সাকিব ‘পুরোপুরি ফিট’ হয়েই ফিরবেন: জাতীয় দলের ট্রেইনার
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:০৫
সাকিব আল হাসান
প্রায় দেড় বছর ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। দীর্ঘ এই সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আমেজ থেকে দূরে থাকলেও তার ফিটনেস নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন জাতীয় দলের ট্রেইনার ইফতিখার ইফতি। তার বিশ্বাস, যখনই সাকিব জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ পাবেন, তাকে চেনা ছন্দেই দেখা যাবে।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাকিবের
জাতীয় দলে খেলা নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ
ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাকে আবারও লাল-সবুজ জার্সিতে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
দীর্ঘদিন দলের বাইরে থাকায় তার শারীরিক সক্ষমতা বা ম্যাচ ফিটনেস কতটুকু আছে, তা নিয়ে
ক্রিকেট পাড়ায় জোর আলোচনা চলছে।
বুধবার মিরপুর শেরে-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট
স্টেডিয়ামে জাতীয় দলের কন্ডিশনিং ক্যাম্প চলাকালে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন ট্রেইনার
ইফতিখার ইফতি। সাকিবের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, “সাকিব একজন ইন্টারন্যাশনাল স্টার। সে দেশের
বাইরে থাকলেও নিজের ফিটনেস মেইনটেইন করতে জানে। আমি দেখছি যে সেখানে তার ব্যক্তিগত
ফিটনেস ট্রেইনার, ফিজিও এবং নিউট্রিশনিস্ট রয়েছে। আমরা এখানে তাকে যতটা মনিটর করতে
পারতাম, সে সেখানে নিজের উদ্যোগে তার চেয়েও বেশি মনিটরিংয়ের মধ্যে আছে।”
বিসিবির কাছে এই মুহূর্তে সাকিবের ফিটনেস
সংক্রান্ত কোনো আধুনিক ‘ডেটা’ বা পরিসংখ্যান নেই বলে স্বীকার করেছেন ইফতি। তবে সাকিবের নিয়মিত
শারীরিক কসরতের খবর রাখেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সাকিব প্রতিনিয়তই ট্রেইনারের সাথে অ্যাক্টিভিটি
চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের কাছে প্রপার ডেটা না থাকলেও আমার ধারণা—যেদিন সে আসবে, সেদিন
তাকে প্রপার ফিট অবস্থায় পাওয়া যাবে।”
সাকিব কবে নাগাদ সিলেকশনের জন্য পাওয়া
যাবে, তা নিয়ে বিসিবি এখনো চূড়ান্ত কোনো রূপরেখা ঘোষণা করেনি। বিষয়টিকে ‘ন্যাশনাল ইস্যু’ হিসেবে উল্লেখ করে ইফতি
জানান, “জাতীয় দল এমন
একটা জায়গা যেখানে প্লেয়াররা যখন আমাদের কাছে আসবে, তখন আমরা তাদের ট্রেন্ড আপ করব।
সে যখন দেশে আসবে এবং বোর্ড মনে করবে সে খেলার জন্য প্রস্তুত, তখন তাকে নিয়ে আমরা বিশেষ
পরিকল্পনা সাজাব।”
দেশের বর্তমান ক্রিকেটারদের ফিটনেস সচেতনতা
নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন এই ট্রেইনার। তার মতে, বর্তমানের খেলোয়াড়রা ডায়েট এবং
শরীরচর্চা নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি দায়বদ্ধ। তারা নিয়মিত ফিজিও এবং ট্রেইনারদের সাথে
যোগাযোগ রাখছেন, যা দেশের ক্রিকেটের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে
সাকিব আল হাসানকে আর জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা যায়নি। তবে অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডারের প্রত্যাবর্তনের
খবরে ভক্তদের মাঝে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

