এশীয় ফুটবল কনফেডারেশনের ওপর ক্ষুব্ধ জাপান ও অস্ট্রেলিয়া
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ২০:১২
সদ্য সমাপ্ত নারী এশিয়ান কাপের দুই ফাইনালিস্ট জাপান ও অস্ট্রেলিয়া পুরুষ ও নারী ফুটবলের প্রাইজমানিতে আকাশচুম্বী বৈষম্য দূর করার দাবি জানিয়েছে। টুর্নামেন্টের আয়োজক সংস্থা এশীয় ফুটবল কনফেডারেশনকে (এএফসি) সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে দল দুটি অভিযোগ করেছে যে, তাদের আগের আবেদনগুলো পাত্তাই দেয়নি কর্তৃপক্ষ। গত ২১ মার্চ সিডনিতে রেকর্ড ৭৪ হাজার দর্শকের সামনে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে জাপান। কিন্তু মাঠের সাফল্যের আড়ালে প্রাইজমানি নিয়ে বড় ধরণের অসন্তোষ দানা বেঁধেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের নারী এশিয়ান
কাপের মোট প্রাইজমানি ছিল মাত্র ১৮ লাখ ডলার, যা ২০২২ সালের সমান। অথচ পুরুষদের এশিয়ান
কাপে প্রাইজমানি দেওয়া হয় ১ কোটি ৪৮ লাখ ডলার। ফুটবলারদের বৈশ্বিক ইউনিয়ন ‘ফিফপ্রো’ জানিয়েছে, এই টুর্নামেন্ট থেকে
৮ কোটি ২৪ লাখ ডলার পর্যন্ত আয় হওয়া সম্ভব ছিল। তিন সপ্তাহে রেকর্ড ৩ লাখ ৫০ হাজার
দর্শক গ্যালারিতে বসে খেলা দেখেছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে জাপান
ও অস্ট্রেলিয়া দল বলেছে, “সাফল্য সত্ত্বেও এটি বিশ্বের সবচেয়ে কম পারিশ্রমিকের মহাদেশীয় টুর্নামেন্ট।
আমরা এএফসি-কে একসাথে কাজ করার প্রস্তাব দিলেও তারা তা উপেক্ষা করেছে। সমান প্রাইজমানি
কেবল খেলোয়াড়দের জীবনই পরিবর্তন করবে না, বরং এশিয়ার ফুটবলের মানকেও উঁচুতে নিয়ে যাবে।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, টুর্নামেন্টটি অনেক
প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে হয়েছে। ইরানের সাতজন খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন।
নিজ দেশে জাতীয় সংগীত না গাওয়ায় তাদের ‘দেশদ্রোহী’ তকমা দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ভারতের
নারী দলের কিটের সঠিক মাপ না থাকা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার খেলোয়াড়দের বয়কটের হুমকির মতো
ঘটনাগুলোও এশিয়ায় নারী ফুটবলের অবহেলার চিত্র ফুটিয়ে তোলে।
শিরোপা জেতানোর মাত্র ১২ দিন পর জাপানের
নারী দলের কোচ নিলস নিলসেনকে বরখাস্ত করেছে জাপান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (জেএফএ)। গ্রিনল্যান্ডের
এই ৫৪ বছর বয়সী কোচ জাপানকে তাদের চতুর্থ আসরে তৃতীয় শিরোপা এনে দিলেও তার বিরুদ্ধে
‘কাজে শিথিলতা’
এবং ‘আবেগের অভাবের’
অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দায়িত্ব নেওয়া নিলসেন ছিলেন জাপানের নারী দলের
প্রথম বিদেশি কোচ। জেএফএ প্রেসিডেন্ট সুনেয়াসু মিয়ামোতো বলেন, “বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট জেতার কথা
মাথায় রেখে আমরা এই সিদ্ধান্তে এসেছি।”
জাপানের নারী দলের পরিচালক নোরিও সাসাকি
জানান, নিলসেনের কোচিং ছিল অতিরিক্ত নরম এবং তার মধ্যে জেতার তীব্র আকাঙ্ক্ষার অভাব
ছিল। ২০১১ সালের বিশ্বকাপজয়ী কোচ সাসাকির মতে, কঠোর প্রশিক্ষণ ছাড়া ২০২৭ সালে ব্রাজিলে
অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে ভালো করা সম্ভব নয়। এপ্রিলের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে প্রীতি
ম্যাচের জন্য মিচিহিসা কানোকে অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

