিয়ন (৭ হাজার ৮১৮ কোটি) ডলারে।

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস (জুলাই-ডিসেম্বর) শেষে এ বিদেশী ঋণের পরিমাণ ৮০ বিলিয়ন (৮ হাজার কোটি) ডলার ছাড়িয়ে গেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকার নতুন বিদেশী ঋণের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে ২০০ কোটি ডলারের বেশি। এ সময় বাংলাদেশের অনুকূলে ঋণের অর্থ ছাড় হয়েছে ৩ দশমিক ২৬ বিলিয়ন (৩২৬ কোটি) ডলারের কিছু বেশি। এ ছয় মাসে সরকার ঋণ পরিশোধ করেছে প্রায় ১৯৮ কোটি ১৮ লাখ ডলার। এর মধ্যে আসল পরিশোধ হয়েছে ১২৩ কোটি ৪২ লাখ ডলারের বেশি। বাকি প্রায় ৭৫ কোটি ডলার পরিশোধ হয়েছে সুদ বাবদ।

কুয়েটে রাজনীতি নিষিদ্ধ শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত
কালের কণ্ঠ লিড করেছে, ছাত্ররাজনীতিমুক্ত খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) গতকাল বুধবার আগের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে। সেখানে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ। এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্তসহ আরো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেসব শিক্ষার্থী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, তাঁদের আজীবন বহিষ্কার ও ছাত্রত্ব বাতিলেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ ছাড়া ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কুয়েটের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে শিক্ষার্থীদের হলত্যাগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেটে হয়নি।

এদিকে হামলার ঘটনায় গত রাতে ৪০০ থেকে ৫০০ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের খানজাহান আলী থানায় মামলাটি করা হয়।

তবে নিরাপত্তার স্বার্থে বাদীর নাম প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।রাত সোয়া ১০টায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় খানজাহান আলী থানার ওসি একটি অনুষ্ঠানে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কুয়েটের জনসংযোগ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শাহেদুজ্জামান শেখ এটি নিশ্চিত করেছেন। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় কুয়েটের ৯৮তম জরুরি সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই মামলা করা হয়।

গত মঙ্গলবারের ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম এ হাসেমকে সভাপতি এবং ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সহকারী পরিচালক শাহ মুহাম্মদ আজমত উল্লাহকে সদস্যসচিব করে গঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ ও অধ্যাপক ড. আবু জাকির মোর্শেদ। তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

গতকাল সকাল ১১টা থেকে অনলাইনে এই সিন্ডিকেট সভা শুরু হয়। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি এই সভা হওয়ার কথা ছিল।

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন