Logo

খেলা

বিশ্বকাপকে ঘিরে টরন্টো এখন ফুটবলের শহর

Icon

কানাডা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৬

বিশ্বকাপকে ঘিরে টরন্টো এখন ফুটবলের শহর

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কানাডার অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্র টরন্টো এখন রীতিমতো ফুটবলমুখর। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে টরন্টো নিজেকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজক শহর হিসেবে তুলে ধরতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ফিফার তথ্য অনুযায়ী, টরন্টোর বিখ্যাত বিএমও ফিল্ড স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে মোট ছয়টি ম্যাচ। এর মধ্যে চারটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ, একটি রাউন্ড অব ১৬ এবং একটি কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ রয়েছে। ৪৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষম এই স্টেডিয়ামকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে নানা প্রস্তুতি ও আয়োজন।

সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী, ১৪, ১৮, ২২ ও ২৬ জুন অনুষ্ঠিত হবে গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচ। ৩০ জুন অনুষ্ঠিত হবে রাউন্ড অব ১৬ এবং ৫ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ। প্রতিটি ম্যাচেই স্টেডিয়ামের পূর্ণ ধারণক্ষমতা ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

আয়োজক কমিটির তথ্য অনুযায়ী, টিকিট বিক্রির প্রথম দিনেই বিক্রি হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টিকিট, যা প্রাথমিক পূর্বাভাসের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি। সবচেয়ে বেশি চাহিদা ছিল গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর টিকিটে। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকার জনপ্রিয় দলগুলোর ম্যাচের টিকিট কয়েক মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়।

শহর কর্তৃপক্ষের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিশ্বকাপ চলাকালে প্রায় পাঁচ লাখ আন্তর্জাতিক দর্শক টরন্টো ভ্রমণ করবেন। এর ফলে হোটেল, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন ও বিনোদন খাতে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অতিরিক্ত অর্থনৈতিক প্রবাহ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যেই শহরের হোটেলগুলোতে বুকিংয়ের চাপ বেড়েছে। জুন ও জুলাই মাসের জন্য অনেক হোটেল সম্পূর্ণ সোল্ড আউট হয়ে গেছে। বাড়তি যাত্রীচাপ সামাল দিতে টরন্টো ট্রান্সপোর্ট বিভাগ অতিরিক্ত সাবওয়ে ট্রেন, বিশেষ বাস ও শাটল সার্ভিস চালুর ঘোষণা দিয়েছে। ম্যাচের দিনগুলোতে স্টেডিয়ামসংলগ্ন এলাকায় থাকবে বাড়তি নিরাপত্তা, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং দর্শকবান্ধব তথ্যকেন্দ্র।

ফিফা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্বচ্ছ লটারি পদ্ধতির মাধ্যমে টিকিট বিক্রি করা হয়েছে, যাতে সব দর্শক সমান সুযোগ পান।

কানাডা সরকারও নিশ্চিত করেছে, টরন্টোতে আয়োজিত ছয়টি ম্যাচের মধ্যে একটি ম্যাচ হবে কানাডা জাতীয় ফুটবল দলের উদ্বোধনী ম্যাচ। শিল্প, খাবার ও বিনোদনের শহর হিসেবে পরিচিত টরন্টো বিশ্বকাপ উপলক্ষে নিজেকে নতুনভাবে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে চায়।

টরন্টোর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব নীল উৎপল গণমাধ্যমকে বলেন, টরন্টো ও ভ্যাঙ্কুভারে একাধিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ায় পুরো কানাডাজুড়ে আন্তর্জাতিক পর্যটকের ঢল নামবে। এতে বিলিয়ন ডলার রাজস্ব সৃষ্টি হবে এবং হাজার হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

স্থানীয় এক ফুটবলপ্রেমী বলেন, আমরা শুধু ম্যাচ দেখতে চাই না, আমরা চাই টরন্টো হোক উত্তর আমেরিকার ফুটবলের রাজধানী।

লায়লা নুসরাত/এমএইচএস

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

কানাডা ফুটবল বিশ্বকাপ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর