ভবিষ্যতের ‘শান্ত-হৃদয়’দের খোঁজে শুরু হচ্ছে স্কুল ক্রিকেট
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৩৬
দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যতের কাণ্ডারিদের খুঁজে বের করার মিশন নিয়ে আবারও মাঠে গড়াচ্ছে ‘প্রাইম ব্যাংক ন্যাশনাল স্কুল ক্রিকেট ২০২৫-২৬’। শুক্রবার থেকে দেশজুড়ে একযোগে শুরু হচ্ছে খুদে ক্রিকেটারদের এই মেগা টুর্নামেন্ট। ক্রিকেটারদের স্বপ্ন পূরণের প্রথম সিঁড়ি হিসেবে পরিচিত এই প্রতিযোগিতার এটি ১১তম আসর।
এবারের আসরে দেশের ৬৪ জেলার ৩৫০টি স্কুল
অংশগ্রহণ করছে। সাড়ে আট হাজারের বেশি খুদে ক্রিকেটারের পদচারণায় মুখরিত হবে দেশের বিভিন্ন
প্রান্তের খেলার মাঠগুলো। শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে টুর্নামেন্ট জুড়ে মোট ৬৫১টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত
হবে। বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের বিসিবি কনফারেন্স হলে
সংবাদ সম্মেলন ও জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই আসরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া
হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বর্তমান
জাতীয় দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এবং টপ অর্ডার ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়। দুজনেই
এই স্কুল ক্রিকেটের আবিষ্কার। নিজেদের শুরুর দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত
হয়ে পড়েন তাঁরা। মাঠের লড়াইয়ে বৃষ্টির বাধা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হৃদয় বলেন, ‘‘আমি চাই টুর্নামেন্টটি বৃষ্টির মৌসুমের
আগেই শেষ করা হোক। টসে জিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার চেয়ে মাঠে খেলে জয়ী হওয়ার আনন্দই আলাদা।’’
হৃদয়ের এই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান
নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন জানান, রোজা ও স্কুলের পরীক্ষার সূচির কারণে টুর্নামেন্টটি
কিছুটা পিছিয়ে যায়। তবে ভবিষ্যতে বৃষ্টির বাগড়া এড়াতে এটি আরও এগিয়ে আনার পরিকল্পনা
করছে বিসিবি। এবারের আসরের সবচেয়ে বড় সুখবর হলো খুদে ক্রিকেটারদের শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ
বৃদ্ধি।
আগে টুর্নামেন্ট শেষে সেরা ১৫ জন ক্রিকেটারকে
বৃত্তি দেওয়া হলেও, এবার বিসিবির অনুরোধে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ২৫ জন করা হয়েছে। পাশাপাশি
বৃত্তির অর্থের পরিমাণও বছরে ৬০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
দীর্ঘ এক দশক ধরে এই টুর্নামেন্টের পৃষ্ঠপোষকতা
করে আসছে প্রাইম ব্যাংক পিএলসি। প্রতিষ্ঠানটির এএমডি নাজিম এ চৌধুরী বলেন, ‘‘স্কুল ক্রিকেট থেকে এক ডজন ক্রিকেটার জাতীয়
দলে খেলছে, এটি আমাদের জন্য গর্বের। তৃণমূলের এই লড়াইয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা আমাদের জন্য
শুধু স্পনসরশিপ নয়, একটি আবেগের জায়গা।’’
২০১৫ সাল থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ পথচলায়
স্কুল ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত ৩,৫০৭টি স্কুল অংশ নিয়েছে। মোট ৬,১৯৫টি ম্যাচে মাঠে নেমেছে
৭৬,২৩৫ জন স্কুল ক্রিকেটার, যা বাংলাদেশের যেকোনো স্তরের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ অংশগ্রহণের
এক অনন্য রেকর্ড। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই মঞ্চ থেকেই উঠে আসবে আগামীর সাকিব, তামিম
কিংবা শান্তদের মতো বিশ্বসেরা তারকারা।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

