আট বছর পর প্রথমবারের মতো লিগ কাপের ফাইনালে উঠল আর্সেনাল। মঙ্গলবার সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে কেই হাভার্টজের একমাত্র গোলে চেলসিকে ১-০ ব্যবধানে হারায় তারা। প্রথম লেগে এগিয়ে থেকেই ম্যাচে নেমেছিল মিকেল আর্তেতার দল। বদলী বেঞ্চ থেকে নেমে এমিরেটস স্টেডিয়ামে শেষ মুহূর্তে গোল করে দুই লেগ মিলিয়ে গানার্সদেও ৪-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন হাভার্টজ।
এর আগে তারা টানা চারটি সেমিফাইনালে হারের পর এই জয়টি ছিল গানার্সদের জন্য স্বস্তির। ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও লিগ কাপ, ২০২২ লিগ কাপ এবং ২০২১ ইউরোপা লিগের সেমিফাইনালের বাঁধা পেরুতে পারেনি আর্সেনাল।
ছয় বছর পর আগামী ২২ মার্চ ওয়েম্বলিতে প্রথম কোনো ফাইনালে আর্সেনাল মুখোমুখি হবে ম্যানচেস্টার সিটি অথবা নিউক্যাসলের। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় লেগের আগে নিউক্যাসলের বিপক্ষে সিটি ২-০ গোলে এগিয়ে রয়েছে।
১৯৯৩ সালের পর আর্সেনাল আর লিগ কাপ জিততে পারেনি এবং শেষ তিনটি ফাইনালেই তারা হেরেছে। এবার তাদের সামনে সেই খরা কাটানোর সুযোগ, একই সঙ্গে ২০২০ সালের এফএ কাপের পর ক্লাবের প্রথম শিরোপা জয়ের সম্ভাবনাও রয়েছে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সেটিই এখনো আর্তেতার একমাত্র ট্রফি।
আর্তেতা বলেন, ‘আমরা জানতাম এটা কঠিন লড়াই হবে। ম্যাচটা কেমন হবে, সেটা বোঝার মানসিক দৃঢ়তা ও স্পষ্টতা আমাদের ছিল। স্টেডিয়ামের ভেতরে বিশেষ এক পরিবেশ ছিল। এটা বিশাল পার্থক্য গড়ে দেয়। কয়েক বছর ধরে আমরা এই অবস্থানে আসার অপেক্ষায় ছিলাম, এখন নিশ্চয়ই মুহুর্তটা উপভোগ করব।’
আর্সেনালের জন্য এটি স্মরণীয় একটি মৌসুম হয়ে উঠছে। তারা প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে ছয় পয়েন্টে এগিয়ে এবং চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বে আট ম্যাচেই জিতে শেষ ষোলোতে উঠেছে।
সাফল্যের মাঝেও কর্নার ও সেট-পিস থেকে গোলের ওপর নির্ভরশীলতার জন্য সমালোচনা শুনতে হয়েছে আর্সেনালকে। এ সপ্তাহে আর্তেতা জোরালোভাবে দলের খেলার ধরনের পক্ষে বলেন, তার কাছে অনেক মানুষের বিশাল একটি তালিকা আছে যারা মনে করেন আর্সেনালই ইউরোপের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দল।
পেশির সমস্যায় অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের অনুপস্থিতি এবং শনিবার লিডসে ম্যাচ-পূর্ব ওয়ার্ম-আপে ইনজুরিতে পড়া বুকায়ো সাকার না থাকা সত্ত্বেও আর্সেনাল সেরা ছন্দে না থেকেও জয় ছিনিয়ে নেয়।
চেলসি প্রথমার্ধে খুঁড়িয়ে খেলা আর্সেনালকে কিছুটা আটকে দেয়। এরপরও গানার্সরাই আক্রমণের দিক থেকে এগিয়ে ছিল। বক্সের ঠিক ভেতর থেকে পিয়েরো হিনকাপিয়ের বাঁকানো শট রবার্ট সানচেজ ঠেকান।
৪৩ মিনিটে চেলসি প্রথম অন-টার্গেট শট নেয়। দূরপাল্লা থেকে এনজো ফার্নান্দেজের শট কেপা আরিজাবালাগা রুখে দেন।
গোলের খোঁজে এক ঘণ্টা পর চেলসি বস রোজেনিয়র কোল পালমার ও এস্তেভাও উইলিয়ানকে নামান, তিন ডিফেন্ডারের ব্যবস্থা ভেঙে দেন। এস্তেভাও সঙ্গে সঙ্গেই ফার্নান্দেজকে সুযোগ করে দেন, কিন্তু তার বাঁকানো শট বাইরে দিয়ে যায়।
যোগ করা সময়ের শেষ সেকেন্ডে হাভার্টজ কাউন্টার অ্যাটাক থেকে সানচেজকে পাশ কাটিয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠান।
এসএসকে/

